মালদা জেলা | পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম  জেলা হল Malda

মালদা জেলা  | পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম  জেলা হল Malda

ব্যাপক ছাড়ে  Amazon-এ শপিং করতে এই খানে ক্লিক করুন

পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম  জেলা হল মালদা ।জেলাটির জেলাসদর ইংরেজ বাজার। বিশিষ্ট দার্শনিক ও বৈয়াকরণ পাণিনি তার লেখায় গৌড়পুরা নামক একটি প্রাচীন জনপদের কথা উল্লেখ করেন৷ সম্ভবতঃ উল্লেখিত জনপদটিই বর্তমানে মালদহ জেলায় উপস্থিত গৌড় অঞ্চল, যার বিস্তৃতি পুরাতন গৌড় ও পাণ্ডুয়া  অবধি৷ প্রাচীন ও মধ্যযুগ সমকালীন নগরদুটির অবস্থান মালদহ জেলার বর্তমান সদর ইংরেজ বাজার এর উত্তর ও দক্ষিণে বলে অনুমান করা হয়৷সাম্রাজ্যটির সীমানা বিস্তৃতি ও পরিবর্তনের প্রমাণ পৌরাণিক বিভিন্ন পুস্তিকাতে পাওয়া যায়৷

পুণ্ড্রনগর ছিলো মৌর্য সাম্রাজ্যের পূর্বপাশ্বীয় বিভাগীয় সদর৷ বর্তমান বাংলাদেশের বগুড়া জেলার মহাস্থানগড় নামক স্থান থেকে উদ্ধারীকৃত ব্রাহ্মীলিপিতে খোদাই করা এক শিলালেখ থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, গৌড় ও পুণ্ড্রবর্দ্ধন অঞ্চল পুর্বে মৌর্য সাম্রাজ্যের অংশ ছিলো৷সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ স্তম্ভ ও দিনাজপুরের কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে বোঝা যায় যে সমগ্র উত্তর বঙ্গ থেকে কামরূপ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিলো৷

সপ্তম শতাব্দীর প্রারম্ভে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পর প্রায় তিন দশক যাবৎ কর্ণসুবর্ণের রাজা তথা গৌড়রাজ শশাঙ্ক স্বাধীনভাবে শাসনভার নেন৷ আবার অষ্টম শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে একাদশ শতাব্দীর শেষভাগ অবধি ঐ অঞ্চলে পাল সাম্রাজ্য বিস্তৃতি লাভ করে৷পাল বংশের শাসনকালে বরেন্দ্র ভূমির বৌদ্ধবিহার জগদল্লবিহার; নালন্দা, বিক্রমশিলা ও দেবীকোট বিহারের সমকক্ষে উন্নীত হয়৷ পাল সাম্রাজ্যের পতনের পর উত্থান ঘটে সেন বংশের৷সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেনের কালে গৌড়ের নাম হয় লক্ষ্মণাবতী৷ ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে গৌড় বখ্তিয়ার খিলজির দ্বারা আক্রান্ত হয় যাকে হারিয়ে মহারাজ লক্ষ্মণ সেন পুনরায় গৌড় উদ্ধার করেন।

এরপরেও সেনবংশীয় বিশ্বরূপ সেন, কেশব সেন, মাধব সেন গৌড় শাসন করেছেন এবং গৌড়েশ্বর উপাধি নেন। দেববংশীয় নৃপতি দনুজমর্দনদেব ও মহেন্দ্রদেব দুজনেই তুর্কি হানাদারদের সরিয়ে গৌড় পুনরুদ্ধার করে গৌড়েশ্বর উপাধি নেন।আফগান যোদ্ধা শের শাহ সুরি একদা মালদা অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করলেও তা মোগল সম্রাট হুমায়ূণ দ্বারা পুণঃপ্রতিষ্ঠিত হয়৷ গৌড় অঞ্চলখ্যাত আমের স্বাদে তৃপ্ত হয়ে তিনি এ অঞ্চলের নাম দেন জান্নাতাবাদ৷ ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর ইংরেজ সরকার শাসনভার গ্রহণ করে ও তাঁরা মহানন্দা নদীর দক্ষিণ পাড়ে স্থিত হয় ৷ ব্রিটিশ শাসনের আদিপর্বে মালদহ জেলার কোনো অস্তিত্ব ছিল না৷

