শহরের কোলাহল ছেড়ে ঘুরে আসুন   বেথুয়াডহরী বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য থেকে

শহরের কোলাহল ছেড়ে ঘুরে আসুন   বেথুয়াডহরী বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য থেকে

শহরের কোলাহল ছেড়ে একটুকরো সবুজের খোঁজ পেতে ঘুরে আসুন নদিয়া জেলায় অবস্থিত  বেথুয়াডহরী বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য থেকে। ১৯৮০ সালে এটি সরকারিভাবে বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষিত হয়।এই অভয়ারণ্যর   মোট আয়তন ১.২১ বর্গকিমি।নদীয়া জেলায় অবস্থিত বিস্তৃত এই জঙ্গলে প্রতিনিয়ত সুখ দুঃখ ভাগ করে চলেছে নানা রঙের নানা ধরণের সব পশুপাখি। টুনটুনি,দোয়েল, বাঁশপাতি,  মোহনচূড়া,  মাছরাঙ্গা, কোকিল, শালিক ইত্যাদি পাখির দেখা মিলবে এই অভয়ারণ্যে। আর পশু বলতে, হরিণ, মেছো কুমির প্রভৃতি।  

জঙ্গলের মাঝ দিয়ে চলে গেছে সোজা রাস্তা বেয়ে হাঁটতে হাঁটতে দেখতে পাবেন  ভিন্ন রঙের প্রজাপতি। কিছুটা পথ অতিক্রম করলে নজর পড়বে পাখনা মেলে রেখেছে কত গুলো ময়ূর। অরণ্যের সৌন্দর্যতাকে দ্বিগুন করে তুলতে বদ্ধ পরিকর তারা। এছাড়া এই অরণ্যে রয়েছে একটি কচ্ছপ ভরা পুকুর। এখানে ঘুরতে এলে দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এর নামে নামাঙ্কিতএকটি মিউজিয়ামেরও দেখা পাবেন আপনি । এই মিউজিয়ামে মূলত প্রাণী সংরক্ষনের বিষয়ে অলংকৃত। এছারাও এই জঙ্গলে  চিত্রা হরিণ, বেজী, খরগোশ দেখা যায়।

সরীসৃপদের ভেতরে দেখা যায় অজগর, গুই সাপ এবং ঘড়িয়াল। এখানে শাল, সেগুন, মেহগনি হিজল, অর্জুনের, গাব, টুন, নাগকেশর, পিয়াশাল, হামজাম ইত্যাদি গাছ রয়েছে। চিত্রা হরিণ বেথুয়াডহরি বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্যের মূল আকর্ষণ। সবুজে মোড়া বনে রাজার মতো ঘুরে বেড়ায় অজগর। একদিকে শিয়াল, পরকুপাইন, তো অন্যদিকে নানা রংয়ের পাখি এই অভয়ারণ্যকে ভরিয়ে রেখেছে। শিয়ালদ থেকে লোকাল ট্রেনে বেথুয়াডহরি পৌঁছতে দুই ঘণ্টার কিছু বেশি সময় লাগে। সেখান থেকে টোটো, রিক্সা কিংবা গাড়িতে পৌঁছে যাওয়া যায় অভয়ারণ্যে।