ঝুম্পা লাহিড়ী এর জীবনী

ঝুম্পা লাহিড়ী এর জীবনী

বর্তমানকালে যে সমস্ত সাহিত্যিক তাঁদের প্রতিভার বশে, লেখনীর জাদুতে বিশ্ব সাহিত্যের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে তাকে কয়েক ধাপ এগিয়ে দিতে সাহায্য করেছেন, ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকার কথাসাহিত্যিক ঝুম্পা লাহিড়ী (Jhumpa Lahiri) তাঁদের মধ্যে অন্যতম। মূলত ছোটগল্প এবং উপন্যাস রচয়িতা হিসেবেই পাঠকের কাছে পরিচিত তিনি। আমেরিকার ভারতীয় অভিবাসীদের জীবন, তাঁদের সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দ ঝুম্পার লেখার বিষয় হয়ে উঠেছে প্রায়শই।

আসলে তিনি নিজেও তেমনই অভিবাসীদের গোত্রেই পড়েন, তাই সেইসব মানুষদের মনস্তত্ত্ব খুব ভাল বুঝতে পারেন তিনি। নতুন একটি দেশে নিজের দেশের মাটি, সংস্কৃতি থেকে দূরে এসে বেঁচে থাকা, দৈনন্দিন লড়াই ঝুম্পা লাহিড়ীর লেখায় যেন জীবন্ত হয়ে ফুটে ওঠে। ‘দ্য নেমসেক’ বা ‘দ্য লোল্যান্ড’-এর মতো উপন্যাসের জন্য প্রভূত জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন তিনি৷ এখানে উল্লেখ্য তিনি ইতালীয় ভাষাতেও উপন্যাস এবং ছোটগল্প রচনা করেছিলেন।

মৌলিক রচনা ছাড়াও তিনি বহু অনুবাদ এবং নন-ফিকশনের ক্ষেত্রেও নিজের প্রতিভার ছাপ রেখেছিলেন।তাঁর রচনা থেকে বলিউডে চলচ্চিত্রও তৈরি হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সাহিত্যে অবদানের জন্য ঝুম্পা লাহিড়ী পুলিৎজার পুরস্কার, ও.হেনরি পুরস্কারের মতো সম্মানীয় খেতাবে ভূষিত হয়েছেন। তাঁকে জাতীয় মানবিক পদক দ্বারাও সম্মানিত করা হয়। ১৯৬৭ সালের ১১ জুলাই ইংল্যান্ডের লন্ডন শহরে ঝুম্পা লাহিড়ীর জন্ম হয়। তাঁর আসল নাম নীলাঞ্জনা সুদেষ্ণা লাহিড়ী।

তাঁর বাবা-মা দুজনেই মূলত পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার বাসিন্দা ছিলেন, কিন্তু যখন তাঁর তিন বছর বয়স তখন তাঁরা চলে আসেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ঝুম্পার বাবা অমর লাহিড়ী রোড আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর মায়ের নাম তপতী লাহিড়ী। যদিও প্রায় ত্রিশ বছরের বেশি সময় ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন তাঁরা, তবুও ঝুম্পা দেখেছেন বাবা-মায়ের মধ্যে তাঁদের ফেলে আসা দেশ, ফেলে আসা মাটি নিয়ে কত আবেগ।

আমেরিকার ভারতীয় অভিবাসীদের স্বদেশ নিয়ে যে আবেগ, দুই দেশের যে সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব তাঁদের মনের ভিতরে টানাপোড়েন তৈরি করে, ঝুম্পা সেসবই দেখেছেন ছোট থেকে। ঝুম্পার মা ভীষণভাবে চাইতেন যে তাঁদের মেয়ে বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য জেনে বড় হোক। যদিও ঝুম্পা নিজেকে আমেরিকার নাগরিক বলেই পরিচয় দিয়ে থাকেন। রোড আইল্যান্ডের কিংসটনে বড় হয়েছেন তিনি৷ ‘ঝুম্পা’ ছিল আসলে তাঁর পারিবারিক ডাকনাম। এ নামেই পরবর্তীকালে সারা বিশ্বে পরিচিত হন তিনি৷

২০০১ সালে ঝুম্পা লাতিন আমেরিকার ‘টাইম’ পত্রিকার উপ-সম্পাদক আলবার্তো ভাউরভোলিয়াস-বুশকে (Alberto Vourvoulias-Bush) বিবাহ করেন। আলবার্তো পরে অবশ্য ‘টাইম’-এর সিনিয়র সম্পাদক হয়ে উঠেছিলেন। তাঁদের দুই সন্তানের নাম যথাক্রমে অক্টাভিও এবং নূর। রোড আইল্যান্ডের কিংসটনে কিন্ডারগার্টেন থেকে ঝুম্পার পড়াশোনা শুরু হয়েছিল। সেই স্কুলের শিক্ষকই তাঁকে তাঁর ডাকনামে ডাকতে শুরু করেন। কারণ তাঁর আসল নামের তুলনায় এই ডাকনামটা সেখানকার শিক্ষকদের পক্ষে উচ্চারণ করা সহজ হত।

