কাঁঠালঃ সর্ববৃহৎ সুস্বাদু, রসালো গ্ৰীষ্মকালীন ফল কাঁঠাল

কাঁঠালঃ সর্ববৃহৎ সুস্বাদু, রসালো গ্ৰীষ্মকালীন ফল কাঁঠাল

ঈশিকা রুদ্র:-    এখন আম কাঁঠালের মৌসুম। এসময়ে মেডিসিনমুক্ত কাঁঠাল খেতে পারলে শরীরের অতি প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহের সরবরাহ অনেকটা নিশ্চিত করা যায় ও শরীর সুস্থ থাকে। কাঁঠাল পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সুস্বাদু, রসালো গ্ৰীষ্মকালীন ফল। কাঁঠাল স্বাস্থ্যকর খাবার। পাকা ও কাঁচা, কাঁঠাল দুইভাবেই খাওয়া যায়।

অনেকেই কাঁঠালের এচোড় (কচি কাঁঠাল) ফ্রিজে জমিয়ে রেখে কয়েক মাস ধরে খেতে ভালোবাসেন। নানা ভাবে তরকারি হেসেবে খাওয়া হয় কাঁঠাল। কাঁচা কাঁঠাল স্বাদে আর গুণে কম যায় না। এক সময় বাঙালির পুষ্টির অভাব পূরণ করত এই কাঁঠাল। এখন ও বেশিরভাগ মানুষ পুষ্টির জন্য কাঁঠাল খেয়ে থাকেন। তবে এক শ্রেণীর মানুষ কাঁঠাল দেখলে নাক ছিটকে। তারা মনে করেন কাঁঠাল গরীবের খাদ্য। এই করোনা পরিস্থিতিতে যত পারেন কাঁঠাল খেয়ে নিন। এতে আপনার ই উপকার।

কাঁঠালের উপকারীতা সম্পর্কে জেনে নিন- কাঁঠালে থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, আয়রন, সোডিয়াম, জিঙ্ক এবং নায়াসিনসহ বিভিন্ন প্রকার পুষ্টি উপাদান রয়েছে। অন্যদিকে কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, শর্করা ও ভিটামিন থাকায় তা মানবদেহের জন্য বিশেষ উপকারী। কাঁঠালে আছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

 আমাদের দেহের সর্দি কাশির সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। কাঁঠালে চর্বির পরিমাণ কম তাই এই ফল খাওয়ার কারণে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা কম। কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে যা রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। কাঁঠালে আছে ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস যা আলসার, ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ এবং বার্ধক্য প্রতিরোধে সহায়তা করে। বদহজম রোধ করে এবং এই ফল আঁশালো হওয়ায় কোষ্ঠকাঠিন্য দুূর করে।

কাঁঠালে আছে ভিটামিন বি৬ যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। চিকিৎসা শাস্ত্রের মতে প্রতিদিন ২০০ তাজা পাকা কাঁঠাল খেলে গর্ভবতী মহিলা ও তার সন্তানের সব ধরনের পুষ্টির অভাব দূর হয়। ছয় মাসের পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি কাঁঠালের রস খাওয়ালে ক্ষুদা নিবারণ হয় এবং পুষ্টির অভাব হয় না। এছাড়াও টেনশন ও নার্ভাসনেস কমাতে কাঁঠাল বেশ উপকারী। রক্তাল্পতা কমাতে ও রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতেও কাঁঠাল খুবই উপকারী।যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাঁদের কাঁঠাল খাওয়ায় কিছুটা বিধিনিষেধ আছে। কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁদের রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি, তাদের কাঁঠাল না খাওয়াই ভালো।