কলকাতা |শহর কলকাতার যা অজানা ইতিহাস

কলকাতা |শহর কলকাতার যা অজানা ইতিহাস

সতীর দেহের একটি অংশ কালীঘাটে পড়েছিল। কালীঘাট মন্দিরটির নামানুসারেই সম্ভবত জন্যেই এই শহরের নাম হয়েছে কলিকাতা ।  কলিকাতা, সুতানুটি ও গোবিন্দপুর। সুতানুটি ছিল সে সময়ে ঐ অঞ্চলের সুতা এবং বোনা কাপড়ের একটি বাণিজ্য কেন্দ্র। কলকাতার নিকটবর্তী চন্দ্রকেতুগড়ে (চব্বিশ পরগনা জেলায় এবং কলকাতা শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার উত্তরপূর্ব দিকে একদা ভাগীরথী নদীর অন্যতম প্রবাহ বিদ্যাধরী নদীর কূল ঘেঁষে এর অবস্থান।) প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্য চালিয়ে প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে যে এই অঞ্চলটি বিগত দুই হাজার বছরেরও বেশি সময়কাল ধরে জনবসতিপূর্ণ। মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একাধিক গ্রন্থে হুগলি নদীর তীরবর্তী কলিকাতা গ্রামের উল্লেখ পাওয়া যায়।

  পালরাজ্যের যুবরাজ যিনি সন্ন্যাসী হয়ে গেছিলেন সেই চৌরঙ্গীনাথের সময় থেকে শুরু করতে হবে, যার নামে আজকের চৌরঙ্গী। মধ্যযুগে ১৪১৫ সালে মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গল কলকাতার উল্লেখ করছে। ১৫৯৬ সালে আইন ই আকবরিতে কলকাতার উল্লেখ আছে। এই কলকাতা বাঙালির মধ্যযুগের অস্তিত্বে মহীরুহের সুপ্ত বীজ। ১৪৯৯ থেকে ১৫০৬ সালের মধ্যে কোনও এক সময় নানক এসেছিলেন কলকাতায় ধর্মপ্রচার করতে, এখানে বেশ কিছুদিন ছিলেন। কলকাতা যে আগামী দিনে বাণিজ্যকেন্দ্র সপ্তগ্রামের স্থান নেবে, তা সেদিনই স্থির হয়ে গেছিল যেদিন শেঠ বসাকরা এখানে এসেছিলেন সপ্তগ্রাম ছেড়ে ১৫৩৭ সালে।

সরস্বতী নদী শুকিয়ে আসছিল। এরপর শেঠ বসাকরা একটা বিরাট তন্তুবয়ন ওয়ার্কশপ স্থাপন করেছিলেন গোবিন্দপুর গ্রামে (আজকের ময়দান, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল থেকে শুরু করে অ্যাকাডেমি নন্দন চত্ত্বর অবধি ছিল এই গোবিন্দপুর। আজ নন্দন যে পুকুরের ওপরে দাঁড়িয়ে আছে, তার নাম ছিল বির্জিতলাও, ওই এলাকার নাম ছিল বির্জি)। তাতে বহু শ্রমিক কাজ করত, এবং ইংরেজ আসার বহু আগের কথা সেটা। ১৬৩২ সালে শেঠ বসাকদের গোবিন্দপুরের টেক্সটাইল ওয়ার্কশপে ২৫০০ শ্রমিক কাজ করত, জানা যাচ্ছে।

কলকাতায় আর্মেনীয়রা এসেছিল, এবং রেজা বিবি নামে এক আর্মেনিয়ান মহিলার সমাধি পাওয়া যাচ্ছে কলকাতায়, সময়কাল ১৬৩০ সাল। এই রেজা বিবির বর ছিলেন সুকিয়াস, তারই নামে সুকিয়া স্ট্রিট, এরকম একটা মত আছে। সঞ্জীব সান্যালের সাম্প্রতিক বই, ওশেন অভ চার্ন বলছে, সেযুগে প্রধান আন্তর্জাতিক পণ্য ছিল টেক্সটাইল। ইংরেজরা নাকি নিতান্তই অ্যাক্সিডেন্টর ফলে হুগলি নদীর তীরে পা রেখেছিল, এখানে না এসে মহানদীতে গেলে উড়িষ্যাতেই রেনেসাঁস হয়ে যেত, তথাগত রায় বলেছিলেন।

