যোগাদ্যা শক্তিপীঠ | ৫১ সতী পীঠের অন্যতম সতী পীঠ ক্ষীরগ্রাম যোগাদ্যা শক্তিপীঠ

যোগাদ্যা শক্তিপীঠ |  ৫১ সতী পীঠের অন্যতম সতী পীঠ  ক্ষীরগ্রাম যোগাদ্যা শক্তিপীঠ

আজবাংলা        মা যোগাদ্যা সনাতন ধর্মের ৫১ সতী পীঠ-এর মধ্যে অন্যতম একটি পীঠস্থান। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে এখানে সতীর আঙুলসহ ডান পায়ের পাতা পড়েছিল। মা যোগাদ্যা-র বিগ্রহ এবং মন্দির বর্ধমান জেলার কাটোয়া-র কাছে ক্ষীরগ্রাম-এ অবস্তিত। বিগ্রহ টি কালো পাথর দিয়ে তৈরি। বিগ্রহ টি সারা বছর জলের নীচে থাকে এবং প্রতি বছর ৩১ শে বৈশাখ বিগ্রহ টিকে জল থেকে তুলে নিয়ে আসা হয় পূজার জন্য। 

৩১ শে বৈশাখ পূজা উপলক্ষে লক্ষ লক্ষ মানুষ এখানে আসেন এবং পূজা দেন। পূজা উপলক্ষে এখানে অনেক বড় মেলার আয়োজন হয়। ৩১ শে বৈশাখ ছাড়াও আষাড়-নবমী, বিজয়া দশমী, ১৫ ই পৌষ, মকর সংক্রান্তি তেও দেবীর পূজা হয়। প্রত্যেক পূজার পরের দিনই দেবী তার বাড়ি ক্ষীরদীঘি তে যান। দেবীর পূজাতে পশু বলিও দেওয়া হয়, শোনা যায় যে বহু পূর্বে এখানে নরবলিও দেওয়া হত।। 

প্রাচীন আক্রমণের সময় নির্মিত মূল মন্দিরটি যা মুসলিম আক্রমণের সময় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল | হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৭৭০-৮০ সালে রাজা কীর্তি চন্দ্র এই মন্দিরের দক্ষিণ দিকটি পুনর্নির্মাণ করেছিলেন। এই মন্দিরে ভগবান শিব খিরাকণ্ঠ নামে পরিচিত | কলকাতা থেকে প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দূরের গন্তব্য হ'ল খিরগ্রাম | হিন্দু সম্প্রদায়ের ৫১ পিঠার মধ্যে একটি। এটি মূলত জোগদ্যা দেবী মন্দিরের জন্য জনপ্রিয়। মন্দিরে মহিষমর্দিনীর একটি কালো পাথরের মূর্তি রয়েছে (দেবী জোগাধ্য্যা বা দুর্গার এক রূপ)।

এটি বিশ্বাস করা হয় যে দেবতা সংলগ্ন পুকুর খিরদীঘির জলে বাস করেন এবং মন্দিরটিতে থাকার জন্য  বৈশাখের প্রতিটি সংক্রান্তিতে তিনি জল থেকে উঠে আসেন | জোগদ্যা দেবীর পূজা এবং সেখানে বহু বছর ধরে হয়ে আসা মেলা দেখতে দূর থেকে বহু ভক্ত আসেন। 

ক্ষীরগ্রামের ক্ষীরদিঘি আসলে ক্ষীরনদী৷ গ্রামের উত্তরভাগে আছে কাঁদরখাল৷ যার পোশাকি নাম ব্রহ্মাণী৷ এটি বয়ে চলে৷ হেঁটে গিয়ে ঘুমুর গ্রামের দক্ষিণে খঙ্গেশ্বরী নদীর সঙ্গে মিশেছে৷ এই মিলিত ধারাই , নাদাই গ্রামে ভাগীরথীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে৷ হয়তো এককালে ক্ষীরনদী প্রবল ছিল৷ তারই , ব্রহ্মাণীর ফেলে যাওয়া , রেখে যাওয়া স্রোত -স্মৃতি ক্ষীরদিঘি৷ তার স্রোত গ্রীষ্মে মরা৷ বর্ষায় ভরা৷ ক্ষীরদিঘিতে ক্ষীরগ্রামের নিত্য পূজিতা দেবী যোগাদ্যার বাস বারো মাস৷ গ্রামবাসীরা দেবীকে স্মরণ না করে দিন শুরু করে না৷ শুভকাজে দেবীর স্মরণ আগে৷ গৃহীর ঘরের কাঠামোতেও দেখা যায় যোগাদ্যা দেবীকে স্মরণ -বন্দনা৷