স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখতে নজরে রাখুন নখ কে

স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখতে নজরে রাখুন নখ কে

আজবাংলা   আপনি কি জানেন, নখ আপনার ব্যক্তিত্বের জানালা। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও নখ যে আপনার স্বাস্থ্যের জানালা তা নিশ্চিত। নখের যত্নে একেকজন একেক রকম গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। কিন্তু নখ এমন কিছু সতর্কবার্তা দেয় যা কখনোই উপেক্ষা করা উচিৎ নয়। 

যদিও কদর্য নখ, অবহেলার কারণে হতে পারে, তারপরও এই নখই স্বাস্থ্যের গুরুতর বিপর্যয়ের বার্তা দিয়ে থাকে। ওই বার্তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে স্বাস্থ্যের ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

১. নখে ভাঁজ বা ছোট ছোট গর্ত-  উপরিভাগ যদি মসৃণ না হয় তাহলে বুঝতে হবে জিংক, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ’র অভাবে নখের অবস্থার অবনতি হচ্ছে, যাকে একজিমা বা সোরিয়াসিস বলা হয়। এ সমস্যা যদি অব্যাহত থাকে তখন নখে ভাঁজ পরে, ছোট ছোট গর্ত দেখা দেয়।

২. ভাঙা নখ-  দৈনন্দিন জীবনে অবধারিতভাবে নানা ধরনের রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসতে হয়। এতে করে নখ ফাটতে বা ভাঙতে পারে। নখ ভাঙতে বা ফেটে যেতে পারে এমন ছত্রাকের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনিয়মিত হরমোন তৈরি, যাকে হাইপোথাইরয়েডিজম বলা হয়; এর কারণেও নখ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ক্লান্তি, হতাশা এবং ওজন বাড়ার কারণেও নখে ফাটল বা ভাঙন ধরতে পারে।

৩. দাঁতে নখ কাঁটা-  দাঁত দিয়ে নখ কাঁটা নিজেকে নিজে নিপীড়ন করার মতো। দাঁতে নখ কাঁটতে গিয়ে অনেকে আশপাশের চামড়া কাটেন। এতে হতাশা থেকে তৈরি ক্ষোভের প্রকাশ ঘটে।

কারো কারো কাছে পুরনো একটা অভ্যাস। কেউ কেউ অচেতনভাবেই এমনটা করেন। সঠিক বিষয়টি জানার জন্য এসব ইঙ্গিতকে উপেক্ষা না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিৎ।

৪. আলাদা নখ-  নখের অগ্রভাগ আলাদা হয়ে যাওয়াকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অনাইকোলাইসিস বলা হয়। তার অর্থ হলো- নখের মূল অংশ থেকে সামনের অংশ ভেঙে যাওয়া। এটা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। তার মধ্যে অন্যতম হলো তীব্র রাসায়নিক বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। এছাড়া, নখে ভেঙে যাওয়া থাইরয়েড রোগের ইঙ্গিতও হতে পারে।

৫. হলুদ নখ-  ছত্রাকের সংক্রমণের কারণে বেশিরভাগ সময় নখ হলুদ হয়ে যায়। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসার মাধ্যমে যা সহজেই দূর করা সম্ভব। যদি চিকিৎসা করানো না হয়, ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে ভেঙে যেতে পারে, একসময় উঠে যেতে পারে; নষ্ট হয়ে যেতে পারে চিরতরে। যদি চিকিৎসার পরও হলুদ রঙ না যায়, তাহলে এটি থাইরয়েড, ডায়াবেটিস, ক্যান্সারসহ নানা স্বাস্থ্য জটিলতার ইঙ্গিত দেয়।

৬. নখের নিচে কালো রেখা-  দরজার ফাঁকায় নখ আটকালে চরম যন্ত্রণা অনুভত হবে এটাই স্বাভাবিক। এতে নখের নিচে রক্তক্ষরণ হতে পারে। পড়তে পারে কালো দাগ। যেকোনো ফাঁকায় নখ আটকে চাপ খেলে এমনটা হতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে যদি এমন কিছু না ঘটে, তারপরও নখের নিচে কালো রেখা বা দাগ পড়তে দেখা যায়, তাহলে অতিসত্বর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। কারণ স্কিন ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে এটি।