ইতিহাস একদল বাঙালি আজও জানে না। বঙ্কিমের সেই বিখ্যাত উক্তি "বাঙালির ইতিহাস চাই, নইলে বাঙালি মানুষ হবে না"-র এত বছর পরেও যে অনেক বাঙালি নিজের ইতিহাস জানে না, তথাগত রায়রা তারই প্রমাণ দেন বারবার। সুতানুটী নামটাও এসেছে ওই টেক্সটাইল শিল্পের বাড়বাড়ন্ত থেকেই। বাঙালির কলকাতার শ্রী ইংরেজ আসার আগে কিরকম ছিল, সেটা ইংরেজরা যে দিল্লির বাদশাকে ১৬০০০ টাকা দিয়েছিল এই তিনটে গ্রাম সুতানুটী, কলকাতা, গোবিন্দপুরের প্রজাসত্ত্ব কেনার জন্য ১৬৯৮ সালে, তা দেখলে টের পাওয়া যায়।

সাবর্ণদের ১৩০০ টাকা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সাবর্ণরা তো দেওয়ার মালিক নয়, মোগল আমলে সমস্ত জমিই বাদশার, লোকে প্রজাসত্ত্ব (রেভেনিউ রাইট) কিনতে পারে কেবল, তো কলকাতার সেই প্রজাসত্ত্ব কিনতে বাদশার ফরমান আনতে হয়েছিল। এঁদো জমির জন্য কে ১৬০০০ টাকা দেয়? কলকাতা যদি গণ্ডগ্রাম হত, সেযুগে এই পরিমাণ টাকার ঝুলি হাতে নিয়ে বাদশার দ্বারস্থ হত না ইংরেজ। বাঙালির কলকাতা অনেক পুরোনো। ইংরেজ জব চার্নক যে কলকাতার স্রষ্টা নন, সেটা কলকাতা হাইকোর্ট ২০০৩ সালে একটা রায়ে স্পষ্ট করে দিয়েছিল।

ইংরেজ শাসনের শুরুর দিকে ১৭৮৩ সালে কালীঘাটে অনেকগুলি গুপ্তযুগের স্বর্ণমুদ্রা মিলেছিল। এই অঞ্চলে সভ্যতা বহু প্রাচীন। মহাশক্তিশালী যশোর রাজ্যের অংশ তো বটেই। তারও আগে পালযুগে দক্ষিণবঙ্গের এই অঞ্চল ছিল ব্যাঘ্রতটীমণ্ডল নামে খ্যাত, কলকাতা তার অংশ। আর গঙ্গারিডিদের সময়ে কলকাতার সামান্য উত্তরে চন্দ্রকেতুগড়ে ছিল গঙ্গারিডি সাম্রাজ্যের রাজধানী। সেনযুগেও বল্লাল সেনের একটি দানপত্রে কালীক্ষেত্রর উল্লেখ আছে, তা যে কলকাতা, সেটা নিয়ে সন্দেহ নেই। ইংরেজরা বাংলা দখল করে ১৭৫৭ সালে। ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব ১৭৬০ সালে। এ দুয়ের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে। বাঙালির সমৃদ্ধি বরাবরই ছিল, ইংরেজ আমাদের ছিবড়ে করতে এসেছিল, আমাদের আলাদিনের প্রদীপ দেখিয়ে রাতারাতি সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় নগরী বানাতে নয়। মধ্যযুগে সপ্তগ্রামের সমৃদ্ধি যা ছিল, তার কাছে লণ্ডন শহর ম্লান।

বাংলা চলচ্চিত্র ও মূলধারার হিন্দি চলচ্চিত্র কলকাতায় সমান জনপ্রিয়। শহরের ফিল্ম স্টুডিও টালিগঞ্জে অবস্থিত; এই কারণে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পকে "টলিউড" নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। সত্যজিৎ রায় কলকাতার একজন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক। ১৯৯১ সালে তিনি তার সারা জীবনের কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ অস্কার পুরস্কার পেয়েছিলেন। tতার জন্ম ও কর্মস্থল ছিল কলকাতা। সেই জন্য তার বহু ছবিতে কলকাতার জীবনযাত্রার ছবি ধরা পড়েছে। ১৯৭০-এর দশকে সত্যজিৎ রায় সমকালীন কলকাতাকে আর্থ-সামাজিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে নির্মিত তিনটি ছবি পরিচালনা করেছিলেন।

