দেখে আসুন বাংলার সোনালী গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন !! সাক্ষী থাকবে অন্যতম পৌরাণিক জাগ্রত মন্দির।

দেখে আসুন বাংলার সোনালী গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন !! সাক্ষী থাকবে অন্যতম পৌরাণিক জাগ্রত মন্দির।

আজ বাংলা : আমাদের কলকাতার কাছেপিঠেই দীঘা ,পুরী, দার্জিলিঙ ছাড়াও এমন কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে একবার শান্তি খুঁজে পেলে বারবার ছুটে যেতে ইচ্ছা করে।  এবারের শান্তির খোঁজে যেতে পারেন বাংলার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন গনগনি । পশ্চিম মেদিনীপুরের নদীখাত হয়ে উঠে এসেছে এই অঞ্চলটি বাংলার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ।

শিলাবতী নদী বয়ে যাওয়ার রাস্তা নির্মাণ করতে গিয়ে তৈরি করে ফেলেছে এক অপূর্ব ভূমিরূপ । এই নদী খাদে শিলাবতী নদী বাতাস এবং জলের সাথে তার নানারকম ক্ষয়কার্য চালিয়ে সৃষ্টি স করেছে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক ভাস্কর্য যা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবেনা । এই কারুকার্যের রূপ আরো বেশি খুলে ওঠে যখন সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের সমস্ত লাল রশ্মি প্রতিফলিত হয়ে লাল আভায় মুরে ওঠে এই ভূমিরূপ । 

পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহল খুব নামকরা এখানে শালগাছের আধিপত্য দেখলে চমকে যাবেন । সর্বকালের চিরসবুজের এক দেশ হিসেবে পরিচিত পশ্চিম মেদিনীপুর জঙ্গলমহল।  এই দেশের মধ্যে উপরি পাওনা হলো লালচে আভায় মেতে ওঠা প্রাকৃতিক ভাস্কর্যের দেশ গনগনি ।  সব মিলিয়ে রোমাঞ্চকর এক পরিবেশে দুদিন কাটিয়ে আসলে দৈনন্দিন কাজের চাপে হারিয়ে যাওয়া শান্তিটুকু হয়তো ফিরে পাওয়া যায় । 

আবার লোকের মুখে শোনা যায়  শিলাবতী নদীর তীরে গড়ে ওঠা অপরূপ গনগনির নাকি এক পৌরাণিক ইতিহাসও ব্যাখ্যা করা আছে । পুরান মতে জানা যায় মহাভারতের পঞ্চপান্ডব এর ভীম নাকি বকাসুর কে এখানে বধ করেছিল । তাদের যুদ্ধের সময় ই নাকি সৃষ্টি হয়েছিল এই রোগ ভূমিকার্য । বাংলা গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন নামে অভিহিত গনগনি তে পৌঁছাতে হলে যেতে হবে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে লাল মাটির রাস্তা ধরে সত্যিই এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি সৃষ্টি হবে সেই মুহূর্তে।  তারপর শিলাবতী নদীর ধারে পৌঁছালে দেখা যাবে অপরূপ প্রাকৃতিক ভাস্কর্য যুক্ত এই গনগণিকে ।

নদীর ধার দিয়ে চলে গেছে এক ছোট্ট সিঁড়ি সেই সিঁড়ি বেয়ে নেমে গেলে পৌছে যাবেন অন্য এক জগতে । কিছুক্ষণের জন্য যেন বাস্তব থেকে আপনি চলে যাবেন কোন এক পুরানে।  চারপাশে মাটি পাথর দিয়ে নির্মিত প্রাসাদের রুপ ভাস্কর্য । মনে হবে যেন চারপাশে ভাঙ্গা গুহা এবং ভাঙা দুর্গ দিয়ে ঘেরা মধ্যখানে আপনি দাঁড়িয়ে আছেন।  সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত কালীন সোনালী হয়ে ওঠে ভূমিরূপ । এই লালচে সোনালী গনগনি কে দর্শন করতে ভিড় জমে বহু পর্যটক এর । তাই একে আখ্যা দেওয়া হয়েছে বাংলার অন্যতম গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন। 

এছাড়াও এখানে রয়েছে সর্বমঙ্গলা মন্দির । অনেক প্রাচীন এই মন্দির এবং খুব জাগ্রত । উড়িষ্যার স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত এই মন্দিরে আপনার মনস্কামনা পূর্ণতা করে বলে জানা যায় । প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মোড়া এই ভুমিরূপে আপনি এসে পৌঁছালে বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন তো বটেই । 

কিভাবে যাবেন ?? : ট্রেন ও সড়কপথ দুভাবেই যাওয়া যায় । সাঁতরাগাছি থেকে রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস এবং অরণ্যকে এক্সপ্রেস করে যেতে হবে গরবেতা রেলস্টেশন । সেখান থেকেই অটো অথবা গাড়ি আপনি পৌঁছে যেতে পারবেন গনগনি । আর কলকাতা থেকে আপনি গাড়ি করে সড়ক পথের মাধ্যমে ঘাটাল চন্দ্রকোনা রোড হয়ে পৌঁছে যেতে পারবেন গরবেতা । গরবেতা থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বাংলার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন গনগনি । কোথায় থাকবেন ? : গণগণিতে থাকার কোন জায়গা নেই । থাকার জায়গা আছে গরবেতায়।