চিকিৎসা করতেন মাত্র ৫ টাকায়, করোনায় প্রাণ গেল রোগী দের বন্ধু ডাক্তার হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের

চিকিৎসা করতেন মাত্র ৫ টাকায়, করোনায় প্রাণ গেল রোগী দের বন্ধু ডাক্তার হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের

আজবাংলা    করোনার বাড়বাড়ন্ত শুরু হওয়ার পরে নিজের কাছের মানুষদের ফোন করে চেম্বারে ডেকে পরীক্ষা করতেন। বার বার সাবধানও করতেন। শেষ পর্যন্ত করোনা-আক্রান্ত হয়েই প্রাণ গেল নৈহাটির জনপ্রিয় চিকিৎসক হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের।রাজ্যে ইতিমধ্যেই ২৫ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে করোনা আক্রান্ত হয়ে।

এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন হিরণ্ময় ভট্টাচার্য।১৯৭৮ সালে রহড়া রামকৃষ্ণ মিশন থেকে মাধ্যমিক পাশ করা প্রয়াত হিরন্ময়বাবু আইএমএ রাজ্য শাখার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে শুধু নৈহাটি নয়, রাজ্যের চিকিৎসক মহলেও গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

লকডাউনের সময়ে একেবারে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে ভয় না পেয়ে সংক্রমণকে দূরে সরিয়ে চেম্বার করতেন হিরণ্ময় ভট্টাচার্য। এক সময়ে মাত্র পাঁচ টাকার বিনিময়ে তিনি নৈহাটিতে রোগী দেখতেন। সে সময়ে পেশার জগতে তাঁকে প্রচুর সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছিল। কিন্তু বাবাকে দেওয়া কথা তিনি রেখেছিলেন।

তাই বাবার মৃত্যুর শেষ দিন পর্যন্ত তিনি পাঁচ টাকাতেই রোগী দেখেছেন। তবে গরীব মানুষ বা কোনো বন্ধুর মুখে একবার রোগীর  অবস্থার কথা শুনে নিলে রোগীর পরিবারের কাছ থেকে একটিও পয়সা নিতেন না। গত দু’বছর হল তিনি নৈহাটির তালপুকুর রোডের পুরনো বাড়ি ছেড়ে বেলঘড়িয়ার ডানলপে ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে ছিলেন।

কিন্তু প্রতিদিন নিয়ম করে নৈহাটিতে এসে রোগী দেখতেন।মূলত চেস্ট স্পেশালিস্ট হলেও জেনারেল ফিজিশিয়ান হিসাবে সাধারণ গরীব রোগীদের কাছে ‘ভগবান’ ছিলেন। শিশু চিকিৎসাতেও তাঁর সুনাম ছিল। লকডাউন হওয়ার পর কোভিডের ভয়ে যখন কেউ রোগী দেখেননি তখনও তিনি নিয়মিত চেম্বার করতেন।

এই অতিমারীর সময় একজন রোগীকেও ফিরিয়ে দেননি।নৈহাটির তালপুকুর এলাকার বাসিন্দা হিরণ্ময়বাবু রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের প্রাক্তনী। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে ডাক্তারি পাশ করে সরকারি হাসপাতালে চাকরির পাশাপাশি বাড়িতে রোগী দেখা শুরু করেন তিনি। ভালবেসে এলাকার অনেকেই তাঁকে ‘নৈহাটির বিধান রায়’ বলতেন।

তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে শনিবার রাতে বেলঘরিয়ার একটি নার্সিংহোমে ভরতি হয়েছিলেন। তার আগে ক’দিন ধরে জ্বর ছিল। সোমবার রাত ১০,৩০ নাগাদ পর পর দু’বার হার্ট অ্যাট্যাক হওয়ার ধাক্কা সামলাতে পারেননি প্রয়াত চিকিৎসক। দিন কয়েক আগে ব্যারাকপুর মহকুমারই শ্যামনগরে প্রদীপ কুমার ভট্টাচার্য নামে আরেক জনপ্রিয় চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হয়ে বাইপাসের মেডিকা হাসপাতালে প্রয়াত হন। তিনিও গরিবের ডাক্তার হিসাবে শ্যামনগরের মানুষের খুবই কাছের মানুষ ছিলেন।