১৮৩২ খ্রীষ্টাব্দে জেলাটি বিশেষ মর্যাদা পায় , ১৮৫৮ খ্রীষ্টাব্দে ম্যাজিস্ট্রেট কালেক্টর নিযুক্ত করা হয় এবং একটি সম্পূর্ণ জেলাতে উন্নীত হয় ৷  মালদহ জেলার দক্ষিণপূর্ব ভাগ বর্তমানে বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের অন্তর্ভুক্ত চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলা৷ আবার ৩৭৩৩ বর্গকিলোমিটার ক্ষেত্রফল বিশিষ্ট অবিভক্ত মালদহ জেলার সদর ও উত্তরপূর্ব ভাগ বর্তমানে ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহ বিভাগের অন্তর্ভুক্ত মালদহ জেলা৷মালদহ জেলার নামকরণ এই জেলার আদি বাসিন্দা ‘মলদ’ কৌমগোষ্ঠীর নাম থেকে। অন্যমতে ফার্সি ‘মাল’ (ধনসম্পদ) ও বাংলা ‘দহ’ শব্দদ্বয়ের সমন্বয়ে এই জেলার নামটির উৎপত্তি।

২০১১ সালের জনগননা অনুসারে মালদা জেলার জনসংখ্যা ৩,৯৮৮,৮৪৫ , ভারতে ৬৪০টি জেলার মধ্যে জনসংখ্যা অনুসারে এটির স্থান ৫৮তম। জেলার জনঘনত্ব ১,০৭১ জন প্রতি বর্গকিলোমিটার।২০০১-২০১১ তে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২১.২২%।  মালদার লিঙ্গানুপাত প্রতি ১০০০ পুরুষে ৯৪৪ জন নারী এবং সাক্ষরতার হার ২০০১ সালে ৫০.২৮% থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১১ সালে ৬১.৭৩% (পুরুষ সাক্ষরতা ৬৬.২৪% ও নারী সাক্ষরতা ৫৬.৯৬%) হয়েছে।শিশু সংখ্যা (০-৬ বৎসর অবধি) ৬০৯০৪০ , যা সমগ্র জনসংখ্যার ১৫.২৭%

ব্যাপক ছাড়ে  Amazon-এ শপিং করতে এই খানে ক্লিক করুন

 মালদহ জেলা দুটি মহকুমাতে বিভক্ত  চাঁচল মহকুমা ও মালদহ সদর মহকুমা 

 চাঁচল মহকুমার অবস্থান জেলাটির উত্তর পশ্চিমে  এই মহুকুমা ৬ টি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক নিয়ে গঠিত৷

চাঁচল ১ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক ১০০ টি গ্রামের সমন্বয়ে তথা ৮ টি গ্রামপঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত; যথাক্রমে - অলিহণ্ডা, চাঁচল, খরবা, মকদমপুর, ভগবানপুর, কালীগ্রাম, মহানন্দাপুর, মোতিহারপুর৷ সদর চাঁচলে অবস্থিত৷

চাঁচল ২ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক ৯২ টি গ্রামের সমন্বয়ে তথা ৭ টি গ্রামপঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত; যথাক্রমে - ভাকরি, ধানগাড়া-বিষাণপুর, গৌড়হণ্ডা, ক্ষেমপুর, চন্দ্রপাড়া, জালালপুর, মালতীপুর৷ সদর মালতীপুরে অবস্থিত৷

