পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম পবিত্র দর্শনীয় স্থান জয়রামবাটি ও কামারপুকুর

পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম পবিত্র দর্শনীয় স্থান জয়রামবাটি ও কামারপুকুর

আজবাংলা       পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম পবিত্র দর্শনীয় স্থান জয়রামবাটি ও কামারপুকুর। বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর মহকুমার অন্তর্গত জয়রামবাটি বাঙালির কাছে এক অতি পরিচিত দর্শনীয় স্থান। আর কামারপুকুর হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলি জেলার অন্তর্গত আরামবাগ মহকুমার একটি গ্রাম।  দু’টি স্থানের মধ্যে ১০ কিলোমিটারের দূরত্ব থাকলেও, এই দু’টি জায়গা একটি অপরটির থেকে আলাদা নয়। 

কামারপুকুরের খ্যাতি শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের বাসভূমি হিসাবে। কামারপুকুর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত জয়রামবাটি স্থানটিও বেশ ঐতিহ্যমণ্ডিত, কারণ এটি সারদা দেবীর জন্মস্থান। অন্যদিকে কামারপুকুর গ্রামের আদি নাম সুখলালগঞ্জ। গ্রামের আদি জমিদার সুখলাল গোস্বামীর নামেই এই নাম। সুখলালগঞ্জ, শ্রীপুর, মুকুন্দপুর, মধুবাটী ও কামারপুকুর — এই পাঁচখানি ছোটো গ্রাম পরস্পরের খুব কাছাকাছি অবস্থিত বলে বহুদিন ধরে সকলের কাছে শুধুমাত্র কামারপুকুর গ্রাম নামেই অভিহিত হয়ে আসছে।

 অনেকের মতে, শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের ভিক্ষামাতা ধনী কামারিনীর পিতৃকুলের কোনো এক ব্যক্তিকে দিয়ে স্থানীয় শাসনকর্তা মানিকরাজা যে পুকুরটি খনন করিয়েছিলেন, তাকে কামারদের পুষ্করিনী নামে অভিহিত করত। এই নামটি থেকেই কামারপুকুর নামটির উদ্ভব ঘটে।

প্রতি বছরই এই দুই স্থান দর্শনের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ পূর্ণার্থী আসেন। ১৮৩৬ থেকে ১৮৫৩ সাল পর্যন্ত প্রায় সতেরো বছর শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ একাদিক্রমে কামারপুকুরে ছিলেন। পরে দক্ষিণেশ্বরে চলে যান। কিন্তু মাঝেমধ্যেই কামারপুকুরে এসে থাকতেন। সাধনাকালের অন্তে প্রায় প্রতিবছরই চতুর্মাস্য (বর্ষা ও শরৎকাল) তিনি কামারপুকুরে এসে কাটাতেন। ১৮৮০ সালে শেষবার কামারপুকুরে আসেন। 

চলুন এবার জেনে নিন এই পবিত্র স্থানে কি কি দেখার আছে: 

১. কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ— ১৯৫১ সালে রামকৃষ্ণ মঠের সন্ন্যাসীরা এবং রামকৃষ্ণ মিশনের সদস্যরা একত্রিত হয়ে ‘রামকৃষ্ণ মঠ’ প্রতিষ্ঠা করেন। এই মঠটির উচ্চতা প্রায় ৪৫ ফুট। এর ভিতরেই ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের একটি মূর্তি রয়েছে, এই মূর্তিটির পরিকল্পনা করেন নন্দলাল বসু।

২.  মাতৃ মন্দির— মাতৃ মন্দির এখানকার একটি জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান। এখানেও প্রতিবছর বহু ভক্ত সমাগম হয়। এটি জয়রামবাটি মঠ নামেও পরিচিত। স্বামী সারদানন্দ ১৯২৩ সালে এই মন্দিরটি মা সারদের নামে উৎসর্গ করেন।

কামারপুকুর ও জয়রামবাটি— ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ও মা সারদার জন্মস্থান যথাক্রমে। রামকৃষ্ণ মিশনের তত্ত্বাবধানে এই দু’ জায়গাতেই সংরক্ষিত করা হয়েছে তাঁদের বাসস্থান। গড়া হয়েছে মন্দিরও। এবং স্বাভাবিকভাবেই ডানা মেলেছে পর্যটন শিল্পও।