এরপর সাউথ কিংসটাউন হাইস্কুল থেকে পড়াশোনা করবার পর ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে অধ্যয়নের জন্য তিনি ভর্তি হন কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্নার্ড কলেজে। ১৯৮৯ সালে সেই কলেজ থেকে ইংরেজিতে বি.এ ডিগ্রি অর্জনে সফলতা পান ঝুম্পা লাহিড়ী। সেখান থেকে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন তিনি। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনটি উচ্চস্তরের ডিগ্রি অর্জন করেন ঝুম্পা। ইংরেজিতে এম.এ, সৃজনশীল রচনা বা ক্রিয়েটিভ রাইটিং-এ এম.এফ.এ এবং আরেকবার তিনি এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন তুলনামূলক সাহিত্যে।

সেই বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আবার গবেষণার কাজ করে সম্মানসূচক পিএইচডি ডিগ্রি লাভে সক্ষম হয়েছিলেন ঝুম্পা লাহিড়ী। তাঁর গবেষণা শেষ হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। রেনেসাঁ পর্ব ছিল ঝুম্পার গবেষণার বিষয় এবং গবেষণাপত্রের শিরোনাম ছিল ‘অ্যাকার্সড প্যালেস : দ্য ইটালিয়ান পালাজ্জো অন দ্য জ্যাকোবিয়ান স্টেজ’। গবেষণায় সাহায্যের জন্য তাঁর প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন ইংরেজির উইলিয়াম ক্যারল এবং শিল্প-ইতিহাসের হেলমুট ওহল। তিনি প্রভিন্সটাউনের ফাইন আর্টস ওয়ার্ক সেন্টারে একটি ফেলোশিপ নেন যেটি দু’বছর (১৯৯৭-১৯৯৮) স্থায়ী হয়েছিল।

পরবর্তীকালে ঝুম্পা লাহিড়ী বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় এবং রোড আইল্যান্ড স্কুল অফ ডিজাইনে ক্রিয়েটিভ রাইটিং শিখিয়েছিলেন। আবার ২০১৫ সালের ১ জুলাই লুইস সেন্টার ফর আর্টসে ক্রিয়েটিভ রাইটিং-এর অধ্যাপক হিসেবে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলে যোগদানও করেন তিনি। স্কুলজীবন থেকেই প্রচুর পরিমাণে লেখালেখি শুরু করেন ঝুম্পা। তবে ইংরেজিতে স্নাতক হওয়ার পরই যেন লেখক হওয়ার দিকে এক ঝোঁক তৈরি হয়েছিল তাঁর। সাহিত্যিক জীবনের শুরুতে ঝুম্পা লাহিড়ীর লেখা বহু জায়গা থেকে প্রত্যাখাত হয়েছিল।

তবে অনেক প্রত্যাখানের পর কিছু ছোটগল্প ‘দ্য নিউ ইয়র্কার’, ‘হার্ভার্ড রিভিয়ু’ এবং ‘স্টোরি কোয়াটারলি’র মতো নামী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। এই প্রাথমিক পর্যায়ের গল্পগুলি থেকে কয়েকটি বেছে নিয়ে ১৯৯৯ সালে ‘ইন্টারপ্রেটর অফ ম্যালাডিস’ নামের তাঁর প্রথম গল্পসংকলনটি প্রকাশ করেছিলেন ঝুম্পা লাহিড়ী। সেই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত নয়টি গল্পের মধ্যে কিছু গল্পের প্রেক্ষাপট যেমন কলকাতা, তেমনি কয়েকটি আবার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে লিখিত।

মার্কিন মুলুকে প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের ভারতীয় অভিবাসীদের, বিশেষত কলকাতাবাসীদের জীবন, মানসিক টানাপোড়েন, স্থান-চ্যুতি, সাংস্কৃতিক দূরত্ব ইত্যাদি যেমন বিষয় হয়ে উঠেছে এই বইয়ের গল্পগুলির, তেমনি বিবাহ, বৈবাহিক সমস্যা, পরকীয়া, মৃত সন্তানের জন্য শোক ইত্যাদি নানা পারিবারিক সমস্যাগুলিও ছিল তাঁর বেশ কিছু ছোটগল্পের উপজীব্য। আমেরিকান সমালোচকের দল এই সংকলনটির প্রভূত প্রশংসা করলেও ভারতবর্ষে অবশ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়েছিল।

