মালদায় ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ পঞ্চায়েত সদস্য এবং প্রধানের বিরুদ্ধে,পাল্টা মানহানি মামলার হুঁশিয়ারি

মালদায় ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ পঞ্চায়েত সদস্য এবং প্রধানের বিরুদ্ধে,পাল্টা মানহানি মামলার হুঁশিয়ারি

 তনুজ জৈন     হরিশ্চন্দ্রপুর :     আবাস যোজনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসছে বিভিন্ন পঞ্চায়েত এ। অনেক ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে ঠিক তার উল্টোটাও  ঘটছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে চক্রান্তের শিকার হচ্ছেন বিভিন্ন নেতা এবং জনপ্রতিনিধি।

মিথ্যা চক্রান্তের শিকার হচ্ছেন তারা। আর এইবার এমনই কিছু অভিযোগ উঠেছে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত রশিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতে। পঞ্চায়েতের এক সদস্য এবং প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে আধার কার্ড লিস্টের নাম অন্তর্ভুক্তি করানোর জন্য কাটমানি চাওয়ার।

আর সেই অভিযোগে মিথ্যা দাবি করে পাল্টা মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে উক্ত সদস্য এবং পঞ্চায়েত প্রধান।স্থানীয় গ্রামবাসী সূত্রের খবর তৃণমূল পরিচালিত মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লকের রশিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের কোনো প্রতিনিধিই দুর্নীতির সাথে জড়িত নয়।

করোনা পরিস্থিতিতেও পঞ্চায়েতের প্রধান তথা সদস্যরা মানুষের পাশে থেকেছেন।আবাস যোজনা বা অন্যান্য সরকারি প্রকল্প নিয়েও দুর্নীতি হয়না এই পঞ্চায়েতে। তাই প্রশ্ন উঠছে এই ধরণের অভিযোগ তালে কেন উঠলো ?

মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লকের অন্তর্গত রশিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের  জনমদোল বুথের সদস্য একরামুল হক এবং পঞ্চায়েত প্রধান পুস্প রবিদাসের বিরুদ্ধে বাংলা আবাস যোজনার জন্য আধার লিংক করা নিয়ে ঘুষ চাওয়ার  অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ যাদের লিস্টে নাম এসেছিলো তাদের কাছে ওনারা আধার কার্ড লিংক করানোর জন্য ৩ হাজার টাকা করে কাটমানি দাবি করেন। অভিযোগ করেন জনমদোল মোল্লাবাড়ি বুথের উপভোক্তা শাহানারা পারভীন, সাবিরুল হোসেন,মহা:আলম, সালেক,মহা:মিস্টার এবং সালিমুদ্দিন।

তারা অভিযোগ করেন উক্ত দুইজনের বিরুদ্ধে ।অভিযোগ কাটমানি না পেলে আধার লিংক হবে না । আর বর্তমানে আধার লিংকের সময়সীমা পার হয়ে গেছে।এই প্রসঙ্গে অভিযোগকারিণী শাহানারা পারভীন বলেন, " আমাদের বুথের সদস্য আমার কাছে আধার লিংক করার জন্য ৩ হাজার টাকা চায়। প্রধানের কাছে গেলে প্রধানও বলে মেম্বারকে টাকা দিতে হবে।

আমার আধার লিংক হয়নি। সময়সীমা শেষ।তাই আমি অভিযোগ জানিয়েছি। "এই অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারেন উক্ত সদস্য এবং পঞ্চায়েত প্রধান। তারা দেখেন যারা অভিযোগ করছে তারা মিথ্যে বলছে। তাদের প্রত্যেকের আধার লিংক করা হয়েছে।

এমনকি অভিযোগকারীদের মধ্যে দুইজন ঘরের টাকাও পেয়ে গেছে। তখনি তারা বুঝতে পারেন তাদের বিরুদ্ধে কোনো চক্রান্ত হচ্ছে এবং তারা নড়েচড়ে বসেন। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হচ্ছে সেই মর্মে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লকের বিডিওর কাছে এবং জেলাশাসকের কাছে উপযুক্ত প্রমান সহ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। 

এই মর্মে সদস্য একরামুল হক বলেন, " সম্পূর্ণটাই বিরোধী দলের চক্রান্ত।ওদের পায়ের তলায় মাটি নেই তাই আমাদের নিয়ে মিথ্যে অভিযোগ করেছে।আমরা আমাদের অভিযোগপত্রে প্রমান সহ সব উল্লেখ করেছি । প্রয়োজন হলে আমরা আদালতে যাব,মানহানির মামলা করবো।" 

এই প্রসঙ্গে রশিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শাম্মী আখতার বলেন, " সম্পূর্ণ অভিযোগটাই মিথ্যে। যে ৬ জন অভিযোগ করেছে তাদের ২ জন ঘরের টাকা পেয়ে গেছে এবং বাকি ৪ জনেরও আধার লিংক করা আছে। আমাদের উন্নয়নমূলক কাজে বিরোধীরা ঈর্ষান্বিত হয়ে এইসব চক্রান্ত করছেন।সমস্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়েছে। যারা অভিযোগ করেছেন ওনারা সিপিএম করেন। "

এই প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লকের বিডিও অনির্বান বসু জানান," দুই পক্ষেরই অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। "সরকারি প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতি হলে তা যেমন অন্যায় আবার চক্রান্ত করে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নামে মিথ্যে অভিযোগ করাটাও তেমন অন্যায় এবং নিন্দনীয়। কারণ জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করে মানুষই। মানুষের প্রতিনিধি হিসেবেই ওনারা কাজ করেন। তাই রাজনৈতিক কারণে হোক বা অন্য কোনো কারণে তাদের ইচ্ছাকৃত সম্মানহানি গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোতে কখনোই কাম্য নয়।