জলপাইগুড়ি | প্রাকৃতিক সম্পদে ঘেরা জেলা শহর জলপাইগুড়ি

জলপাইগুড়ি | প্রাকৃতিক সম্পদে ঘেরা জেলা শহর  জলপাইগুড়ি

হিমালয়ের প্রান্ত ছুঁয়ে থাকা এই অঞ্চলটি এক সময় কোচবিহারের রাজার অধীনে ছিল। এরপর ডুয়ার্স এবং জলাপাইগুড়ি জেলার একটি বিশাল অংশ ভুটানের রাজা দখল করে নিয়েছিল। ফলে প্রাক্-ব্রিটিশ যুগে এই অঞ্চল ভুটানের অংশ হিসেবেই ছিল। ১৮৬৪-৬৫ খ্রিষ্টাব্দে ভুটানের সাথে ব্রিটিশদের যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে ভুটানিদের কাছ থেকে এই অঞ্চল অধিকার করে, তাদের শাসনাধীনে আনে। প্রাথমিক অবস্থায় ব্রিটিশরা এই অঞ্চলকে ভুটান-ডুয়ার্স নামে চিহ্নিত করেছিল।

১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ১লা জানুয়ারি রংপুর জেলার ৫টি থানা এবং ভুটানের কাছ থেকে অধিকার করা ডুয়ার্সের অংশবিশেষ যুক্ত করে জলপাইগুড়ি জেলা তৈরি করা হয়। এই সময় জলপাইগুড়ি জেলার দুটি অংশের নাম ছিল রেগুলেটেড এরিয়া (রংপুরের ৫টি জেলা) ও নন রেগুলেটেড এরিয়া (ভুটানের কাছ থেকে জয় করা ডুয়ার্সের অংশ)। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বে এই জেলার আয়তন ছিল ৩,০৫০ বর্গমাইল। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে পাক-ভারত বিভাজনের সময় এই জেলার ৫টি থানা তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের অধীনে চলে যায়। ফলে এই জেলার আয়তন কমে দাঁড়ায় ২,৩৭৮ বর্গমাইল। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ জুন জলপাইগুড়ি জেলাকে ভাগ করে দুটি জেলায় পরিণত করা হয়। নবগঠিত এই জেলা দুটি হলো–আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ভাগে অবস্থিত। জেলাটির পূর্বে পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলা,পশ্চিমে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলা, উত্তরে ভুটান এবং দক্ষিণে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলা এবং বাংলাদেশ-এর পঞ্চগড় জেলা অবস্থিত । পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জলপাইগুড়ি জেলার একটি শহর ও পৌরসভা এলাকা। এটি জলপাইগুড়ি জেলার সদর শহর। শহরটি তিস্তা ও করলা নদীর তীরে অবস্থিত৷জেলাটির আয়তন নিছক ছোট নয়৷ ভোটারের সংখ্যা ১৫ লক্ষ ৩১ হাজার ৪৭০৷  ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই প্রাচীন জেলার হেরিটেজ সম্পদ কম নেই৷ শহরটির অবস্থানের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ হল ২৬.৫২° উত্তর ৮৮.৭৩° পূর্ব।সমূদ্র সমতল হতে এর গড় উচ্চতা হল ৮৯ মিটার (২৯২ ফুট)।

শহরটি তিস্তা নদীর ধারে অবস্থিত। এছাড়া শহরের মধ্যে দিয়ে করলা নদী প্রবাহিত হয়েছে যাকে "জলপাইগুড়ির টেমস" নামেও অভিহিত করা হয়। ভারতের ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে জলপাইগুড়ি শহরের জনসংখ্যা হল ১,০৭,৩৪১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫৩,৭০৮ (৫০%) এবং নারী ৫৩,৬৩৩ (৫০%)। এখানে সাক্ষরতার হার ৮৬.৪৩%। সারা ভারতের সাক্ষরতার হার ৭৪.০৪%, তার চাইতে জলপাইগুড়ি এর সাক্ষরতার হার বেশি। এই শহরের জনসংখ্যার ১৪.৫২২% হল ৬ বছর বা তার কম বয়সী।ইতিহাস অনুযায়ী এই জেলার নাম জল্পেশ্বর থেকে এসেছে যেটা শিব ঠাকুরের আরেক নাম,কিন্তু কেউ কেউ বলে এই স্থানে আগে নাকি জলপাই এর গাছ প্রচুর মাত্রায় ছিল,যাহার জন্য এই জায়গার নাম জলপাইগুড়ি। পূর্বে এই স্থানটি কোচ-রাজবংশীদের এক ভাগ ছিল যাহার নাম ছিল কামতাপুর।১৮৬৯ সালে এই জেলাটির স্থাপন করা হয়। 

