গুয়াহাটিতে মহারাষ্ট্রের বিদ্রোহী সেনা বিধায়ক একনাথ শিণ্ডে

গুয়াহাটিতে মহারাষ্ট্রের বিদ্রোহী সেনা বিধায়ক একনাথ শিণ্ডে

মঙ্গলবার দিনভর ছিলেন খবরের শিরোনামে। মহারাষ্ট্র সরকারকে মহাসংকটে ফেলে দেওয়া সেই একনাথ শিন্ডে অবশেষে বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন। জানালেন, এখনও তিনি শিবসেনার সঙ্গেই রয়েছে। বললেন, "বালাসাহেব ঠাকরের আদর্শের সঙ্গে বেইমানি করব না। রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে হিন্দুত্বের শিক্ষাকে ঠকাব না।" দলীয় অনুগামীদের নিয়ে উদ্ধব ক্যাবিনেটের নগরোন্নয়নমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে সুরাট থেকে এসে পৌঁছেছেন অসমে।

জানা গিয়েছে, তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রায় ৪০ জন বিধায়ক। এর মধ্যে ৩০ জন শিবসেনার এবং বাকি নির্দল। গুয়াহাটি বিমানবন্দরে তাঁদের স্বাগত জানান অসমের BJP নেতা সুশান্ত বর্গহায়েন। এদিকে, পরিস্থিতি পর্যলোচনায় ক্যাবিনেট বৈঠক ডেকেছেন উদ্ধব ঠাকরে।  মঙ্গলবারই একনাথ শিন্ডের গোঁসা ভাঙতে স্বয়ং আসরে নেমেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব।

বিদ্রোহী মন্ত্রী শিবসেনার সঙ্গে কংগ্রেস-এনসিপি নয়, মিত্র হিসেবে BJP-কেই চাইছেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন তাঁকে। এমনটাই সূত্র মারফত খবর মিলেছে। শিন্ডের সঙ্গে প্রায় ১৫ মিনিট টেলিফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। BJP-র সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করেন মুখ্যমন্ত্রী। BJP যে শিবসেনাকে বিপদে ফেলছে সেই তথ্য তুলে ধরেন উদ্ধব। কিন্তু, তাতেও চিড়ে ভেজেনি বিদ্রোহী মন্ত্রীর।

একনাথ শিন্ডেকে বাগে আনতে না পেরে, ইতিমধ্যে পালটা দিয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীও। বিধানসভায় শিবসেনার দলনেতার পদ থেকে শিন্ডেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর এ নিয়ে উদ্ধবকে বার্তাও দিয়েছেন শিন্ডে। তিনি যে মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার নন, তা পরিস্কার করে দিয়েছেন বিদ্রোহী মন্ত্রী।  দলনেতার পদ থেকে সরানোর পর পালটা টুইট করেন শিন্ডে।

সেখানে তিনি লেখেন, "আমরা বালাসাহেবের কট্টর সৈনিক। বালাসাহেব হিন্দুত্ব শিখিয়েছেন। ক্ষমতায় টিকে থাকতে বালাসাহেবের চিন্তাধারার সঙ্গে কখনই আপোষ করব না।" এদিকে শিন্ডের দিকে ঠিক কতজন বিদ্রোহী বিধায়ক রয়েছেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে জল্পনা। শুধু শিবসেনা নয়, শিন্ডের সঙ্গে কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন বিধায়ক সুরাটের হোটেলে ঘাঁটি গেড়েছিল বলে খবর। তাঁরাই ফের শিন্ডের সঙ্গে অসমে পৌঁছেছেন। যত সংখ্যক থাকুক না কেন, মহারাষ্ট্রের জোট সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিমধ্যে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন।

 ২৮৮ আসন বিশিষ্ট মহারাষ্ট্র বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৪৫ জন বিধায়কের সমর্থন। বর্তমানে একটি আসন খালি থাকায় সেই সংখ্যা নেমে দাঁড়িয়েছে ১৪৪-তে। পাটিগণিতের নিয়ম অনুযায়ী জোটের পক্ষে ১৬১ জন বিধায়ক রয়েছেন। যদি শিন্ডের দিকে ২২-এর বেশি বিধায়ক থাকলেই উদ্ধবের গদি বাঁচানো কষ্টকর হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।  

সোমবারের বিধান পরিষদের ভোট হিসেবে অনেকটা গুলিয়ে দিয়েছে। জোটের বেশ কয়েকজন বিধায়ক BJP প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। এই অবস্থায় বিদ্রোহী বিধায়কের সংখ্যা কত, তা নিয়ে চলছে চূলচেরা বিশ্লেষণ। একনাথ শিন্ডে ইস্যু শিবসেনার অভ্যন্তরীণ ব্যাপার বলে উড়িয়ে দিলেও, সরকার বাঁচাতে আসরে নেমেছে NCP।

সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে শরদ পাওয়ার বৈঠক করতে পারেন বলে খবর। পরিস্থিতি নিয়ে দলের বিধায়কদের সঙ্গেও পাওয়ার কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। বসে নেই কংগ্রেসও। সরকার বাঁচাতে তারাও নেমে পড়েছে আসরে। আর সাপলুডোর টানাপোড়েনে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায় এখন সেটাই দেখার। শেষ পর্যন্ত জোট সরকারের পতন হলে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে বিরোধীদের ব্যাকফুটে ঠেলে দেবেই বলে মনে করা হচ্ছে।