লাল চাল| জেনে নিন লাল চালের উপকারিতা

লাল চাল| জেনে নিন লাল চালের উপকারিতা

আমরা মাছে ভাতে বাঙালি। তাইতো দুই বেলা পাতে ভাত না হলে আমাদের চলেই না। ভাতের কথা মনে হলেই চোখে ভেসে ওঠে ঝরঝরে সাদা দানা। কিন্তু আমরা একটি ভুল ধারণা নিয়ে আছি। আসলে ভাতের রং সাদা হয় না, এটি প্রসেস করে সাদা করা হয়।চালের রং হয় লালচে বা ব্রাউন। চালের লাল অংশ হলো এর আবরণ।লাল চালে Red rice প্রচুর অ্যানথোসায়ানিন নামের অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট থাকে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, লাল চালে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। সেইসঙ্গে হজমশক্তি উন্নত করে। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতেও এটি সমান উপকারী। তাই সাদা ভাত নয়, লাল চালের ভাত খেলেই মিলবে উপকার। চলুন এবার জেনে নেয়া যাক লাল চালের ভাতের আরও কিছু উপকারিতা সম্পর্কে-

ওজন কমায়:-বাড়তি ওজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগলে আপনাকে নিয়মিত লাল চালের ভাত খেতে হবে। কারণ এই উপকারী ভাত খেলে তা শরীরে নানা জায়গায় জমে থাকা চর্বি ঝরাতে সাহায্য করে। এতে ওজন কমে, দূরে থাকে হৃদযন্ত্রের অসুখ।

ক্যান্সারের আশঙ্কা কমায়:-বিশ্বে ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এই মরণঘাতী রোগ থেকে দূরে থাকতে চাইলে নিয়মিত লাল চালের ভাত খান। এই ভাতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ক্যান্সার থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে কোলন ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের আশঙ্কা কমায় এই চালের ভাত।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি কমায়:-  লাল চালে আছে পর্যাপ্ত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি রক্তে থাকা ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। 

ডায়াবেটিস দূরে রাখে:- বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গেছে, লাল চালে Red rice থাকা ফাইবার, পলিফেনল এবং পাইটিক অ্যাসিড আমাদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু সাদা ভাত খেলে এর উল্টোটা ঘটে।

হজম ক্ষমতা বাড়ায়:- নিয়মিত লাল চালের ভাত খেলে তা আমাদের শরীরে ফাইবারের ঘাটতি দূর করতে সাহায্য করে। এটি হজম ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। লাল চালে একটা সমস্যা থাকতে পারে যদি সেটা আর্সেনিকপ্রবণ এলাকায় উত্পাদিত হয়। ধানগাছ খুব সহজেই মাটি ও পানি থেকে আর্সেনিক শুষে নেয়।ধান থেকে খোসা ছাড়ানোর পর তৈরি লাল চালে আর্সেনিক–দূষণের আশঙ্কা বেশি।চাল সাদা করার সময় লাল চালের কয়েক পরত আবরণ উঠে যায়। ফলে আর্সেনিকের মাত্রা সাদা চালে কম।