একদল ইতিহাসবিদ বলছেন, ১৮৯০ সালে জলপাইগুড়িতে রাজবাড়ি তৈরি হয়। আর জলপাইগুড়ির সিংহদুয়ার তৈরি হয় ১৯১১ সালে। ইংরেজদের রাজার অভিষেক ঘিরে তৈরি হয় সিংহদুয়ার। রাজা পঞ্চম জর্জের সময় দিল্লিতে তিনটি দরবার বসেছিল। আর সেই দরবার বসানোর সময় তৈরি জলপাইগুড়ির সিংহদুয়ার। কোচবিহারের মহারাজা দিল্লিতে ১৩টি তোপধ্বনি পেলেও জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুরের রাজার সেই গুরুত্ব ছিল না ইংরেজদের কাছে। এমনকি রাজাকে অস্ত্র রাখারও অনুমতি দেওয়া হয়নি। অথচ কোচবিহারের রাজা রাজন্য ভাতা পেতেন। জলপাইগুড়ির রাজা তাদের ধর্মীয় রীতি নীতি মেনে চলার জন্য রাজ বাড়ির পাশেই দীঘি তৈরি করেন। আজও সেই দীঘি রয়েছে। দিঘির পাশে মন্দির আছে। এসজেডিএ তা সুন্দর করার দিকে নজর দিয়েছে।

বিশিষ্ট গবেষক উমেশ শর্মা জানাচ্ছেন তাঁর মত - জলপাইগুড়ির বৈকুন্ঠপুর রাজ শুরু হয় ১৫২৩ সালে। রাজ পরিবারের বর্তমান বিল্ডিং তৈরি হয় ১৯১০-১৯১২ সালে। এই বিল্ডিং-এর আগে ১৮৪৮ সালে জে ডি হুকারের বর্ণনা অনুযায়ী রাজ পরিবারের বর্তমান বিল্ডিং-এর পশ্চিমে রাজ পরিবারের বাড়ি ছিল। সম্ভবত তার ছাদ ছিল টিনের। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বৈকুন্ঠপুরে মোট ৩১ জন রাজা রাজত্ব করেছেন। আর বর্তমান জলপাইগুড়ি রাজ বাড়িটি হল বৈকুণ্ঠপুরের তৃতীয় রাজধানী। প্রথম রাজধানী ছিল সন্ন্যাসী কাটা। দ্বিতীয় ধানি বোদাগঞ্জ। সুবর্ণপুর বলে বৈকুন্ঠপুরের কোনও রাজধানী ছিল বলে কখন শোনেননি উমেশবাবু। তাঁর মতে, ১৭১৫ সালে বর্তমান রাজবাড়ির স্থানে রাজধানী স্থানান্তরিত হয়। রাজবাড়ি ও দীঘির পাশে কালী মন্দির, মনসা মন্দির, শিব মন্দির আছে। নিরাপত্তা, তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন এবং কৃষকদের চাষবাসের সুবিধার জন্য রাজধানী বোদাগঞ্জ থেকে স্থানান্তরিত হয় এখানে। বর্তমান রাজবাড়ির একাংশ জরাজীর্ণ। সংস্কারের অভাবে তা নষ্ট হতে বসেছে। ১৮০০ সালে রাজবাড়ির পাশে দীঘি খোঁড়া হয়।

বিদ্যালয় অরবিন্দ মাধ্যমিক উচ্চতর বিদ্যালয় জলপাইগুড়ি জিলা স্কুল জলপাইগুড়ি রাষ্ট্রীয় বালিকা বিদ্যালয় ফণীন্দ্রদেব বিদ্যালয় সুনীতিবালা সদর বালিকা বিদ্যালয় জলপাইগুড়ি উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয় সোনাউল্লাহ উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয় সেন্ট্রাল বালিকা বিদ্যালয় দেবনগর সতীশ লাহিড়ী উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় মোহিতনগর কলোনী তারাপ্রসাদ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় রাণীনগর রবীন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয় বাহাদুর মুন্নাজ হ্যাপী হোম হাই স্কুল দেশবন্ধু নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়(উঃমাঃ)