এগুলি হল প্রতিদ্বন্দ্বী , সীমাবদ্ধ ও জন অরণ্য । এই তিনটি ছবি "কলকাতা ট্রিলজি" নামে পরিচিত। সত্যজিৎ রায় ছাড়াও একাধিক কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালকের কর্মজীবন গড়ে উঠেছে এই শহরকে কেন্দ্র করেই। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মৃণাল সেন , তপন সিংহ, ঋত্বিক ঘটক  এবং আধুনিক চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, অপর্ণা সেন, গৌতম ঘোষ ও ঋতুপর্ণ ঘোষ  কলকাতার বিশিষ্ট চলচ্চিত্র অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উত্তম কুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় সুচিত্রা সেন, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, অপর্ণা সেন, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ।

কলকাতার উৎসবগুলি প্রকৃতিগতভাবে এই শহরে সর্বাধিক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়ে থাকে দুর্গাপূজা। দুর্গাপূজা কলকাতার বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব।প্রতিবছর বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে আশ্বিন-কার্তিক মাসে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। কলকাতার দুর্গাপূজা শহরের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণও বটে। হিন্দুদের অন্যান্য উৎসবগুলির মধ্যে লক্ষ্মীপূজা, কালীপূজা, জগদ্ধাত্রী পূজা, পৌষ সংক্রান্তি, সরস্বতী পূজা, শিবরাত্রি, দোলযাত্রা, পয়লা বৈশাখ, রথযাত্রা, জন্মাষ্টমী ও বিশ্বকর্মা পূজা;এবং অবাঙালি হিন্দুদের উৎসবগুলির মধ্যে দীপাবলি, ধনতেরস ও ছটপূজা সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামি উৎসবগুলির মধ্যে ঈদুল ফিতর, ঈদুজ্জোহা, মহরম, শবেবরাত ইত্যাদি; খ্রিষ্টান উৎসবগুলির মধ্যে বড়দিন ও গুড ফ্রাইডে; বৌদ্ধ উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা; জৈন উৎসব মহাবীর জয়ন্তী এবং শিখ উৎসব গুরু নানক জয়ন্তীও মহাসমারোহে পালিত হয়। 

ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম : এশিয়াটিক সোসাইটি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত দ্যা ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম হল এশিয়ার মধ্যে অন্যতম ও তাৎপর্যময় এক প্রাচীন জাদুঘর। মিশরীয় মমি, ডাইনোসর বা জীবাশ্ম কঙ্কালের যদি প্রত্যক্ষ দর্শন করতে চান তাহলে ঘুরে আসতে হবে কলকাতার এই ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম থেকে।

বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল মিউজিইয়্যাম : দক্ষিন কলকাতার ১৯ এ গুরুসদয় রোডে বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল মিউজিয়াম অবস্থিত। বিজ্ঞানের অজানা জানা ও বোঝার জন্য ছোট থেকে বড় সকলের ভালো লাগবে এই মিউজিয়াম।

রবীন্দ্র ভারতী মিউজিয়াম :    গিরিশ পার্কের কাছে চিত্তরঞ্জন এভিন্যিউ এ অবস্থিত বিখ্যাত রবীন্দ্র ভারতী মিউজিয়্যাম “ জোড়াসাকো ঠাকুরবাড়ি” নামেও পরিচিত যা মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ি। কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী মিউজিইয়্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আবিচ্ছেদ্য অংশ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সকল কাজকর্মের এক সংরক্ষণাগার,যা যেকারো ভালো লাগবে।

মাদার ওয়াক্স মিউজিয়াম :    কলকাতার নিউ টাউনে অবস্থিত ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদাম তুসো জাদুঘরের আদলে নির্মিত ভারতের প্রথম মোম শিল্পকর্মের জাদুঘর। এখানে ৫০টির ও বেশি খ্যাতনামা ব্যাক্তিদের মোমের মূর্তি আছে এই জাদুঘরে।

