কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনী এনকাউন্টারে নিহত ২ ইসলামিক জঙ্গি

কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনী  এনকাউন্টারে নিহত  ২ ইসলামিক জঙ্গি

উপত্যকায় বেড়েছে ইসলামিক জঙ্গিদের দাপট (Terrorist Activity)। এবার পাল্টা জবাব দিল নিরাপত্তা বাহিনী (Security Force)। সোমবার সকালেই জম্মু-কাশ্মীর(Jammu Kashmir)-র বান্দিপোরায় (Bandipora) জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়়াই শুরু হল নিরাপত্তা বাহিনীর। শেষ খবর পাওয়া অবধি এখনও অবধি এক ইসলামিক জঙ্গিকে নিকেশ করা হয়েছে। এখনও তল্লাশি অভিযান চলছে। একই সঙ্গে অনন্তনাগ(Anantnag)-এও গুলির লড়াই শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত জঙ্গির নাম ইমতিয়াজ় আহমাদ দার।

ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার শাখা সংগঠন প্রতিরোধ বাহিনীর সদস্য ছিল ইমতিয়াজ়, এমনটাই জানা গিয়েছে। বিগত সপ্তাহেই বান্দিপোরায় যে সাধারণ নাগরিককে হত্যার ঘটনা ঘটে, তার সঙ্গেও জড়িত ছিল এই ইসলামিক জঙ্গি, এমনটাই দাবি পুলিশের। গোপন সূত্রে খবর পেয়েই এ দিন সকালেই বান্দিপোরার হাজিন এলাকায় গুন্দজাহাঙ্গির এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালায় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী।

গুলির লড়াইয়ে লস্করের প্রতিরোধ বাহিনীর এক সদস্যকে নিকেশ করা হয়। বাকি ইসলামিক জঙ্গিদের খোঁজে এখনও তল্লাশি অভিযান চলছে। অন্যদিকে, এ দিন সকালেই অনন্তনাগ জেলাতেও এনকাউন্টার শুরু হয়েছে। এ দিন ভোরেই নিরাপত্তা বাহিনী অনন্তনাগের খাগুন্দ ভেরিনাগ অঞ্চলে পৌঁছতেই, তাদের উপর গুলি চালায় লুকিয়ে থাকা ইসলামিক জঙ্গিরা। এরপরই শুরু হয় এনকাউন্টার অভিযান।

গুলির লড়াইয়ে এখনও অবধি এক ইসলামিক জঙ্গিকে নিকেশ করা গিয়েছে। এদিকে, ইসলামিক জঙ্গিদের গুলিতে আহত হয়েছেন এক পুলিশকর্মী। তাঁকে চিকিত্‍সার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিগত এক সপ্তাহ ধরেই আতঙ্কে রয়েছেন উপত্যকাবাসী। ৫ দিনেই হত্যা করা হয়েছে ৭ জন সাধারণ নাগরিককে। এদের মধ্যে অধিকাংশই আবার হিন্দু বা শিখ। এক কাশ্মীরী পণ্ডিতকে দোকানে ঢুকে গুলি করে খুনের ঘটনার পরই উপত্যকা ছাড়তে শুরু করেছে একাধিক কাশ্মীরী পণ্ডিত পরিবার।

এ দিকে, চলতি মাসেই উপত্যকায় সফরে যাওয়ার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। তাঁর সফরের আগেই এই ধরনের একের পর এক ইসলামিক জঙ্গি হানায় উদ্বেগে কেন্দ্রও। এই ঘটনার জেরে গতকালই গোটা জম্মু-কাশ্মীর জুড়ে তল্লাশি অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭০০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন জামাত-ই-ইসলামির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বলে সন্দেহ করছেন নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা।

এর পাশাপাশি ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কারও রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। কাশ্মীর পুলিশের এক পদস্থ পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, "উপত্যকায় যে একের পর এক হত্যা, নাশকতা চলছে. তার শৃঙ্খল ভাঙার জন্য এদের আটক করা হয়েছে।" ওই আধিকারিক আরও জানিয়েছেন, তালিবান আফগানিস্তানে ক্ষমতায় আসার পর ইসলামিক কট্টরপন্থীরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে। সেই কারণেও এই হামলা হতে পারে এবং যারা খুন করছে, তার খুঁজে খুঁজে 'সহজ' নিশানা বেছে নিচ্ছে।