হরিশ্চন্দ্রপুর ১ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক ১০৫ টি গ্রামের সমন্বয়ে তথা ৭ টি গ্রামপঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত; যথাক্রমে - ভিঙ্গোলে, কুশিধা, রসিদাবাদ, বারুই, মহেন্দ্রপুর, তুলসীহট্ট, হরিশ্চন্দ্রপুর৷ সদর হরিশ্চন্দ্রপুরে অবস্থিত৷

হরিশ্চন্দ্রপুর ২ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক ৭৪ টি গ্রামের সমন্বয়ে তথা ৯ টি গ্রামপঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত; যথাক্রমে - দৌলতপুর, দৌলতনগর, সুলতাননগর, চাঁদপুর(ইসলামপুর), মশালদহ, ভালুকা, মালিওর ১ ও ২, সাদলিচক৷ সদর বারদুয়ারীতে অবস্থিত৷

রতুয়া ১ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক ১০১ টি গ্রামের সমন্বয়ে তথা ১০ টি গ্রামপঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত; যথাক্রমে - বাহারাল, চাঁদমণি ১ ও ২, মহানন্দাতলা, ভাদো, বিলাইমারি, দেবীপুর, রতুয়া, কাহালা, সামসি৷ সদর রতুয়াতে অবস্থিত৷

রতুয়া ২ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক  ৫১ গ্রামের সমন্বয়ে তথা ৮ টি গ্রামপঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত; যথাক্রমে - আড়াইডাঙা, পরাণপুর, পুখুরিয়া, শ্রীপুর ১ ও ২, মহারাজগঞ্জ, পীরগঞ্জ, সম্বলপুর৷ সদর পুখুরিয়াতে অবস্থিত৷

 

মালদহ সদর মহকুমার অবস্থান জেলাটির পুর্ব ও দক্ষিণ পশ্চিমে যা ৯ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত৷

 মানিকচক সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক ৮৯ টি গ্রামের সমন্বয়ে তথা ১১ টি গ্রামপঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত; যথাক্রমে - চৌকি মীরদাদপুর, এনায়েৎপুর, মানিকচক, নূরপুর, উত্তর চণ্ডীপুর, দক্ষিণ চণ্ডীপুর, গোপালপুর, মথুরাপুর, ধরমপুর, হীরানন্দপুর, নাজীমপুর৷ সদরটি মনিকচকে অবস্থিত৷

 কালিয়াচক ১ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক ৫৫ টি গ্রামের সমন্বয়ে তথা ১৪ টি গ্রামপঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত; যথাক্রমে - আলিনগর, গয়েশবাড়ি, কালিয়াচক ১ ও ২, শিলামপুর ১ ও ২, আলিপুর ১ ও ২, জালালপুর, মোজামপুর, সুজাপুর নওদা-যদুপুর, জালুয়াবাধাল, বামনগ্রাম-মশিমপুর৷ সদরটি কালিয়াচকে অবস্থিত৷

 কালিয়াচক ২ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক ৬৫ টি গ্রামের সমন্বয়ে তথা ৯ টি গ্রামপঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত; যথাক্রমে - বাঙ্গীটোলা, রাজনগর, উত্তর লক্ষ্মীপুর, গঙ্গাপ্রসাদ, রথবাড়ি, মোথাবাড়ি, উত্তর পঞ্চানন্দপুর ১ ও ২, হামিদপুর৷ সদরটি মোথাবাড়িতে অবস্থিত৷

হবিবপুর সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক  ২৮৭ টি গ্রামের সমন্বয়ে তথা ১১ টি গ্রামপঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত; যথাক্রমে - আকতাইল, বুলবুলচণ্ডী, জাজাইল, ঋষিপুর, ধুমপুর, শ্রীরামপুর, বৈদ্যপুর, হাবাবপুর, মঙ্গলপুর, কাঁতুরকা, আইহো৷ সদরটি হবিবপুরে অবস্থিত৷

