সামনেই পুজো, কিভাবে নিজেকে স্লিম এবং ফিট রাখবেন দেখে নিন

সামনেই পুজো, কিভাবে নিজেকে স্লিম এবং ফিট রাখবেন দেখে নিন

আজ বাংলা: আর কয়েকদিন...তারপরেই দুর্গাপুজো। আর দুর্গাপুজো এসে গেছে মনে একটু রূপচর্চা করতে তো হবেই। তাছাড়া ওজন যদি বেড়ে গিয়ে থাকে সেটা কমাতে হবে।

কারণ নিজেদের পছন্দসই জামা তো পরতে হবে নাকি। তাই আসুন জেনে নিন কিভাবে ওজন কমাবেন।

১) ওজন কমাতে চাইলে প্রথমেই, ভালো মতো চিবিয়ে খাওয়া জানতে হবে। গবেষণায় জানা যায়, খাবার যত চিবিয়ে খাওয়া হয় ক্যালরি তত দ্রুত ভাঙতে সহায়তা করে।

এক গবেষণায় জানা গেছে, যারা খাবার ভালো মতো চিবিয়ে খায় না তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশই প্রায় দ্বিগুণ খাবার গ্রহণ করেন।

২) পর্যাপ্ত প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খান। কার্বোহাইড্রেট ও চর্বির চাইতে প্রোটিন বেশি সময় পেট ভরা অনুভূত রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও, এটা পেশি গঠন, চর্বি পোড়ানো এবং একই সময়ে পেট ভরা অনুভূত হতে সহায়তা করে। সকালে প্রোটিন সমৃদ্ধ নাস্তা করা ভালো। এতে সারাদিন ভালোভাবেই অতিবাহিত হয়।

বিজ্ঞানীদের মতে, যারা সকালের নাস্তায় ডিম রাখে তারা অন্যদের তুলনায় দুই তৃতীয়াংশ পরিমাণ বেশি ওজন কমাতে সক্ষম হন। তবে ডিম অবশ্যই ভাজার পরিবর্তে সেদ্ধ, পোচ, বা ‘স্ক্রাম্বল’ করে খেতে হবে। ডিম ভাজা কেবল শরীরে বাড়তি চর্বি যোগ করে। 

৩) চকলেটের প্রতি আকর্ষণ থেকে থাকলে কাগজে মোড়ানো থাকে এমন একটা ক্যান্ডি বা চকলেট খেতে পারেন। এতে বাড়তি চকলেট খাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে- এমনটাই জানা গেছে ‘নিউট্রিশনাল জার্নাল অ্যাপেটাইট’ থেকে।

৪) ফল রাখুন সবসময়। শরীরচর্চা, বাজার করা এমনকি বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও যদি ক্ষুধা অনুভূত হয় তাহলে ফল খেয়ে নিন। এটা শক্তি যোগাবে। পাশাপাশি বাইরের মিষ্টি-জাতীয় খাবারের প্রতি ঝোঁক কমাবে।

৫) খাবারের পরে দাঁত ব্রাশ করে নিন। বিশেষ করে বিকালের নাস্তার পর। কারণ পেস্টের ‘মিন্ট’ স্বাদ মিষ্টি-জাতীয় খাবারের আগ্রহ কমায়। তাছাড়া ব্রাশ করার পরে কোনো খাবার বা পানীয় সুস্বাদু লাগে না। এতে খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমে।

৬) শুনতে অবাক লাগলেও নিজেকে নিয়ে যদি খুব বেশি অসুখী হয়ে থাকেন তাহলে নিজের অন্তর্বাসে একটা ছবি তুলে রাখুন, এটা আপনাকে অতিরিক্ত খাবার থেকে বিরত রাখবে এমন ওজ়ন কমাতে অনুপ্রেরণা দিবে। বাড়তি খাবারের আগ্রহ জাগলে এই ছবির কথা আগেই মাথায় আসবে।

৭) খাওয়া শেষ হওয়ার পরে বাড়তি খাবার যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফ্রিজে তুলে রাখুন। অন্যথায় মজার বা পছন্দের খাবার সামনে থাকলে তা আবার খেতে ইচ্ছা হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে করে যেমনি খাবার বেশি খাওয়ার ঝুঁকি কমে যায় তেমনি পরদিন আবার পছন্দের খাবারটি পাওয়ার সুবিধাও রয়ে যায়।

৮)  পছন্দের খাবার বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কোনো কিছু বাদ দিতে চাইলে তার প্রতি আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। সব সময় স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে মাঝে মধ্য পছন্দের খাবার খাওয়া যেতেই পারে। তবে তা যেন পরিমাণে খুব বেশি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

খাবারে মসলা যোগ করুন। মসলা বা মরিচের গুঁড়া খাবারে যোগ করা মানে কেবল স্বাদ বৃদ্ধি না বরং এটা পেটভরা অনুভূতি দিতে সাহায্য করে।

৯) খাবারে বর্ণের বৈচিত্র্য আনুন। বর্ণের বৈচিত্র্য অর্থাৎ রঙিন খাবার বলতে বোঝায় তাজা ফল ও সবজি। নানারকম শাক, লাল ও হলুদ ফল এবং সবজি খাওয়া চোখ ও শরীরের জন্য উপকারী।