মহালয়া মানেই পিতৃপক্ষের অবসান দেবীপক্ষের সূচনা

মহালয়া মানেই  পিতৃপক্ষের অবসান দেবীপক্ষের সূচনা

মহৎ আলয় থেকেই মহালয় কথাটির উৎপত্তি বলে জানা যায় ।অর্থাৎ কৈলাস থেকে দেবী দুর্গা মর্তে আগমনের প্রস্তুতি।  দুর্গা পুজো মূলত পাঁচ দিনের অনুষ্ঠান হলেও মহালয়া থেকেই প্রকৃত উৎসবের সূচনা । ভাদ্রমাসের কৃষ্ণা প্রতিপদ থেকে আশ্বিনের কৃষ্ণ পঞ্চদশী ,অর্থাৎ অমাবস্যা অবধি প্রেত লোক থেকে পিতৃপুরুষের আত্মারা  মর্ত্যলোকে ফিরে আসেন নিজের ছেড়ে দেওয়া গৃহ পরিজনের মায়ায় ।

মহালয়ায় তাদের সবার আবির্ভাব সম্পন্ন হয় বলেই সেই দিনটিতে তর্পনের মাধ্যমে তাদের পরিতৃপ্ত বিধান করে প্রতিটি গৃহেই আনন্দ উৎসব পালনের রীতি আছে । অর্থাৎ আলোয় যেদিন মোহময় বা আনন্দময় হয়ে ওঠে সেই দিনই হলো মহালয়া । সনাতন ধর্মে যেকোনো পারিবারিক শুভ কাজ করতে গেলে তাদের পূর্ব পুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করার , তর্পণ শুধু পূর্ব পুরুষদের উদ্দেশ্যে নয় , পৃথিবীর  সমগ্র জীবকুলের মঙ্গল সাধনের উদ্দেশ্যে তর্পণ করার রেওয়াজ রয়েছে ।

ভগবান রামচন্দ্র লঙ্কা বিজয়ের পূর্বে তর্পণ করেছিলেন বলে পুরান সুত্রে জানা যায় । সেই অনুযায়ী এই মহালয়া তিথিতে যারা পিতৃ মাতৃহীন তারা তাদের পূর্ব পুরুষদের স্মরণ করে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে অঞ্জলী প্রদান করে সনাতন ধর্ম অনুসারে এই দিন প্রয়াত আত্মাদের মর্ত্যে পাঠিয়ে দেওয়া হলে তাদের আত্মার যে সমাবেশ ঘটে তাকে মহালয় বলে ।

এই দিনটিকেই পিতৃ পক্ষের শেষ দিন অর্থাৎ দেবী পক্ষের সূচনা কাল বলে ধরা হয় । মহাভারতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে ,প্রসিদ্ধ দাতা কর্নের মৃত্যু হলে তাঁর আত্মা স্বর্গে গমন করে । ঠিক তখনই তাকে স্বর্গে স্বর্ণ ও রৌপ্য খাদ্য হিসাবে প্রদান করা হয় । তার প্রতি এহেন আচরণে তিনি স্তম্ভিত হয়ে দেবরাজ ইন্দ্রের নিকট তার কারণ জানতে চান । উত্তরে দেবরাজ ইন্দ্র তার কাছে ব্যাখ্যা করেন , আপনি সারা জীবনই স্বর্ণ ও রৌপ্য প্রদান করে এসেছেন , পিতৃগণের উদ্দেশ্যে কোনরূপ খাদ্য খাবার প্রেরণ করেননি , সেই কারণেই আপনাকে স্বর্ণ ও রৌপ্য দেওয়া হয়েছে খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করার জন্য ।

এরপর কর্ণ তার ভুল স্বীকারের সাথে সাথে জানান তিনি তার পিতৃ গণের সম্পর্কে অবগত ছিলেন না । নিজের ইচ্ছায় তিনি কিছুই করেন নি , ঠিক তখনই কর্ণকে ষোলো দিনের জন্য মর্ত্যে গিয়ে পিতৃ লোকের উদ্দেশ্যে জল ও অন্ন প্রদান করার অনুমতি দেওয়া হয় । প্রকৃত পক্ষে এই ষোলো দিনকেই পিতৃপক্ষ বলে অভিহিত করা হয় । আবার হিন্দু শাস্ত্র মতে সূর্য্য কন্যা রাশি তে প্রবেশ করলে পিতৃপক্ষের সূচনা হয় ।

সনাতন ধর্মাবলম্বী রা বিশ্বাস করে থাকেন এই সময় পিতৃপুরুষেরা পিতৃ লোক ত্যাগ করে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের গৃহে অবস্থান করেন । পরে জলঘন সূর্য্য যখন আবার বৃশ্চিক রাশি তে প্রবেশ করে তখন তারা আবার পিতৃ লোকে পুনর্গমন করেন । পূর্ব পুরুষরা যেহেতু তাদের গৃহে অবস্থান করেন তাই তর্পনের মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বী রা তাদের পূর্ব পুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন । তবে আজকের শুভ দিন উপলক্ষে মৃৎশিল্পীরা দুর্গা প্রতিমার চক্ষুদান করে থাকেন।  শত্রু বিনাশ দিবস হিসেবে ধর্মীয় বিশ্বাসে পালিত হয়ে থাকে এই দিনটি ।