 বামনগোলা সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক  ১৪২ টি গ্রামের সমন্বয়ে তথা ৬ টি গ্রামপঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত; যথাক্রমে - বামনগোলা, গোবিন্দপুর-মহেশপুর, পাকুয়াহাট, চাঁদপুর, মদনহাটি, জগদলা৷ সদরটি পাকুয়াহাটে অবস্থিত৷পৌরসভাদ্বয় হল ইংলিশবাজার এবং পুরনো মালদহ৷

 কালিয়াচক ৩ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক  ৭৩ টি গ্রামের সমন্বয়ে তথা ১৪ টি গ্রামপঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত; যথাক্রমে - আকন্দবাড়ীয়া, ভগবানপুর, লক্ষ্মীপুর, বখরাবাদ, চারি অনন্তপুর, বেদ্রাবাদ, পারদেওনাপুর-শোভাপুর, গোলাপগঞ্জ, বীরনগর ১ ও ২, কৃষ্ণপুর, শাহবাজপুর, কুম্ভিরা, সহবানচক৷ সদরটি দরিয়াপুরে অবস্থিত৷

 ইংরেজ বাজার সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক  ১৩২ টি গ্রামের সমন্বয়ে তথা ১১ টি গ্রামপঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত; যথাক্রমে - অমৃতি, যদুপুর ১ ও ২, কোতোয়ালি, নরহট্ট, বিনোদপুর, মহদীপুর, শোভানগর, ফুলবাড়ীয়া, কাজীগ্রাম, মিলকী৷ সদরটি মিলকীতে অবস্থিত৷

 পুরানো মালদা সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক  ১১৫ টি গ্রামের সমন্বয়ে তথা ৬ টি গ্রামপঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত; যথাক্রমে - ভাবুক, মহিষবাথানী, মুচিয়া, যাত্রাডাঙা, মঙ্গলবাড়ি, সাহাপুর৷ সদরটি কালুদেওয়ানে অবস্থিত৷

 গাজোল সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক ২৯১ টি গ্রামের সমন্বয়ে তথা ১৫ টি গ্রামপঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত; যথাক্রমে - আলাল, চকনগর, কর্কচ, রাণীগঞ্জ ১ ও ২, বাইরগাছি ১ ও ২, দেওতলা, মাঝড়া, শাহজাদপুর, গাজোল ১ ও ২, পাণ্ডুয়া, শলাইডাঙা, বাবুপুর৷ সদরটি গাজোলে অবস্থিত৷

  মালদহ একটি কৃষিনির্ভর জেলা।  ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। সুলতানি যুগের বিভিন্ন স্থাপত্য নিদর্শনকে কেন্দ্র করে একটি উল্লেখযোগ্য পর্যটন শিল্পও এখানে বিকাশলাভ করেছে। মালদহের গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরবঙ্গের দ্বিতীয় সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়। মালদা জেলা ফজলি আম-এর জন্য সুপরিচিত। আমের অন্যান্য প্রকারগুলি হলো গোপালভোগ, বৃন্দাবনী , ল্যাংড়া , ক্ষীরশাপাটি , কৃষ্ণভোগ ৷ এছাড়া পাটচাষ ও সিল্কের কাজ বহুল ৷ কৃষি ছাড়াও মালদহ, গৌড়-পান্ডুয়া বহু পুরানো ঐতিহ্য ও পর্যটনস্থল যা জেলাটির অর্থনীতীর অন্যতম উৎস৷

 এই জেলা জুড়ে রয়েছে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তার উল্লেখযোগ্য কিছু হল পুরাতন মালদা কালাচাঁদ উচ্চ বিদ্যালয় , নঘরিয়া হাই স্কুল , রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দির , মালদা টাউন উচ্চ বিদ্যালয় , ললিত মোহন শ্যাম মোহিনী উচ্চ বিদ্যালয় ,  মালদা চিন্তামণিবাবু উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় , নয়মৌজা সুবহানিয়া হাই মাদ্রাসা , মালদা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় , দ্য সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল (ইংরাজী মাধ্যম) , হোলি চাইল্ড ইংলিশ একাডেমি , নর্থ পয়েন্ট ইংলিশ একাডেমি , উষা মার্টিন স্কুল, মালদা (ইংরাজী মাধ্যম) , সেন্ট মেরি স্কুল (ইংরাজী মাধ্যম) ,

