গর্ভবতী মহিলার সন্তান প্রসব, প্লেনের টয়লেট সিটে বসে

গর্ভবতী মহিলার সন্তান প্রসব,  প্লেনের টয়লেট সিটে বসে

আজবাংলা   আমাদের দৈনন্দিন জীবন কতই না বিচিত্র। কখন কি যে হতে পারে কিচ্ছু বলা যায় না। ঠিক তেমনই এক বিরল ঘটনা ঘটল গাইনোকোলজিস্ট শৈলজা ভি এর জীবনে। তিনি সারাজীবনেও ভুলতে পারবেন না হয়ত। গাইনোকোলজিস্ট শৈলজা ভি বেঙ্গালুরুর লোটাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অন্তঃসত্ত্বার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন।

এবারে তিনি একেবারে মাঝ আকাশে সন্তান প্রসবে সাহায্য করলেন এক মহিলাকে। ঘটনাটির সূত্রপাত হয় ইন্ডিগো ৬ই ১২২ দিল্লি-বেঙ্গালুরু ফ্লাইটে। ওই বিমানটি দিল্লি থেকে বিমান ছাড়ার পর থেকেই মোনিকা নামের এক বছর তিরিশের মহিলার হঠাৎ করেই তলপেটে ব্যথা শুরু হয়।

এরপর এই বিষয়টি তিনি বিমানকর্মীদের জানাতেই এক বন্দোবস্ত হয়। ওই ফ্লাইটের মধ্যেই উপস্থিত এক প্লাস্টিক সার্জন তাঁকে পরীক্ষা করেন। ওই উপস্থিত প্লাস্টিক সার্জন তাঁকে পরীক্ষা করে জানান, বিশেষ কিছু নয়। অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন উনি।

বলা রাখা দরকার, ওই প্লেনেই কিন্তু উপস্থিত ছিলেন শৈলজা। দিল্লি থেকে তিনি ফিরছিলেন বেঙ্গালুরুতে। এর কিছুক্ষণ পর যখন মোনিকা টয়লেটের দিকে এগোন। তখনই শৈলজার নজরে আসে ওই মহিলাটিকে। এরপর তিনি লক্ষ্য করেন, মহিলার রক্তপাত শুরু হয়েছে।

তখনই তাঁর ব্যাপারটা ধরতে দেরি হয়নি। তিনি তখন ভালই বুঝতে পারেন যে, মোনিকার শরীরের ভিতরে জল ভেঙে গিয়েছে। এইকারনে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রসব যন্ত্রণা। অতএব কিছুক্ষণের মধ্যেই সন্তানের জন্ম দিতে চলেছেন তিনি। শৈলজা আর দেরি না করে দ্রুততার সাথে নিজেকে স্যানিটাইজ করে নেন।

এরপর মোনিকাকে প্লেনের টয়লেট সিটে বসিয়ে দেন। তারপর শুরু হয় সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে নানা প্রক্রিয়া। এই বিষয়ে শৈলজা বলেছেন, শিশুটির মাথা বেরিয়ে আসা মাত্রই মোনিকার তলপেটে চাপ দিতে থাকেন। এরপর, যথাসময়ে মাতৃগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসে শিশুটি।

এর পরেই সামনে আসে আসল বিষয়টি। কেন না শিশুটি জন্মেছে প্রিম্যাচিওর। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট সময়ের আগে। এমন শিশুর জন্ম হলে তাকে রাখা হয়ে থাকে ইনটেনসিভ কেয়ারে। এখন প্লেনের মধ্যে এই বন্দোবস্ত তো নেই। এখন উপায় কি? এই অবস্থাতে, বিমানযাত্রীদের সাহায্য চান শৈলজা।

তিনি বিশেষ অনুরোধ করেন যার কাছে যা যা আছে শিশুর কাজে লাগবে এমন প্রয়োজনীয় জিনিস অর্থাৎ ডায়াপার, থেকে শুরু করে তোয়ালে, সাল, কাঁথা ইত্যাদি। তাঁরা যেন নিরদ্বিধা দান করেন। এরপরই, শৈলজার হাতের কাছে এগিয়ে আসে ডায়াপার, শাল, চাদর ইত্যাদি।

শিশুটির ওজন ১.৮২ কেজি। এই প্রসঙ্গে, শৈলজা জানিয়েছেন যে তিনি ক্যাঙ্গারু কেয়ার পদ্ধতির সাহায্য নিয়েছেন। এ কাজে বিমানযাত্রীরা আর কিছু করে উঠতে না পারলেও এগিয়ে দিয়েছিলেন নিজেদের হ্যান্ডব্যাগ, যাতে মোনিকার ঘাড়ে ব্যথা না হয়।

তবে, শিশুর নাড়ি কাটার সময়ে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল। কারন, হাসপাতালে ক্ল্যাম্প দিয়ে নাড়ি কাটা হয়। কিন্তু ফ্লাইটে তা ছিল না বলে নাড়ি কাটার পরেও রক্তপাত আটকাতে তাঁকে গজ ব্যবহার করতে হয়েছে। তবে এখন সুখবর হল, মা এবং শিশু খুব ভালো ও সুস্থ আছেন।