শান্তিপুরের ভাঙ্গা রাসের পরের দিন কুঞ্জভঙ্গর কথা

শান্তিপুরের ভাঙ্গা  রাসের পরের দিন  কুঞ্জভঙ্গর কথা

 শান্তিপুর:- সাধারণ ভাবে রাস বারোয়ারি কমিটিগুলোর কাছে রাস যাত্রা তিন দিনের অনুষ্ঠান হলেও শান্তিপুরের বিগ্রহ পরিবার গুলির কাছে রাস মূলত চার দিনের । রাস যাত্রার এই চতুর্থ তম দিন কুঞ্জ ভঙ্গের অনুষ্ঠান নামে পরিচিত । শান্তিপুরের  রাস মানে বৈষ্ণব ও সাক্তে র মিলন উৎসব হলেও মূলত রাধা ও কৃষ্ণের যুগল মূর্তির আরাধনা এবং তাদের প্রেম প্রীতি মূলক অনুষ্ঠান কে রাস লীলা বলা হয় ,

বৈষ্ণবীয় ইতিহাস সূত্রে জানা যায় রা সস্থলীতে একবার রাধা ও শ্রীকৃষ্ণের নৃত্যের প্রতিযোগিতায় শ্রীকৃষ্ণ পরাজিত হন রাধিকার কাছে ও অন্যদিকে রাধিকা জয় লাভ করেন সেই কারণে শ্রী কৃষ্ণের বাঁশী রাধিকার কোমরে বন্ধক হিসাবে হিসবে থাকে এবং শ্রী কৃষ্ণের মাথার মুকুট অর্ধনমিত থাকে এই উৎসব উপলক্ষ্যে । সাধারণ ভাবে রাধিয়ার বিজয়ের সপক্ষে উক্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবার রেওয়াজ রয়েছে প্রতিটি বিগ্রহ পরিবারে ।

শান্তিপুর অদ্বৈত মহাপ্রভুর সেবিত বিগ্রহ মদন গোপাল বাড়িতে মদন গোপাল এবং রাধিকাকে নিয়ে পরিবারের সদস্য ও ভক্ত বৃন্দ দের সাথে নিয়ে কীর্তন, বাজনা সহ নৃত্যরত দেখা গেলো প্রত্যেকেই । এই উৎসব কুঞ্জ ভঙ্গ নামে পরিচিত । বিগ্রহের নাচের সময় তাদের মাথায় ছাতা ধরা থাকে ।

এই অনুষ্ঠান শেষে ভক্ত বৃন্দেরা শ্রী কৃষ্ণ ও রাধিকার যুগল মূর্তিকে চামর দিয়ে বাতাস করার সু যোগ পান এবং একদম সামনে থেকেই  সরাসরি ভগবানকে দর্শন করতে পারেন । এবং সর্বোপরি রাধা কৃষ্ণের যুগল মূর্তির উদ্দেশ্যে ভোগ উৎসর্গ করে তাদের ঘরে তোলার রীতি বলবৎ রয়েছে ।