ব্যাপক ছাড়ে  Amazon-এ শপিং করতে এই খানে ক্লিক করুন

মানিকচক শিক্ষানিকেতন উচ্চ বিদ্যালয় , পোপড়া ঈশ্বরলাল উচ্চ বিদ্যালয় ,শ্যমলালপাড়া টিওরপাড়া ব্রাহ্মণগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, গৌড় মহাবিদ্যালয়, মালদহ মহাবিদ্যালয় ,চাঁচল মহাবিদ্যালয় , হরিশ্চন্দ্রপুর মহাবিদ্যালয় , কালিয়াচক মহাবিদ্যালয় , সামসি মহাবিদ্যালয় , পাকুয়াহাট মহাবিদ্যালয় , গাজোল মহাবিদ্যালয় , মালদহ বালিকা মহাবিদ্যালয় , মানিকচক মহাবিদ্যালয় , দক্ষিণ মালদা মহাবিদ্যালয়। গণী খান চৌধুরী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি সংস্থান , আই.এম.পি.এস প্রকৌশল ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয় , মালদহ চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও চিকিৎসালয় , রতুয়া সত্যেন্দ্রনাথ বোস বহুশিল্পপ্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়, মালদহ বহুশিল্পপ্রযুক্তি মহাবিদ্যালয় , কালিয়াচক সরকারি শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান , গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়।

 

জিতু সাঁওতালের নেতৃত্বে ১৯৩২ সনে ঘটে যাওয়া সাঁওতালদের স্থানীয় আন্দোলনটি এই জেলার একটি  গুরুত্বপূর্ণআন্দোলন৷ তনিকা সরকারের মতো ঐতিহাসিকদের মতে এটি ছিলো মালদহে বসবাসরত উপজাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্বের সংগ্রাম৷ সাঁওতাল ও তাদের জমিদার এ দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে মতবিরোধ শুরু হয় মূলত ১৯১০ সালে৷ যেহেতু বরেন্দ্র ভূমি অঞ্চলটি কৃষিভিত্তিক ও কৃষিতে যথেষ্ট উৎকৃষ্ট তাই সেখানকার জমিদাররা সাধারণের ওপর করের পরিমাণ বাড়াতে শুরু করে৷ ফলে সাঁওতাল জনজাতির লোকেদের পরিপূর্ণ জীবনযাপনে বাধা হয়ে উঠতে থাকে এই করের বোঝা এবং জমিদারদের আড়ম্বর দিন দিন বাড়তে থাকে,  ফলস্বরূপ, সাঁওতালরা একত্রিত হয়ে আন্দোলন শুরু করে৷ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনেও এই গুরুত্ব অপরিসীম।  তেভাগা আন্দোলনে মালদহ নারীবাহিনীর অবদান উল্লেখযোগ্য৷

 মালদহ জেলাতে সমগ্র রেলপথের দৈর্ঘ ৯৫ কিলোমিটার ৷ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন ও জংশনগুলি হল  ওল্ড মালদা জংশন , মালদা টাউন রেলওয়ে স্টেশন , একলাখি জংশন , কুমেদপুর জংশন , সিঙ্গাবাদ প্রান্তিক স্টেশন।মালদহ জেলাটিতে ১৩৩ কিলোমিটার জাতীয় সড়ক ও ৬৭ কিলোমিটার রাজ্য সড়ক বিস্তৃত ৷ এছাড়াও ১০৮৩ কিলোমিটার জেলা সড়ক ও ৪৩৪০ কিলোমিটার অন্যান্য গ্রামীণ সড়ক দীর্ঘায়িত ৷ জাতীয় সড়কগুলি হল - ১৩১-এ নং , ৩৪ নং, ৮১ নং,  ১২ নং , রাজ্য সড়কটি হলো - ১০ নং।

