গণপ্রহারে মৃত শ্রমিকের পরিবারে সঙ্গে দেখা করলেন সাংসদ খগেন মুর্মু

গণপ্রহারে মৃত শ্রমিকের পরিবারে সঙ্গে দেখা করলেন সাংসদ খগেন মুর্মু

 তনুজ জৈন    হরিশ্চন্দ্রপুর : মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের গণপ্রহারে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় মঙ্গলবার নতুন মোড় নিল। ব্যাঙ্গালোর থেকে ফিরেই মঙ্গলবার মালদা থেকে গাড়ি করে সরাসরি হরিশ্চন্দ্রপুরে আসলেন উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। তিনি এলাকার দলীয় কর্মী সমর্থকদের নিয়ে সরাসরি এদিন হরিশ্চন্দ্রপুরের মালিওর গ্রামে ছুটে যান।

প্রতাপের বাবা-মায়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এবং দলীয় স্তর থেকে প্রতাপের ব্যাপারে সমস্ত আইনি সহায়তা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন সাংসদ খগেন মুর্মু। এদিন তিনি প্রতাপের শ্রাদ্ধ শান্তির জন্য পরিবারের হাতে বেশ কিছু সাহায্য তুলে দেন। এই পরিবারটিকে আশ্বাস দেন আগামীতে পাশে থাকার।

এদিন সংসদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গের বিজেপির আইটি সেলের প্রধান নীলাঞ্জন দাস, জেলা সাধারণ সম্পাদক কিষান কেডিয়া, মন্ডল সভাপতি রুপেশ আগরওয়ালা সহ অন্যান্য নেতৃত্ববৃন্দ। প্রসঙ্গত সপ্তাহ দুয়েক আগে হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার মালিওর গ্রামে এক পরিযায়ী শ্রমিক বছর চব্বিশের প্রতাপ মন্ডল কে গভীর রাত্রে ডেকে নিয়ে গিয়ে চোর বদনাম দিয়ে খুন করা হয়। তারপর থেকে উত্তপ্ত হরিশ্চন্দ্রপুর। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপি এলাকায় মোমবাতি মিছিল ও মৌন মিছিল করে।

পরিবারটির সঙ্গে দেখা করতে কলকাতা থেকে ছুটে আসেন বিজেপি রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু। তিনিও এই ঘটনার পর সমালোচনা করেছিলেন। উত্তর মালদার সংসদ খগেন মুর্মু এলাকায় এসে পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে ও আইনি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া তে ঘটনা আবার নতুন মোড় নিল। এদিন মৃত শ্রমিকের পরিবারে সঙ্গে দেখা করে সাংসদ খগেন মুর্মু সরাসরি চলে যান হরিশ্চন্দ্রপুর থানায়। সেখানে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সঞ্জয় কুমার দাসের সঙ্গে দীর্ঘক্ষন শ্রমিক মৃত্যুর ব্যাপারে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন।

থানা থেকে বেরিয়ে এসে তিনি পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি জানান আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করি। অভিযুক্তরা যে দলের সমর্থক হন না কেন তাদের জন্য রেয়াত করা না হয়। এইভাবে একজন ছেলেকে চোর অপবাদ দিয়ে মেরে ফেলা হলো এটা কখনই সমর্থন করা যায় না। অত্যন্ত বর্বোরোচিত নিন্দনীয় ঘটনা। আমরা চাই দোষীদের সাজা হোক। শুনতে পেলাম ১৯ জনের নামে অভিযোগ হয়েছে। কিন্তু এতদিনে মাত্র তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে এত ঢিলেমি কেন এই নিয়ে সরব হয়েছেন সাংসদ খগেন।

তিনি আরো জানান বিজেপি ওই পরিবারের পাশে আছে। আমরা সব রকম আইনি সহায়তা এই পরিবারটিকে দেব। কিন্তু ঘটনা এত দিন কেটে গেল বাকি অভিযুক্তদের ধরতে কেন এত দেরি হচ্ছে এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংসদ খগেন মুর্মু। এ প্রসঙ্গে মৃত শ্রমিকের মা সঞ্জু মন্ডল জানান আজ আমাদের সঙ্গে দেখা করতে। উনি আমাদের সাহায্যের আশ্বাস দিলেন। পাশাপাশি কিছু সাহায্য করলেন। আমি চাই আমার ছেলেকে যারা মেরেছে তাদের শাস্তি হোক।