এই সংকলনটি প্রায় ছয় লক্ষ কপি বিক্রি হয় এবং ২০০০ সালের ‘পুলিৎজার প্রাইজ ফর ফিকশন’ সম্মানে ভূষিত করা হয় এই বইটিকে। এছাড়াও সংকলনের শিরোনামের গল্পটির জন্য ও. হেনরি পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। এই সংকলনটি ১৯৯৯ সালে বছরের বেস্ট ফিকশন ডেবিউ-এর জন্য হেমিংওয়ে পুরস্কার পেয়েছিল। প্রকাশের পর থেকে এই বইটি দেশ-বিদেশ মিলিয়ে ২৯টি ভাষায় অনূদিত হয়। ছোটগল্পে হাত পাকানোর পর ঝুম্পা উপন্যাস লিখতে শুরু করেন।

২০০৩ সালে তিনি তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘দ্য নেমসেক’ রচনা করেন। এই উপন্যাসের প্লট তিনি একটি পরিবারের ঘটনা থেকে নিয়েছিলেন। ঝুম্পা সেই ঘটনা শুনেছিলেন তাঁর বড় হয়ে ওঠার সময়৷ এই উপন্যাসের অবলম্বনও ছিল অভিবাসী দুই যুবক-যুবতী এবং তাদের পরিবারের গল্প। এই উপন্যাসে প্রজন্ম এবং সাংস্কৃতিক ব্যবধানের বিষয়টিকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন লেখিকা।

২০০৭ সালে এই উপন্যাসের অনুপ্রেরণায় মীরা নায়ার একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন একই নামে। সেই ছবিতে ‘গোগোল’ চরিত্রটিতে অভিনয় করেছিলেন কাল পেন এবং তার বাবা-মায়ের চরিত্রে ছিলেন বলিউডের তব্বু ও ইরফান খান। এখানে উল্লেখ্য এই সিনেমায় ঝুম্পা লহিড়ী নিজে ‘আন্টি ঝুম্পা’ নামের একটি ক্যামিও চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ঝুম্পার দ্বিতীয় গল্প সংকলন ‘আনঅ্যাকাস্টমড আর্থ’ প্রকাশিত হয় ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল। প্রকাশের পর এই গ্রন্থটি নিউইয়র্ক টাইমসের সেরা বিক্রেতার তালিকায় ছিল এক নম্বরে।

নিউইয়র্ক টাইমস বুক রিভিয়ু-এর সম্পাদক ডোয়াইট গার্নার বলেছিলেন শেষ কোনও একটি সুলিখিত ফিকশনের বই মনে করা শক্ত, বিশেষত কোনও গল্পের বই যা কিনা সরাসরি একনম্বরে জায়গা করে নিয়েছে। এই সংকলনটিকে ২০০৮ সালে ছোটগল্পের জন্য বিশ্বের বৃহত্তম পুরস্কার ফ্র্যাঙ্ক ও’কনর ইন্টারন্যাশনাল শর্ট স্টোরি অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করা হয়েছিল। তাছাড়াও এই গল্প সংকলনের জন্য ঝুম্পা লাহিড়ী পেয়েছিলেন ‘এশিয়ান আমেরিকান লিটারারি অ্যাওয়ার্ড’।

এছাড়াও ২০০৮ সালে ‘স্টেট বাই স্টেট: অ্যা প্যানোরামিক পোর্ট্রেট অফ আমেরিকা’ বইতে রোড আইল্যান্ডের ওপর ঝুম্পার একটি প্রবন্ধ স্থান পেয়েছিল। ২০১৩ সালে ঝুম্পার আরেকটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস ‘দ্য লোল্যান্ড’ প্রকাশিত হয়। এই বইটি ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ডের ফাইনাল রাউন্ডে পৌঁছেছিল এবং ম্যান বুকার পুরস্কারের জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছিল৷ কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সেই দুটির মধ্যে একটি পুরস্কারও জিততে পারেনি এই বই। উপন্যাসটি মূলত দুই ভাইয়ের গল্প যারা দুটি ভিন্ন পথের পথিক।

