বেসরকারি নার্সিংহোমে প্রসূতির মৃত্যু ঘিরে উত্তাল মালদা

বেসরকারি নার্সিংহোমে প্রসূতির মৃত্যু ঘিরে উত্তাল মালদা

  মালদা : চিকিৎসার গাফিলতিতে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ। অভিযোগের তীর চাঁচলের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের দিকে,গাফিলতি রয়েছে চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও। এই অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁচল হাসপাতাল মোড়ে একটি বেসরকারি নার্সিং হোমের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন মৃতের পরিবার পরিজনরা। তাঁদের আরও অভিযোগ, চিকিৎসকের গাফিলতিতে নবজাতকের পরিস্থিতিও আশঙ্কাজনক।

সেই অভিযুক্ত চিকিৎসক খোদ চাঁচল-১ নং ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার আক্তার হোসেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে  ছুটে আসতে হয় চাঁচল থানার বিশাল পুলিশবাহিনীকে। বিশৃঙ্খলা রুখতে ঘটনায় মৃতার চার জন পরিবারের সদস্যদের আটক করে থানায় নিয়ে পুলিশ।গোটা ঘটনা নিয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ও নার্সিং হোম  কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চাঁচল থানা সহ রাজ্য ও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের লিখিত অভিযোগ জানাবে মৃতার পরিবারের সদস্যরা বলে জানান।

গোটা ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,মৃত প্রসূতির নাম সায়েনা ইয়াসমিন (২০)প্রায় দেড় বছর আগে বিয়ে হয় চাঁচলের দক্ষিণ শহরে। তারপরে চলতি মাসের ১২ তারিখে  গায়নো চিকিৎসক তথা বিএমওএইচ  আখতার হোসেনের সাথে সাক্ষাৎ করেন প্রসূতি মহিলা।তারপর ওই চিকিৎসক প্রসূতিকে হাসপাতালের বদলে বেসরকারি নার্সিং হোমে চুক্তি করে অস্ত্রোপচার করার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ।

চিকিৎসকের কথা মতো প্রসূতির পরিবার চাঁচল  হাসপাতাল মোড়ে অবস্থিত হয় নার্সিং হোমে ভর্তি করান।গতকাল বুধবার ওই প্রসূতির অস্ত্রোপচার করা হয়।নবজাতক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।অস্ত্রপচোরের পরেই দীর্ঘক্ষন ধরে রক্ত ক্ষরণ শুরু হয় প্রসূতির।তড়িঘড়ি করে চিকিৎসক ও নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষ মালদায় রেফার করেন।কিন্তু মালদা সদরে হাসপাতাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাতে মৃত্যু হয় মহিলার।

সফল হয়নি অস্ত্রোপচার,চিকিৎসক ও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নার্সিং হোম ঘেরাও করে বিক্ষোভে সরব হন মৃতের পরিজনেরা।খবর পেয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় চাঁচল থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।গোটা ঘটনা নিয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষে বিরুদ্ধে চাঁচল থানা ও স্বাস্থ্য দফতরে অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন মৃতার স্বামী ও ভাশুর।

যদিও এব্যাপারে চিকিৎসক তথা চাঁচল-১ নং ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক আখতার হোসেন দাবি করে বলেন,আগে থাকেই আশঙ্কাজনক থাকায় মৃত্যু হয়েছে প্রসূতির। এদিকে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা দীর্ঘক্ষন চালু থাকলেও কোনো মন্তব্য করতে চাননি ওই বেসরকারি নার্সিংহোমের কর্ণধার।