মাঘী পূর্ণিমা: হিন্দু সম্প্রদায়ের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন মাঘী পূর্ণিমা

মাঘী পূর্ণিমা: হিন্দু সম্প্রদায়ের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন মাঘী পূর্ণিমা

মাঘ বাংলা মাসের দশম মাস। এই মাসের আরেক নাম মাঘা। মাঘ বাংলা সনের দশম মাস এবং ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শকাব্দের একাদশ মাস। বাংলা মাঘ এবং শকাব্দের "মাঘা" নামটি এসেছে মঘা নক্ষত্রে সূর্যের অবস্থান থেকে। খনার বচনে রয়েছে, "যদি বর্ষে মাঘের শেষ, ধন্যি রাজার পূণ্যি দেশ"। মাঘ মাসের পূর্ণিমাকে বলা হয় মাঘী পূর্ণিমা। 

মাঘী পূর্ণিমার ইতিহাস, তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য (হিন্দু ধর্ম মতে) অতি প্রাচীনকালে কান্তিকা নামক এক নগরীতে ধনেশ্বর নামক দরিদ্র ব্রাহ্মণ বাস করতেন। সন্তানহীন ব্রাহ্মণ ও তাঁর স্ত্রীর দুঃখের শেষ ছিলনা। একটি সন্তানের আশায় তাদের মন সবসময় কাঁদতো। ব্রাহ্মণ ভিক্ষা করার জন্য দূর-দূরান্তে যেতেন। ভিক্ষা করতে করতে একদিন তিনি এক গ্রামে গিয়ে হাজির হলেন।

সেই গ্রামের এক বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তিনি ভিক্ষা প্রার্থনা করলেন। কিন্তু বাড়ির গৃহকর্তা সন্তানহীন ব্রাহ্মণকে ভিক্ষা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেন। গৃহকর্তার কথা শুনে ক্লান্ত ব্রাহ্মণ খুব দুঃখ পেলেন। ব্রাহ্মণের দুঃখী মুখ দেখে গৃহকর্তা বললেন, আমি তোমায় সন্তান হবার একটা উপায় বলে দিতে পারি।

সঠিক পদ্ধতিতে সেই নিয়ম পালন করলে শীঘ্রই তুমি সন্তানের মুখ দেখবে। তুমি মা চন্দ্রিকা দেবী তথা মা কালীর পূজা ও উপবাস কর। সেই কথা মতো ধনেশ্বর ও তাঁর স্ত্রী রূপমতী নিষ্ঠা সহকারে মা কালীর পুজো করেন। তাদের ভক্তি ও শ্রদ্ধাতে সন্তুষ্ট হয়ে মা কালী তাদের সন্তান লাভের বর প্রদান করেন। এর কিছুদিন পর ব্রাহ্মণ দম্পতির সন্তান জন্মলাভ করে।

তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য (বৌদ্ধ ধর্ম মতে) বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছেও মাঘী পূর্ণিমা অত্যন্ত পবিত্র। মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে বুদ্ধদেব তাঁর পরিনির্বাণের কথা ঘোষণা করেছিলেন। কথিত আছে যে, বুদ্ধের এরূপ সংকল্প গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ ভীষণ ভূকম্পন শুরু হয়। ভিক্ষুসংঘ এর কারণ জানতে চাইলে বুদ্ধ বলেন, তাঁর পরিনির্বাণের সঙ্কল্পের কারণেই এরূপ হয়েছে; অর্থাৎ তথাগতের জন্ম, মৃত্যু ও বুদ্ধত্ব লাভকালে জগৎ এমনিভাবে আলোড়িত হয়।

বুদ্ধের পরিনির্বাণের কথা শুনে উপস্থিত ভিক্ষুরা বিষণ্ণ ও শোকাভিভূত হলে বুদ্ধ তাঁদের বলেন, ‘মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী, এজন্য দুঃখ করা অনুচিত। তোমরা সংকল্পবদ্ধ ও দৃঢ়চিত্ত হয়ে ধর্মচর্চা কর, তবেই জন্ম- জরা-ব্যাধি-মৃত্যুর এই সংসার উত্তীর্ণ হয়ে দুঃখকে জয় করতে পারবে।’ অর্থাৎ এই দিনটির তাৎপর্য হলো, আত্মশক্তির উন্নয়ন এবং সকল প্রকার ক্লেশ বিনাশপূর্বক কল্যাণময় নির্বাণ লাভের সামর্থ্য অর্জন।

এ দিনটির আরও একটি শিক্ষা হলো, মানুষ যদি আধ্যাত্মিক সাধনায় পূর্ণতা লাভ করে তাহলে সে নিজের জীবন-মৃত্যুকেও নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়। এদিন প্রতিটি বুদ্ধ বিহারে বুদ্ধপূজা, প্রদীপপুজো, শীলগ্রহণ, অনিত্যভাবনা, ভিক্ষুসংঘকে পিন্ডদান ও ধর্মীয় সভার আয়োজন করা হয়। বৌদ্ধসম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে এ দিনটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

মাঘী পূর্ণিমা পূজা পদ্ধতি মাঘী পূর্ণিমার দিন সত্যনারায়ণের পূজা করা হয়। এদিন উপবাস পালন করে ভগবান বিষ্ণুকে ফুল, ফল, দূর্বা, পান, সুপারী ও অন্যান্য প্রসাদ সহকারে পূজা করতে হয়। মাঘী পূর্ণিমার পুজোতে পরিবার ও সামাজিক জীবনে শান্তি নেমে আসে। ভগবান বিষ্ণুর কৃপায় জীবন ভরপুর হয়ে ওঠে।  

মাঘী পূর্ণিমা ২০২১ কবে? জানুন ২০২১ মাঘী পূর্ণিমার তিথি, তারিখ, সময় সূচী, ইতিহাস ও গুরুত্ব। ২০২১ মাঘী পূর্ণিমা। মাঘী পূর্ণিমা ২০২১। ২০২১ সালের মাঘী পূর্ণিমার তারিখ ও সময়। মাঘী পূর্ণিমা ২০২১ ক্যালেন্ডার। ২০২১ মাঘী পূর্ণিমা ক্যালেন্ডার। জেনে নিন মাঘী পূর্ণিমার ইতিহাস।

মাঘী পূর্ণিমা সনাতন হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মানুসারীদের নিকট অত্যন্ত পবিত্র। ২০২১ এর মাঘী পূর্ণিমা ২৬ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার ও পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি, শনিবার এ দুইদিন পালিত হবে। হিন্দুশাস্ত্রমতে, অন্য সকল পূর্ণিমা থেকে মাঘী পূর্ণিমার গুরুত্ব আলাদা। মাঘী পূর্ণিমার পূণ্য তিথিতে নদী, জলাধার বা নদীর সঙ্গমস্থলে পূণ্যস্নানের আয়োজনা করা হয়।

বিশ্বাস করা হয় মাঘী পূর্ণিমায় পূণ্যস্নানের মাধ্যমে সকল পাপ ধুয়ে যায় ও মানুষের মনস্কামনা পূরণ হয়। ২০২১ মাঘী পূর্ণিমার সময় সূচী তিথি শুরু ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, শুক্রবার ভারতীয় সময়– বিকাল ৩টা ৪৯ মিনিটবাংলাদেশ সময়– বিকাল ৪টা ১৯ মিনিট তিথি শেষ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, শনিবার ভারতীয় সময়– দুপুর ১টা ৪৬ মিনিট বাংলাদেশ সময়– দুপুর ২টা ১৬ মিনিট