দুই ভাইয়ের একজন ১৯৬০-এর দশকে কলকাতা শহরে নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত, আরেকটি ভাই একজন গবেষকের জীবন বেছে নিয়েছিল। এই দুজনের পরিণতিই উপন্যাসটির মূল উপজীব্য। এই বইটি সাউথ এশিয়ান লিটারেচারের জন্য ডিএসসি পুরস্কার পেয়েছিল। ‘দ্য নিউ ইয়র্কার’-এর সঙ্গে ঝুম্পার দীর্ঘদিন লেখালেখির সম্পর্ক বজায় ছিল। সেখানে তাঁর ছোটগল্প, উপন্যাস এমনকি প্রবন্ধও প্রকাশিত হয়েছিল। ২০১৫ সালে সেই পত্রিকায় ঝুম্পার ‘টিচ ইওরশেল্ফ ইতালিয়ান’ নামে একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়।

সেই প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, এখন তিনি কেবলমাত্র ইতালীয় ভাষাতেই লিখছেন। ২০১১ সালে তিনি ইতালির রোমে চলে যান, সেখানে ইতালীয় ভাষা শেখেন এবং পরবর্তীতে ইতালীয় ভাষাতে বইও লিখতে থাকেন। ইতালীয় ভাষায় রচিত ঝুম্পার প্রথম বই ‘ইন আল্ট্রে প্যারোল’। পরবর্তীকালে ইংরেজিতে অনুদিত হয়ে ‘ইন আদার ওয়ার্ডস’ নামে এই বইটি প্রকাশিত হয়। তাঁর লেখা একটি নন-ফিকশন ‘দ্য ক্লোদিং অফ বুকস’ মূলত ইতালীয় ভাষায় ‘ইল ভেস্টিটো দেই লেব্রি’ নামে প্রকাশ পেয়েছিল।

মৌলিক রচনা ছাড়াও ইতালি থেকে ইংরেজিতে অনুবাদের কাজও করেছিলেন ঝুম্পা। ডোমেনিকো স্টারনোনের তিনটি উপন্যাস ‘ল্যাকি’, ‘শেরজেত্তো’ এবং ‘কনফিডেনজা’কে ইংরেজিতে যথাক্রমে ‘টাইস’, ‘ট্রিক’ এবং ‘ট্রাস্ট’ নামে অনুবাদ করেছিলেন তিনি। ‘ট্রিক’ অনুবাদের জন্য ‘জন ফ্লোরিও পুরস্কার’ লাভ করেন তিনি। ২০২১ সালে ঝুম্পা ইতালীয় ভাষায় লেখা তাঁর প্রথম কবিতার বই ‘ইল কুয়াডেরনো দি নেরিনা’ (নেরিনা’স নোটবুক) প্রকাশ করেন। এছাড়াও তিনি সম্পাদনা এবং আংশিক অনুবাদ করেছিলেন ‘দ্য পেঙ্গুইন বুক অফ ইটালিয়ান শর্ট স্টোরিজ’-এর।

এছাড়াও ইতালীয় ভাষায় রচিত ও প্রকাশিত ‘ডোভ মি ট্রোভো’ উপন্যাসটির অনুবাদ করেন তিনি ‘হোয়্যারঅ্যাবাউটস’ নামে। তাঁর সাম্প্রতিক প্রবন্ধের বইটির নাম ‘ট্রান্সলেটিং মাইসেল্ফ অ্যান্ড আদার্স’। এতে তিনি সাহিত্য, অনুবাদ এবং ইংরেজি ও ইতালীয় ভাষার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের রসায়ন অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছেন। ২০০৫ সালে ঝুম্পা ‘পেন আমেরিকান সেন্টার’-এর সহ-সভাপতির পদ অলঙ্কৃত করেন।

২০১০ সালে অন্যান্য পাঁচজনের সঙ্গে ‘কমিটি অন দ্য আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ’-এর সদস্য নিযুক্ত হন তিনি। ঝুম্পা লাহিড়ী এইচবিও-এর টেলিভিশন প্রোগ্রাম ‘ইন ট্রিটমেন্ট’-এর তৃতীয় সিজনেও কাজ করেছিলেন। সাহিত্যিক অবদানের জন্য পুলিৎজার বা ও. হেনরি পুরস্কার ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে আরও নানা পুরস্কারে সম্মানিত করা হয় ঝুম্পাকে।

১৯৯৩ সালে হেনফিল্ড ফাউন্ডেশন থেকে তিনি পেয়েছিলেন ট্রান্সআটলান্টিক পুরস্কার, ২০০০ সালে আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ আর্টস অ্যান্ড লেটার্স থেকে অ্যাডিসন মেটকাফ অ্যাওয়ার্ড, ২০১৪ সালে ‘ন্যাশনাল হিউম্যানিটিজ মেডেল’ ইত্যাদি সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে তাঁকে। বর্তমানে ঝুম্পা লাহিড়ী সাহিত্যের আরও নতুন নতুন দিগন্ত অনুসন্ধানে নিয়োজিত।