চলুন ঘুরে আসা যাক মায়াপুর ইসকন মন্দির ও নবদ্বীপ ধাম থেকে

চলুন ঘুরে আসা যাক মায়াপুর ইসকন মন্দির ও নবদ্বীপ ধাম থেকে

আজবাংলা             মায়াপুর পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলায় অবস্থিত একটি গ্রাম ও পশ্চিমবঙ্গের একটি পর্যটন কেন্দ্র ৷  ভাগীরথী নদীর পূর্বপাশে অবস্থিত এই মায়াপুর। মায়াপুরের কাছেই জলঙ্গী নদী মিশেছে ভাগীরথী নদীতে । মায়াপুর শব্দটি মিঞাপুর শব্দ থেকে উদ্ভূত হয়েছে। মুসলিম অধ্যুষিত এই স্থানটি বিশেষত মুসলিম জেলেদের বসতির জন্য পরিচিত ছিল। পরবর্তীকালে বিংশ শতাব্দীতে ভক্তিবিনোদ ঠাকুর এই স্থানটিকে মায়াপুর নামে প্রচার করেন। 

লকডাউনে কোপ পড়েছিল মায়াপুরের ইসকন মন্দিরেও | দীর্ঘদিন মন্দির বন্ধ থাকার পর সর্বসাধারণের জন্য খুলে গিয়েছে মায়াপুরের ইসকন মন্দির | এখানে ইসকন (আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ) প্রতিষ্ঠিত চন্দ্রোদয় মন্দির রয়েছে। এই মন্দিরের অনেক সেবক শ্বেতাঙ্গ, যারা ইউরোপ ও আমেরিকার নানা দেশ থেকে এসে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছেন | 

মায়াপুর কলকাতার সাথে সড়কপথে যুক্ত। নিকটবর্তী রেলস্টেশন গঙ্গার অপর পাড়ে নবদ্বীপ ধাম। এছাড়া কলকাতার শিয়ালদহ রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনে কৃষ্ণনগর এসে সেখান থেকে বাসে মায়াপুর পৌঁছনো যায়। মায়াপুরের প্রধান উৎসবগুলি হল চন্দনযাত্রা, স্নানযাত্রা,রথযাত্রা , ঝুলনযাত্রা ,জন্মাষ্টমী , রাধাষ্টমী, রাসযাত্রা, শ্রীল প্রভুপাদের ব‍্যাসপূজা, দোলযাত্রা প্রভৃতি। 

অন্যদিকে নবদ্বীপ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নদিয়া জেলার একটি সুপ্রাচীন শহর ও পৌরসভা এলাকা। নবদ্বীপ চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান ও লীলাক্ষেত্রর জন্য বিখ্যাত। নবদ্বীপ পৌরসভা ১৮৬৯ সালে স্থাপিত। নবদ্বীপ নামের উৎস সম্বন্ধে নানা ধারনা প্রচলিত আছে। নবদ্বীপ ও নদিয়া এই দুটি নামই এই জনপদে প্রচলিত। এই শহর বহু বার বৈদেশিক আক্রমণের শিকার হয়েছে, যার ফলে উচ্চারণের বিকৃতির মাধ্যমে নদিয়া ও নবদ্বীপ সম্পর্কযুক্ত হতে পারত, যদিও তা হয় নি। নবদ্বীপ, 'নূদীয়া' 'নওদিয়া'বা 'নদীয়াহ' হয়েছে ভাষান্তরের জন্য। নবদ্বীপ নামটির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় কৃত্তিবাস ওঝার রামায়াণে। 

চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্ম পঞ্চদশ শতাব্দীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। চৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাবে নবদ্বীপে বৈষ্ণব সংস্কৃতি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। বুনো রামনাথ, শঙ্কর তর্কবাগীশ প্রমুখ নৈয়ায়িক অষ্টাদশ শতকে ন্যায়চর্চায় নবদ্বীপের নাম উজ্জ্বল করেছিলেন। নদিয়া রাজপরিবারের মহারাজ রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সময়ে নবদ্বীপে শক্তি পূজার প্রসার ঘটে। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় এবং পরবর্তীতে রাজা গিরীশচন্দ্রের সময়ে নবদ্বীপে শাক্তরাসযাত্রার জনপ্রিয়তা ও জৌলুস বৃদ্ধি পায়। এই সময়ে নবদ্বীপে বিভিন্ন মন্দির-প্রতিমা প্রতিষ্ঠিত হয়। 

রথযাত্রা ওড়িশার প্রধান উৎসব হলেও চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্য নবদ্বীপের রথযাত্রার গর্ব রয়েছে। প্রায় ২০-২৫ টি রথ এই উপলক্ষে বের হয়। এখানে ভগবান জগন্নাথের সম্পূর্ণ হাতযুক্ত বিগ্রহের ব্যতিক্রমী উদাহরণ পরিলক্ষিত হয়। এখানে রথযাত্রার আরেকটি বিশেষত্ব হ'ল "নটকনা" নামক একটি ফল, যা বিশেষত এই সময়ে পাওয়া যায়।