দুদিন কাটিয়ে আসুন প্রকৃতির সবুজ সংসারের মাঝে ভালোপাহাড় থেকে ।

দুদিন কাটিয়ে আসুন প্রকৃতির সবুজ সংসারের মাঝে ভালোপাহাড় থেকে ।
Bhalopahar , Purulia

আজ বাংলা : যদি আমরা হঠাৎ করেই পৌঁছে যাই ভালো পাহাড়ে ব্যাপারটা ঠিক মন্দ হবে না তাই না! ভালোপাহার জায়গাটির রূপকার এখন মানস প্রতীক কমল চক্রবর্তী একাধারে তিনি কবি লেখক নাট্যকার এবং তার সাথে প্রকৃতিপ্রেমিক। এই মানুষটার হাত ধরে একটা সামান্য নাম-না-জানা পাথুরে জমি পরিণত হয়ে উঠেছে ভালোপাহারে। ভালোপাহাড় ঘেরা শুধুমাত্র সবুজ দিয়ে । ভালো পাহাড়ের চারদিকের সবুজে সবুজে ছেয়ে গেছে আম , জাম , কাঁঠাল, আতা, পেয়ারা, সবেদা, নারকেল , কুল সহ সমস্ত ফলের গাছে।

এছাড়াও চারিদিকে বিস্তৃত জমিতে পড়ে রয়েছে সেগুন, নিম , সোনাঝুরি , অর্জুন , মেহগিনি, বট , অশ্বত্থ, সুন্দরী, চন্দন , এলাচ-দারুচিনি, গোলমরিচ , আমলকি বিভিন্ন প্রকারের গাছ। পুরুলিয়ার এই মালভূমি আদিবাসীদের অঞ্চল বলে পরিচিত । দৈনন্দিন কঠিন জীবনযাত্রা থেকে একটু মুক্তি পেতে এই মালভূমিতে এসে পৌঁছালে দেখা যাবে পাথুরে জমিতে গাছ, ফুল, ফল পাখিরা ভালবেসে সংসার করে তুলেছে ।

আর এই সংসারকেই  প্রকৃতিপ্রেমী নাট্যকার এবং লেখক কমল চক্রবর্তী ভালোপাহাড় নামে পরিচয় ঘরটায় পর্যটকদের কাছে । এই ভালো পাহাড়ের জমিতে বিদেশ  থেকে আনা পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ধান ফলনের চেষ্টা চলছে । সবুজে, ফলে পাখির কলরবে মোড়া এই প্রকৃতির মাঝে অতি সাধারন ভাবে দুটো দিন কাটাতে বেশ ভালোই লাগবে।

পাশেই রয়েছে ছোট্ট আদিবাসী গ্রাম সেখানকার গ্রাম্য জীবন যাপন আপনাকে কিছুটা আবেগপ্রবণ করে তুলতে পারে । এখানে সমস্ত বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় সৌর শক্তির মাধ্যমে।  তবে যদি পূর্ণিমার রাতে এসে পৌঁছান তাহলে আর বিদ্যুতের প্রয়োজন মনে হবে না সে এক অনবদ্য মুহূর্ত তৈরি হবে ।

পূর্ণিমার চাঁদের আলো মিশে গিয়ে গাছের পাতার ছায়ারা সারারাত মাটিতে নানা আকারের আলপনা প্রদর্শন করবে আপনার চোখ জুড়িয়ে উঠবে । পাশেই আদিবাসী গ্রাম থেকে পাহাড় ডিঙিয়ে মাঝে মাঝে ভেসে আসবে মাদলের বোল । সব মিলিয়ে দুদিন মন্দ কাটবে না ভালোপাহাড়ে প্রকৃতির এই সংসারে । 

কিভাবে যাবেন! হাওড়া থেকে ট্রেনে গালুডি স্টেশন সেখান থেকে অটো অথবা গাড়িতে ভালোপাহার কুড়ি কিলোমিটার ঘাটশিলা থেকে ৩০ কিলোমিটার । 

থাকার জায়গা ! ভালোপাহার গেস্টহাউস রয়েছে এখানে ।