নেহেরু চিলড্রেন্স জাদুঘর :   শিশুদের নিয়ে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো একটি জায়গা হল নেহেরু চিলড্রেন্স জাদুঘর। রয়েছে নানা ধরনের গ্যালারি যেখানে আছে পুতুলের গ্যালারি, খেলনার গ্যালারি, রামায়ন ও মহাভারত গ্যালারি। মূলত শিশুদের বিনোদনের সাথে সাথে শেখার নানা উপকরনের দেখা মিলবে এই জাদুঘরে।

আশুতোষ মিউজিয়াম : কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্ত ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারতের শীর্ষস্থানীয় জাদুঘরগুলোর মধ্যে অন্যতম যেখানে ভারতের শিল্প কলা ও পুরাতত্ত্বের নানা কিছু সংরক্ষিত আছে।

কলকাতা মার্বেল প্যালেস : বাংলার শৌখিন জমিদার রাজা রাজেন্দ্র মল্লিক বাহাদূর ১৮৩৫ সালে নির্মাণ করেছিলেন প্রাসাদের মত বিরাট এক অট্টালিকা যা দেখলে পর্যটকদের নিঃসন্দেহে ভালো লাগবে।

ভিক্টোরিয়া মেমরিয়াল :  রানী ভিক্টোরিয়ার স্মরণে তাজমহলের ধাঁচে গড়ে তোলা সাদা মার্বেলের এক অনন্য ইমারত যার কারুকার্য যে কোনো পর্যটকদের চিন্তা শক্তি কে আবার নতুন ভাবে জাগ্রত করবে। 

হাওড়া ব্রিজ : “রবীন্দ্র সেতু” নামে পরিচিত কলকাতা বাসীদের কাছে প্রসিদ্ধ চমৎকার শৈল্পিক কারুকার্যময় একটি ব্রিজ। হুগলি নদীর উপর অবস্থিত কলকাতা ও হাওড়া শহরের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী সেতুগুলির মধ্যে অন্যতম।

প্রিন্সেস ঘাট : ১৮৮১ সালে জেমস প্রিন্সেপ এর স্মরণে হুগলী নদীর তীরে নির্মিত এই ঘাট যা ভ্রমণকারীদের কাছে জনপ্রিয়। কলকাতার সবচেয়ে পুরনো দর্শনীয় স্থানগুলির এটি একটি।

ফোর্ট উইলিয়াম : কলকাতা শহরের হুগলী নদীর তীরে অবস্থিত ফোর্ট উইলিয়াম একটি দুর্গ। প্রাচ্যে ব্রিটিশরাজের সামরিক শক্তির সবচেয়ে বড় নিদর্শন এই বিশাল অট্টালিকা কলকাতার একটি আকর্ষণীয় জায়গা।

রবীন্দ্র সদন : বাংলা থিয়েটার ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের এক অনন্য মিলনমেলা হল রবীন্দ্র সদন। বাঙ্গালি সমাজের এক প্রধান বিনোদনের উৎস এই রবীন্দ্র সদন যেখানে নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নানা ধরনের বিনোদনমূলক প্রদর্শনী দেখতে পারা যায়।

কলকাতা রেসকোর্স :   ১৮২০ সালে নির্মিত ভারতের সবচেয়ে বড় রেসকোর্স যা বিখ্যাত ঘোড়াদৌড়ের ক্ষেত্র। এখানে ভারতের সবচেয়ে গৌরবমণ্ডিত ঘোড়া দৌড় যেমন ক্যালকাটা ডার্বি ও রানী এলিজাবেথ কাপ নিয়মিত আয়োজিত হয়।

বোটানিক্যাল গার্ডেন :  শিবপুরে হুগলী নদীর তীরে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের উদ্দ্যোগে গড়ে উঠেছে এক নয়নাভিরাম পুস্প শোভিত বোটানিক্যাল গার্ডেন।

