নদীয়া জেলার দীর্ঘদিনের ডানপন্থী লড়াকু নেতৃত্ব কুমারেশ চক্রবর্তী প্রয়াত

নদীয়া জেলার দীর্ঘদিনের ডানপন্থী লড়াকু নেতৃত্ব কুমারেশ চক্রবর্তী প্রয়াত

শান্তিপুর    1947 সালের 10 ই আগস্ট শান্তিপুর বাগআঁচড়া গ্রামে ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ছাত্র অবস্থা থেকেই সক্রিয় রাজনীতির প্রতি তার আগ্রহ । আর এই সুবাদে সেই আমলে কংগ্রেস রাজনীতির বলিষ্ঠ নেতৃত্ব অধ্যাপক অসমঞ্জ দের অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং স্নেহের পাত্র হয়ে ওঠেন। তৎকালীন সময়ে বামপন্থী নেতৃত্ব বলতে লড়াকু অজিত দাস, এবং ডানপন্থী রাজনীতিতে কুমারেশ চক্রবর্তী, রাজনৈতিক প্রবল বিরোধিতা থাকলেও অত্যন্ত ভালো বন্ধুত্ব ছিল তাদের মধ্যে।

অসমঞ্জ দের মৃত্যুর পর  রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ  তার ভাই অজয় দে কে রাজনৈতিকভাবে অভিভাবক হিসেবে গড়ে তোলেন তিনি। তবে বিধায়ক মনোনীত হওয়ার পর থেকেই দূরত্ব বাড়ে কুমারেশ চক্রবর্তী সাথে, এবং সেই দূরত্ব আমৃত্যু থাকলেও, অজয় দে র মৃত্যুতে তিনি অত্যন্ত ভেঙ্গে পড়েন মানসিক দিক থেকে। তবে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী, তৎকালীন কংগ্রেসের রাজ্য স্তরের প্রায় সকল নেতৃত্ব এবং বর্তমান তৃণমূলের বেশকিছু নেতৃত্ব তার সাথে অত্যন্ত সু সম্পর্ক ছিল।Amazon-এ চলছে সেল

স্কুলে শিক্ষকতা পেশা বাদেও, লেখালেখি এবং অভিনয়ের আগ্রহ জানা যায় তার বন্ধুস্থানীয় দের কাছ থেকে। তবে রাজনীতিতে কোনদিনই তাকে সম্মান পেতে দেখা যায়নি , তবে দুবার কাউন্সিলর হিসেবে জয়ী হন বর্তমান বসবাসের  শান্তিপুর 13 নম্বর ওয়ার্ড থেকে। অধৈর্যবশত তিনি বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন বেশ কয়েক বছর আগে লোকসভা নির্বাচনে, এবং পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে ভোটের নিরিখে সেসময় অন্যতম সফলতা পেলেও জয়লাভ করতে পারেনি তিনি।

এরপর শান্তিপুর জাতীয় কংগ্রেস প্রার্থী অরিন্দম ভট্টাচার্য্য কে জেতানো মূল কারিগর ছিলেন তিনি। তবে অরিন্দম ভট্টাচার্য বিজেপিতে যোগ দিলেও তিনি রয়ে যান তৃণমূলেই। হার্টের সমস্যা তার অনেক দিনেরই,। চলতি মাসে তাকে দুবার, হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। গত 7 দিন আগে তাকে কলকাতায় একটি হাসপাতালে ভর্তি করালে, শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে আইসিইউ তে তার চিকিৎসা চলে। এরপর আজ সকাল এগারোটা নাগাদ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার স্ত্রী এবং এক কন্যা বর্তমান। শান্তিপুর সহ গোটা নদীয়া শোকোস্তব্ধ।Amazon-এ চলছে সেল