ব্যাপক ছাড়ে  Amazon-এ শপিং করতে এই খানে ক্লিক করুন

উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক; দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুর, বংশিহারী, তপন সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক; মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কা, সামশেরগঞ্জ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের সাথে মালদহ জেলার অন্তর্রাজ্য সীমানা আছে৷বিহারের কাটিহার জেলার পরাণপুর, বারসোই, অজমগড়, আমদাবাদ তহশিল ও ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ জেলার রাজমহল, উদুয়া তহশিলের সাথে মালদহ জেলার আন্তঃরাজ্য  সীমানা বন্টিত৷বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট, গোমস্তাপুর, শিবগঞ্জ উপজেলা ও নওগাঁ জেলার সাপাহার, পরশা উপজেলার সাথে মালদহ জেলার আন্তর্জাতিক সীমানা আছে৷

 লোক-সংস্কৃতির অঙ্গ গম্ভীরা হল নাটক উপস্থাপনের এক অনন্য প্রকার ৷ এর মাধ্যমে প্রধাণত প্রাত্যহিক দিনের সুখ-দুঃখ বা অন্তর্দেশীর সংবাদ প্রচার করা হয় ৷ গম্ভীরা মালদহ জেলার একটি ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যপুর্ণ অনুষ্ঠান ৷ এ অঞ্চলে গম্ভীরার প্রচলন সুপ্রাচীন ৷ বিশেষত চৈত্রের শেষ সপ্তাহে তিনদিনব্যাপী এই অনুষ্ঠান উৎযাপিত হয় ৷ 'গম্ভীরা' এটি একধরনের গান যা হিন্দু শাস্ত্রের দেবতা শিবের সাথে সম্পর্কযুক্ত ৷ গম্ভীরায় নাচের সময় নাচিয়েদের কাঠের মুখোশ ব্যবহার করতে দেখা যায় ৷মালদহ জেলায় প্রসিদ্ধ অপর একটি বাঙালী লোকাচার হলো আলকাপ ৷ মালদহ ছাড়াও মুর্শিদাবাদ বীরভূম ও রাজশাহীতেও এর প্রচলন আছে ৷

আল মানে অংশবিশেষ আর কাপ বলতে কাব্যকে বোঝানো হয় ৷ এটি নাচ গান ও নাটকের এক সংমিশ্রণ যেখানে মুলত দুধরনের চরিত্র দেখা যায় , একটি গুরু চরিত্র অপরটি চাকরের চরিত্র এছাড়া সাথে থাকে গায়েন , দোহার ও সমবেতসঙ্গীতশিল্পীরা ৷এছাড়াও মালদা জেলার পর্যটন স্থান গুলি হল  রামকেলি অষ্টকুণ্ড , ফিরোজ মিনার , মালদহ জেলা সংগ্রহশালা , বড়সোনা মসজিদ , লুকোচুরি গেট , দাখিল দরবাজা , চামকাটি মসজিদ, আদিনা হরিণ অরণ্য , একলাখী সমাধিসৌধ , চিকা মসজিদ , বারোদুয়ারী মসজিদ, জগজীবনপুর বৌদ্ধ বিহার। মালদহ জেলার কিছু বিখ্যাত মেলা  চারুবাবু মেলা , রামকেলি মেলা , গৌড় , আইহো ও বুলবুলচণ্ডী কালীপুজা উপলক্ষে মেলা , গাজোল উৎসব , কাহালা দুর্গাপুজা মেলা , চরক মেলা , ময়না বিষহরি মেলা , সিংহাবাদ-ঋষিপুর ২৪ প্রহর মেলা।

ব্যাপক ছাড়ে  Amazon-এ শপিং করতে এই খানে ক্লিক করুন