ইন্টারভিউতে যাবার আগে মাথায় রাখুন এই বিশেষ টিপসগুলি

ইন্টারভিউতে যাবার আগে মাথায় রাখুন এই বিশেষ টিপসগুলি

আজবাংলা   চাকুরি জীবনের প্রথম ধাপই হল ইন্টারভিউ। প্রথম ধাপটা যেভাবেই হোক হতে হবে মজবুত। আপনারা কমবেশি প্রতেকেই জানেন ইন্টারভিউর সাধারণ কিছু নিয়ম কানুন রয়েছে। কিন্তু দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে আমরা কিছু ছোট খাট ভুল করি।

যা কর্তাদের বা মেম্বারদের চোখে পড়ে। এরফলে, তারা আপনার ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত হন, পাশাপাশি আঙ্গুল তোলেন। আসুন আজকের প্রতিবেদনে দেখে নিন, কোন কোন কাজগুলি করা চলবে না ইন্তারভিউ দিতে গিয়ে।

১. মোবাইল ফোন বন্ধ রাখবেন-  আমাদের অনেকেরই ধারণা ইন্টারভিউ বোর্ডে ফোন কল রিসিভ করলে কিছু হয় না। কিন্তু বোর্ড এর মেম্বাররা এতে বিরক্তবোধ করেন। এই ধরণের কাজকর্ম দ্বারা বোঝা যায় প্রার্থী চাকুরি সম্পর্কে কতটা সিরিয়াস। সুতরাং ইন্টারভিউ বোর্ডে ঢোকার আগে মোবাইল ফোন বন্ধ রাখবেন।

২. কোম্পানির বিভিন্ন পদে আবেদন করা যাবে না-  হ্যাঁ, একই কোম্পানির বিভিন্ন পদে আবেদনের মাধ্যমে আপনি হয়ত আপনার বহুমুখী প্রতিভার জানান দিচ্ছে কিন্তু কোম্পানির ম্যানেজার বা মালিকের দৃষ্টিতে দেখলে ব্যাপারটা কি দাঁড়ায়? তার চোখে আপনি হলেন “Jack Of all trades but master of none”। একটি কোম্পানিতে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের দক্ষ লোকবলের প্রয়োজন, তাদের বহুমুখী প্রতিভাদরদের দরকার নেই। অবশ্যই মাথায় রাখবেন।

৩. পোশাক-   আপনাকে দেখতে যদি খারাপ দেখায় বা আপনার পোশাক যদি হিক না হয় তাহলে আপনার প্রতি ইন্টারভিউ বোর্ড মেম্বারদের একটি বিরুপ মনোভাব জন্মাবে।  তা আপনি ইন্টারভিউ তে যাই বলবেন না কেন, যতটা গুছিয়েই কথা বলুন না কেন। কোন লাভ হবে না। সুতরাং সাধারণ অফিশিয়াল পোশাক পড়ে যাবার চেষ্টা করবেন।

৪. নোংরা কথা-  “Bloody Hell”, “Shit” ইত্যাদি ইতাদ্দি এসব উচ্চারণ থেকে বিরত থাকুন। জীবনে আমরা উত্তেজনার বশত কিছু গালি ব্যবহার করে ফেলি। কিন্তু সেটা গুরুজন কিংবা  ইন্টারভিউ বোর্ডে উচ্চারণ করাটা মোটেই সুখকর নয়। সুতরাং যেকোনো আলোচনায় নিজের আচরণ সংযত রাখার চেষ্টা করুন।

৫. নার্ভাস-   “টেনশন হচ্ছে” এ ধরণের বিরক্তকর কথাবার্তা আপনার unsmartness কে তুলে ধরে। চাকুরিদাতা কিংবা ইন্টারভিউ বোর্ড মেম্বার খুব ভালোভাবেই জানেন ইন্টারভিউর সময় অনেক প্রার্থীই নার্ভাস হয়ে পড়েন কিন্তু বার বার মুখে বলে বহিঃপ্রকাশ ঘটানোটা একদিকে যেমন অপ্রাপ্তবয়স্কের আচরণ তেমনি বিরক্তকর। সুতরাং এ বিষয়গুলো সাবধানে এড়িয়ে চলুন।

৬. অধৈর্য হবেন না-  কখনও কখনো ইন্টারভিউর সময় অনেক বেশি হয়। ৩০-৯০ মিনিট তো হতেই পারে। যেহেতু যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন যেকোন প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তাই ইন্টারভিউ বোর্ড একটু বেশি সময় নিতেই পারে।

৭. বদনাম হতে বিরত থাকুন-  ইন্টারভিউ বোর্ডের খুব সাধারণ একটি প্রশ্নের মধ্য অন্যতম হল – “আপনি কেন বর্তমানের চাকুরিটি ছেড়ে দিচ্ছেন?”। এক্ষেত্রে আপনার পূর্ব অফিসের প্রতি রাগ ক্ষোভ ভুলেও নতুন অফিসের বসদের সামনে বলবেন না। কারণ এতে আপনার মন মানসিকতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণ পাওয়া যাবে। আপনি শালীনভাষায় আপনার অভিমত ব্যক্ত করতে পারেন।

৮. ''এই চাকুরিটা খুবই দরকার”-  আপনার চাকুরির খুব দরকার হতেই পারে। হোক সেটা অর্থনৈতিক কিংবা সামাজিক কারণে। আপনি যে হন্যে হয়ে চাকুরি খুজছেন সেটা কখনই আপনার মনোভাবে প্রকাশ করবেন না। কিংবা কখনই নিজের অবস্থার কথা বর্ণনা করে বলবেন না “ এই কারণে আমার চাকুরিটা খুব দরকার”।

আধুনিক চাকুরিদাতাদের মতে, তারা এমন চাকুরে চান না যারা শুধু চাকুরি করা কিংবা কিছু অর্থের জন্য চাকুরি করেন, তারা চান যারা নিজের ক্যারিয়ার সুন্দরভাবে গড়তে চায় তেমন যুবসমাজকে চাকুরি দিতে। সুতরাং “Be Smart”।

৯. সালারি-  ইন্টারভিউর প্রাথমিক পর্যায়ে কখনই স্যালারি সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন না। কারণ একজন চাকুরিদাতা কখনই তেমন বেতনভুক কর্মচারী  আশা করবেন না যিনি শুধু অর্থের নিগড়ে বন্দি হয়ে তাদের কাজ করছেন। আপনি চাইলে ইন্টারভিউর শেষ পর্যায়ে স্যালারি সম্পর্কে যেকোন প্রশ্ন করতে পারেন। সেটা চাকুরিদাতারাও আশা করবেন।

১০. ইন্টারভিউ বোর্ডে উপস্থিত হন-  কোম্পানি এবং পদ সম্পর্কে ভালোভাবে না জেনে কখনই ইন্টারভিউর সম্মুখীন হবেন না। কারণ প্রশ্নকর্তা আপনার কাছ থেকে এই ব্যাপারটা প্রথমেই জানতে চাইতে পারেন। তাছাড়া এটি একজন সচেতন মানুষের পরিচায়ক। অবশ্যই CV বা Resume এর অতিরিক্ত কপি নিয়ে যাবেন।