স্বাস্থ্যবিধি মেনে সমস্ত রীতিনীতি মেনে মায়াপুর ইসকন মন্দিরে পালিত হচ্ছে জন্মাষ্টমী

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সমস্ত রীতিনীতি মেনে মায়াপুর ইসকন মন্দিরে পালিত হচ্ছে জন্মাষ্টমী

সনাতন ধর্মাবল্বীদের কাছে জন্মাষ্টমী একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ  ধর্মীয় অনুষ্ঠান । হিন্দু পঞ্জিকা মতে সৌর ভাদ্র মাসের কৃষ্ণ পক্ষের অষ্টমী তিথিতে যখন রোহিণী নক্ষত্রের প্রাধান্য দেখা যায় ঠিক তখনই জন্মাষ্টমী পালিত হয় । সাধারণভাবে প্রত্যেক বছর আগস্ট এর মাঝামাঝি সময় থেকে সেপ্টেম্বর এর মধ্যে উক্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় । যদিও প্রত্যেকেই কম বেশি জানেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দেবকী ও বাসুদেব এর সন্তান এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তার জন্মদিনটি কে জন্মাষ্টমী হিসাবে পালন করেন ।  

এই উৎসব কোথাও রাস লীলা বা কৃষ্ণ লীলার মাধ্যমে আবার গীত গাওয়া , উপবাস , দহি হান্ডি প্রভৃতির মাধ্যমেও পালিত হয় । রাস লীলাতে শ্রী কৃষ্ণের ছোট বেলার বিভিন্ন রূপ দেখানো হয়ে থাকে । অন্যদিকে দোহি হান্ডি প্রথায় অনেক উঁচুতে মাখনের হাঁড়ি রাখা হয় এবং অনেক ছেলে মিলে মানুষের পিরামিড তৈরি করে এবং সেই হাঁড়ি ভাঙার চেষ্টা করে ।

তামিলনাড়ু তে এই প্রথা উড়িয়াদি প্রথা নামে সুপরিচিত । নিয়মানুজায়ী শ্রী কৃষ্ণের জন্ম তিথিতে মধ্য রাতে তার ছোট ছোট মূর্তিকে পঞ্চগব্য , গোদুগ্ধ , ঘী , মধু , কর্পূর ও সুগন্ধি মিশ্রিত গঙ্গার জলে  স্নান করিয়ে বেত ও পাকা কলার বন্ধনে ছুরি তৈরি করে চিরা চরিত প্রথা অনুযায়ী নারী কেটে শুদ্ধ বস্ত্রে কৃষ্ণ মূর্তির গা মুছিয়ে এবং নতুন বস্ত্র পরিধান করিয়ে দোলনায় চাপিয়ে নানাবিধ নৈবেদ্য সহ তালের বড়া , নাড়ু , ক্ষীর বা নোনি ও নানাবিধ মিষ্টান্ন সহ শ্রীকৃষ্ণ কে  পুজো করে উপাসক মন্ডলী নিজেদের মধ্যে খাদ্য ও মিষ্ঠ্যান্ন বিনিময়ের উপবাস ভঙ্গ করার  বিশেষ রীতি রয়েছে ।

আবার শ্রীকৃষ্ণের পূজার অন্তিম লগ্নে জন্মাষ্টমীর ব্রতকথা শোনার বিশেষ রীতিও বিদ্যমান ।  তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বিষ্ণুর অবতার গুলির মধ্যে শ্রীকৃষ্ণ মানবজাতির কর্তব্য কর্মের ব্যাপারে প্রথম শিক্ষা দেন । তবে জন্মাষ্টমী সম্পর্কিত বেশ কিছু জানা -  অজানা তথ্যের  ব্যাপারে আলোকপাত করা  যাক ; প্রথমত , সাধারণ ভাবে ধরে নেওয়া হয় , ৩২২৮ খ্রীষ্ট পূর্বাবদে ১৯ শে জুলাই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়ে ছিল । তিনি যাদব বংশের সন্তান । দ্বিতীয়ত , রাখি বন্ধনের ঠিক আট দিন পরে সারা ভারতবর্ষে জন্মাষ্টমী পালন করা হয় ।

তৃতীয়ত, শ্রীকৃষ্ণের সাথে রাধিকা , বলরাম ও সুভদ্রার পুজোও করা হয় । চতুর্থত, শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল মথুরায় , আর তিনি বেড়ে উঠেছিলেন গোকুলে । সেই কারণে মথুরা আর বৃন্দাবনে এই উৎসব সর্ববৃহৎ । পঞ্চমত, শ্রীকৃষ্ণের মোট ১০৮ টি নাম রয়েছে এবং মথুরায় ৪০০ টি শ্রীকৃষ্ণের মন্দির রয়েছে । ষষ্ঠত , শ্রী কৃষ্ণের নাম নিয়ে যে নৃত্য রয়ে রয়েছে সেটা রাস লীলা বলে পরিচিত ।সপ্তমত, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে কৌরবদের পরাস্ত করতে অর্জুনকে যে কথা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন সেই কৃষ্ণের বাণী শ্রী মগভৎ গীতা নামে পরিচিত ।

অষ্টমত , জন্মাষ্টমীর পরের দিন নন্দৎসব পালিত হয় । কথিত আছে কৃষ্ণের জন্ম দিনে নন্দ রাজা খুশিতে সকলকে উপহার দিয়েছিলেন আবার এটাও কথিত আছে জন্মাষ্টমী তে শুদ্ধ চিত্তে শ্রী কৃষ্ণকে ডাকলে তিনি মনোবাসনা পূর্ণ করেন । এ উপলক্ষে নদিয়ার মায়াপুরে, অন্যান্য বছর লক্ষ্য করা যায় ভক্তবৃন্দ দের জনসমাগম। করোনা পরিস্থিতিতে, ধর্মীয় রীতিনীতি সমস্ত কিছু পালিত হলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধুমাত্র মন্দিরে বসবাসকারী ভক্তবৃন্দ দের নিয়ে।