জুওলোজিক্যাল গার্ডেন : বিশাল প্রানি ভাণ্ডার নিয়ে গড়ে উঠা কলকাতার জুওলোজিক্যাল গার্ডেন যা এশিয়ার মধ্যে সর্বপ্রথম। বিশাল এলাকা ঘুরে ঘুরে প্রানিদের সমারোহ দেখতে ভালো লাগবে যেকারো।

আলিপুর চিড়িয়াখানা : আলিপুরে গড়ে উঠা এই চিড়িয়াখানায় আছে নানা ধরনের পশু পাখির অবস্থান।

এগ্রি- হর্টিকালচ্যার গার্ডেন : এটি মূলত উদ্দ্যান পালন সংক্রান্ত বাগান। এখানে রয়েছে গাছ গাছালি ও নানা উদ্ভিদের একটি বিশাল সংগ্রহশালা।

ইডেন গার্ডেন : ক্রিকেট দুনিয়ার এক বিখ্যাত স্টেডিয়াম। আরো আছেএকটি বার্মিস প্যাগোডা । পুরো ইডেন গার্ডেন ঘুরে দেখতে পছন্দ করবে সবাই।

কলেজ স্ট্রিট : বইপড়ুয়াদের জন্য একটি তীর্থস্থান। পাঠ্যবই থেকে শুরু করে বেষ্ট সেলার ও যাবতীয় নতুন পুরাতন বইয়ের দেখা মিলবে এখানে।

ন্যাশনাল লাইব্রেরি : শুধু কলকাতা না পুরো ভারত (India) বর্ষের মধ্যে সবচেয়ে বড় গ্রন্থাগার হল এই ন্যাশনাল লাইব্রেরি।

বেলুর মঠ : হুগলী নদীর তীরে অবস্থিত এই বেলুর মঠে রয়েছে স্বামী বিবেকান্দের বাড়ি ও নানা সাধকের সমাধি। এছাড়াও একটি প্রদর্শন শালা আছে যেখানে কিভাবে রামকৃষ্ণ মিশন তৈরি হয়ে সারা বিশ্বে সুনাম কুড়িয়েছে তা দেখা যায়।

হংসেশ্বরী মন্দির :   কলকাতা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য এক তীর্থস্থান। হংসেশ্বরী মন্দির রাজকীয় আবহে গড়ে উঠা এক অপূর্ব সুন্দর মন্দির। এটি কলকাতা শহরের সবচেয়ে কাছের ও জনপ্রিয় মন্দির।

কফি হাউজ : মান্না দের গানের স্মৃতি বিজারিত কফি হাউজ।

ট্রাম মিউজিয়াম ও ট্রামে ভ্রমন :   কলকাতায় ট্রাম শুরু হবার দিনের ইতিহাস ও তার খুঁটিনাটি নিয়ে এই মিজিয়াম। দেশের একমাত্র ট্রাম মিজিয়াম। রয়েছে ট্রামে করে ভ্রমণের মজার অভিজ্ঞতা যা কলকাতায় বেড়াতে এলে কেউ হাতছাড়া করতে চায় না।

  • নিকো পার্ক    বিশ্বের সর্বসেরা চিত্তবিনোদনমূলক পার্ক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
  • সায়্যন্স সিটি পার্ক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নানা বিষয় জানতে দু মারতে পারেন এই সায়্যন্স সিটি থেকে যা ভালো লাগবে নিঃসন্দেহে।
  • নলবল বোটিং কমপ্লেক্স   সবচেয়ে সুন্দর পিকনিকের জায়গা তবে নানা ধরনের নৌকায় চরে ভ্রমনের আনন্দ অনুভব করারও সুযোগ আছে।
  • ক্লাউন টাউন    শিশুদের পছন্দ মাথায় রেখে তৈরি করা শিশুদের ভালো লাগার মত একটি বিনোদন কেন্দ্র। এটি কলকাতার সর্বপ্রথম শিশু উদ্যান।
  • অ্যাকোয়াটিকা  রাজারহাটের কোচপুকুরে অবস্থিত একটি জলজ উদ্যান বা ওয়াটার পার্ক নামে পরিচিত।
  • ফান সিটি   দুর্দান্ত সব রাইডের সমন্বয়ে গড়ে উঠা এই অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ভালো লাগবে যেকারো।