গাজিপুর সীমানা খালি করার নির্দেশ, ভুয়ো টুইট করে বিপাকে সাংবাদিক রাজদীপ সরদেশাই

গাজিপুর সীমানা খালি করার নির্দেশ, ভুয়ো টুইট করে  বিপাকে সাংবাদিক রাজদীপ সরদেশাই

সাধারণতন্ত্র দিসবে কিষাণ প্যারেডে এক কৃষকের মৃত্যু নিয়ে মিথ্য়া প্রচারের অভিযোগে কংগ্রেস নেতা শশী থারুর, সাংবাদিক রাজদীপ সরদেশাই, বিনোজ কে জোসে মৃণাল পাণ্ডে সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগ দায়ের করেছে নয়ডা পুলিস । সেক্টর ২০ থানায় দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে ২৬ জানুয়ারি কৃষকদের ট্র্যাক্টর ব়্যালি চলাকালীন এক কৃষকের মৃ্ত্যুর বিষয়ে ভুয়ো খবর ও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অর্পিতা মিশ্রের অভিযোগের ভিত্তিতে এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রের খবর। তালিকায় রয়েছে ন্যাশানাল হেরাল্ডের প্রধান সম্পাদক জাফর আগা, ক্যারাভানের সম্পাদক অনন্ত নাথের নামও। মামলাটি দায়ের করা হয়েছে উত্তর প্রদেশে। যদিও মামলাটির দিল্লি পুলিশের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে। এক আইনজীবী জানিয়েছেন, উত্তর প্রদেশের পুলিশ দেখানোর চেষ্টা করছে যেকোনও জায়গায় মামলা দায়ের করা যেতেই পারে। তবে পরবর্তীকালে এটি দিল্লি পুলিশের হাতেই তুলে দেওয়া হবে।

সাংবাদিক ও রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে গোষ্ঠীর শক্রুতা প্রচার, সম্প্রিতী নষ্ট করা, ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত, শান্তি নষ্ট সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্ষিয়ান সাংবাদিক ও নিউজ অ্যাঙ্কার রাজদীপ সরদেশাই দুসপ্তাহের জন্য অফ এয়ার করল সংবাদ সংস্থা ইন্ডিয়া টুডে। আগামী দুসপ্তাহের জন্য তাঁকে কোনও খবর পরিবেশন করতে বা রিপোর্টিং করতে দেখা যাবে না। একই সঙ্গে তাঁর একমাসের বেতনও কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাধারণতন্ত্র দিসবে কিষাণ প্যারেডে এক কৃষকের মৃত্যু নিয়ে মিথ্য়া প্রচারের অভিযোগ এই সিদ্ধান্ত নেওযা হয়েছে বলেও সূত্রের খবর। সাধারণতন্ত্র দিবসে রাজদীপ সরদেশাই সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে লিখেছিলেন ৪৫ বছরের কৃষক নবনীত পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষকরা তাঁকে বলেছেন, এই বলিদান বিফলে যাবে না। সেইসঙ্গে মৃত কৃষকের ছবিও পোস্ট করেন তিনি। শুধু ট্যুইট নয়, একই বিষয় নিয়ে তাঁকে সংবাদ পরিবেশন করতেও দেখা গেছে ইন্ডিয়া টুডের একটি প্রতিবেদনে।

যেখানে তিনি সাংবাদিক অঙ্কিত ত্যাগির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন। তথ্য বলছে অন্যকথা। কারণ এই মত্যুর সঙ্গে পুলিশের কোনও কোনও যোগাযোগ ছিল না। পুলিশ গুলি চালায়নি। সেদিনই সংবাদ সংস্থার এএনআই- জানিয়েছিল দিল্লির কৃষক প্যারেডে এক আন্দোলনকারীর মৃত্যু হয়েছে। তীব্র গতিতে আসা ট্র্যাক্টরটি পাল্টি খায়। ট্র্যাক্টর দুর্ঘটানয় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। খবরের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ করা হয়েছিল। অন্যদিনে মৃত কৃষকদের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মৃতের শরীরে বুলেট আঘাতের কোনও চিহ্ন নেই।

সব মিলিয়ে মিথ্যা খবর পরিবেশন করা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেক নিউজ প্রচার করায় ২৬ জানুয়ারি উত্তপ্ত দিল্লিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যা নিয়ে রীতিমত সমালোচনায় সরব হয়েছেন নেটিজেনরায যদিও সেই টুইটটি তিনি মুছে ফেলেছিলেন তাঁর ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে। পাশাপাশি তিনি নতুন টুইট বার্তা জানিয়েছেন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে ট্র্যাক্টর উল্টে। অর্থাত্‍ একই দিনে নবনীতকে নিয়ে দুরকম টুইট করেন তিনি। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও কথাই বলেনি ইন্ডিয়া টুডে কর্তৃপক্ষ। 

দিল্লিতে কৃষকদের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধে আহত পুলিশকর্মীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯৪ জন। তাঁদের মধ্যে ৮০ জনেরও বেশি রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্‍সাধীন। কিন্তু প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লিতে কৃষকদের তাণ্ডবের বিভীষিকা ভুলতে পারছেন না আহত পুলিশকর্মীরা। কীভাবে তাঁদের লাঠি, তলোয়ার, কাচের বোতল এবং চেন নিয়ে তাড়া করেছিল উন্মত্ত জনতা, সেই ভেবেই শিউরে উঠছেন পুলিশকর্মীরা। লালকেল্লায় কর্তব্যরত ইনস্পেক্টর পি সি যাদব জানিয়েছেন, তাঁর মুখে, মাথায়, পিঠে এবং হাতে গুরুতর চোট লেগেছে।

সেদিনের বিভীষিকার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, 'আমরা দেখলাম প্রচুর মানুষ কেল্লার ভিতর ঢুকে পড়ল। তারপর পাঁচিল বেয়ে উপরে রামপার্টে উঠে পড়ে। আমরা ওদের পিছু হটাতে চেষ্টা করি, কিন্তু ওরা আক্রমণাত্মক হয়ে আমাদের উপর হামলা করে। হাতে তলোয়ার-লাঠি নিয়ে তেড়ে আসে। একজন পুলিশকর্মীর মাথা ফেটে রক্ত পড়তে শুরু করে।

পরে দৌড়ে নিচে নেমে আমি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে জনতা আমাদের আটকায়, লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারে। আমি সুরক্ষাকবচ পরে ছিলাম, কিন্তু তলোয়ারের আঘাতে আমার হেলমেট ভেঙে যায়। তারপর জ্ঞান হারাই আমি। কৃষক বলেই আমরা সংযত থেকেছি, কিন্তু ওরা সেটা করেনি। আমার মাথায় ১২টা সেলাই পড়েছে।'