ছোট আঙারিয়া মূল সাক্ষী বক্তার মণ্ডলের মৃত্যু

ছোট আঙারিয়া মূল সাক্ষী বক্তার মণ্ডলের  মৃত্যু

মারা গেলেন ছোট আঙারিয়া কাণ্ডের প্রধান সাক্ষী বক্তার মণ্ডল। রবিবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। শোকের ছায়া গড়বেতার ছোট আঙারিয়ায়। ২০০১ সালের ৪ জানুয়ারি গড়বেতার ছোট আঙারিয়ায় গণহত্যার ঘটনা ঘটেছিল। সেদিনের সেই ঘটনায় পাঁচ তৃণমূল-কর্মী জয়ন্ত পাত্র, মোক্তার খাঁ, রবিয়াল ভাঙ্গি, হায়দর মণ্ডল ও মুক্ত পাত্রকে হত্যা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

সেই ঘটনার দিন তৃণমূল নেতা বক্তার মণ্ডলের বাড়িতে তৃণমূলের বৈঠক চলাকালীন আগুন ধরিয়ে দেয় একদল দুষ্কৃতী। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান পাঁচ তৃনমূল কর্মী। ঘটনায় অভিযোগের তির CPIM -এর দিকে। সেই মামলা এখনও বিচারাধীন। ওই ঘটনারই প্রধান সাক্ষী ছিলেন বক্তার মণ্ডল। ২০০১ -এর ঘটনার পর থেকে নিয়ম করে প্রতি বছর ওই দিনটিকে ছোট আঙারিয়া দিবস হিসেবে পালন করে তৃণমূল।

 ছোট আঙারিয়া মামলায় একাধিকবার বক্তার মণ্ডলের সাক্ষী দেওয়ার ঘটনায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। প্রথমবার তৎকালীন শাসকদল CPIM- এর খুনের হুমকি ও চাপের মুখে মিথ্যে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা আদালতে স্বীকার করে নিয়েছিলেন বক্তার মন্ডল নিজেই। গড়বেতার ওই গ্রামে তৃণমূলের পাঁচ কর্মীকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে CPIM- এর উপরে। ওই এলাকার দুই CPIM নেতা তপন ঘোষ ও সুকুর আলি-সহ অন্য অভিযুক্তরা বক্তারের দেওয়া সাক্ষ্যের ফলে বেকসুর খালাস হয়েছিলেন।  

তবে ২০১৩ সালে ওই মামলায় পুনরায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে বক্তার জানান, তাঁর চোখের সামনেই ছোট আঙারিয়া গ্রামে পাঁচ তৃণমূল-কর্মীকে খুন করা হয়েছিল। পাঁচ বছর আগে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময়ে তিনি বাধ্য হয়ে মিথ্যে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, সে কথাও জানান। তবে সেই মামলার নিষ্পত্তি দেখে যেতে পারলেন না বক্তার মণ্ডল।

উল্লেখ্য, ছোট আঙারিয়া কাণ্ডের পর থেকেই ৪ জানুয়ারি শহিদ স্মরণ পালন করে রাজ্যের বর্তমান শাসক দল। ২০২১ -এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের পাশাপাশি BJP -ও ওই দিনটিতে 'শহিদ স্মরণ' করেছিল। কিন্তু, বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সেই ছবি পালটে যায়। এ বছর করোনার কারণে ছোট করেই 'শহিদ স্মরণ' করে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এ বছর BJP নেতারা আর ওই দিনে 'শহিদ স্মরণ' করতে যাননি গড়বেতায়।