মহাবিদ্যালয় আনন্দ চন্দ্র কলেজ প্রসন্নদেব মহিলা মহাবিদ্যালয় আনন্দ চন্দ্র কলেজ অফ্ কমার্স জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ গভর্নমেন্ট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট আনন্দ চন্দ্র শিক্ষক শিক্ষণ মহাবিদ্যালয়। 

দর্শনীয় স্থান গয়েরকাটা মধুবনী পার্ক বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়ি বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়ির সিংহদুয়ার বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়ির দিঘি ও সংলগ্ন মন্দিরদ্বয় যোগমায়া কালীবাড়ি দেবী চৌধুরাণীর কালীবাড়ি তিস্তা নদীর পাড়বাঁধ জল্পেশ মন্দির গোসাইহাট পার্ক মা ভ্রামরী দেবী মন্দির

নদনদী জলঢাকা নদী বেখারী নদী ডায়না নদী ঘাটিয়া নদী কুজি ডায়না নদী চুনপাতাং নদী কুর্তি নদী সুখানি নদী জুরান্তি নদী মিংলাম নদী কুমলাই নদী খুলনাল নদী লিস নদী ঘিস নদী চেল নদী দোদোমারি নদী করলা নদী করতোয়া নদী শাওঁ নদী জোড়াপানি নদী তিস্তা নদী মাল নদী জেতি নদী ধরলা নদী সুরসুতি নদী ফুলেশ্বরী নদী চাওয়াই নদী পাঙ্গা নদী[১] কুড়ুম নদী ডুডুয়া নদী মুজনাই নদী মানসাই নদী সুটুঙ্গা নদী ঘোড়ামারা নদী সুকৃতি নদী আঙরাভাসা নদী[২] গরাতি নদী ইংডং নদী[৩] গোলুন্দি নদী রাঙামাটি নদী ঝুমুর নদী[৪] সাহু নদী [৫] সুস্মিতা নদী ব্রাহ্মণী নদী বকরন্দি নদী বালান নদী গুলমা নদী ঝালং নদী হাতিনালা নদী

জলপাইগুড়ি :

প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯৪৭ সালে। জেলা সদর – জলপাইগুড়ি। মহকুমা – ★জলপাইগুড়ি, ★মালবাজার, ★আলিপুরদুয়ার। আয়তন – ৬,২২৭ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা – ৩,৮৬৯,৬৭৫।

জলপাইগুড়ি  লোকসভা     

জলপাইগুড়ি (এস.সি)

জলপাইগুড়ি বিধানসভা

ধূপগুড়ি, ময়নাগুড়ি, জলপাইগুড়ি, রাজগঞ্জ, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি, মাল, নাগরাকাটা

জলপাইগুড়ি ব্লক 

নাগরাকাটা, ধূপগুড়ি, মেখলিগঞ্জ, ময়নাগুড়ি, মাল, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি, জলপাইগুড়ি, রাজগঞ্জ

 প্রশাসনিক বিভাগ জেলাটির একটি মাত্র পৌরনিগমটি হল শিলিগুড়ি (আংশিক)৷ জেলাটির তিনটি পৌরসভা হলো যথাক্রমে - জলপাইগুড়ি মালবাজার ধুপগুড়ি ।

জনপদ     ডাবগ্রাম (রাজগঞ্জ) জুগুনি ডাঙ্গা (রাজগঞ্জ) বিন্নাগুড়ি (রাজগঞ্জ) চাকিয়াভিটা (রাজগঞ্জ) ওদলাবাড়ি (মাল) দক্ষিণ ওদলাবাড়ি (মাল) লাটাগুড়ি (মাল) মেটেলিহাট (মেটেলি) চালসা মহাবাড়ি (মেটেলি) মঙ্গলবাড়ি (মেটেলি) বানরহাট চা বাগান (ধুপগুড়ি) তেলিপাড়া চা বাগান (ধুপগুড়ি) গয়েরকাটা (ধুপগুড়ি) ময়নাগুড়ি (ময়নাগুড়ি) দক্ষিণ খাগড়াবাড়ি (ময়নাগুড়ি) খরিয়া (জলপাইগুড়ি)