বিবাহবার্ষিকীতে চাঁদে জমি কিনলেন মালদার যুবক

বিবাহবার্ষিকীতে চাঁদে জমি কিনলেন মালদার যুবক

মালদার ইংরেজবাজার শহরের তিন নম্বর গভর্মেন্ট কলোনির বাসিন্দা আকাশ চক্রবর্তী ও দেবযানী চক্রবর্তী। দু'বছর আগে মালদার সুকান্ত মোড়ের বাসিন্দা দেবযানীর সঙ্গে চার হাত এক হয় আকাশের। বর্তমানে ইংরেজবাজার পুরসভার ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার পদে কর্মরত এই যুবক। দ্বিতীয় বিবাহ বার্ষিকী। বাড়ি, গাড়ি, গয়না সেতো অনেকেই দেয়। স্ত্রীর জন্য অভিনব উপহার দিতে চেয়েছিলেন মালদার যুবক। তাই চাঁদেই এক একর জমি কিনে দিলেন জীবন সঙ্গীকে। কত টাকা খরচ হল? জানলে চমকে উঠবেন।

স্ত্রীকে কী এমন উপহার দেওয়া যায়, যা একেবারে অভিনব হবে? এই চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল আকাশের মাথায়। এরপরেই ইন্টারনেট ঘেঁটে ফেলেন তিনি। সেই সময়ই তাঁর নজরে পড়ে নিউ ইয়র্কের একটি সংস্থা চাঁদে জমি বিক্রি করছে। এরপরেই আকাশের মনে হয়, দেবযানীর জন্য যদি চাঁদে জমি কিনে দেওয়া যায়, তাহলে কেমন হয়? যেমন ভাবা তেমন কাজ। এরপরেই নিউ ইয়র্কের ওই সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে আকাশ।

এরপর কড়কড়ে ৬৮ মার্কিন ডলার খরচ করে চাঁদে এক একর জমি কেনেন আকাশ চক্রবর্তী।  ভারতীয় মুদ্রায় এই জমির দাম ৫ হাজার ৪৪০ টাকা। এরপর দ্বিতীয় বিবাহ বার্ষিকীতে চাঁদের জমি 'দিলদার'-কে উপহার দিলেন আকাশ। স্বাভাবিকভাবেই এই উপহার পেয়ে দেবযানীর খুশির ঠিকানা নেই। কিন্তু, চাঁদে জমি! তা কী আর মুখের কথা। স্বাভাবিকভাবেই খুশিতে ডগমগ তাঁরা।

তবে চাঁদে আদৌ জমি কেনা কি সম্ভব? জানা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক একটি চুক্তির জন্য চাঁদে জমির মালিক হওয়া সম্ভব নয়। চাঁদে-মঙ্গলে জমি কেনার প্রলোভন এবং সার্টিফিকেট দেওয়ার ভুয়ো ফাঁদ ইন্টারনেটে রয়েছে, জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞররা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পূর্বতন সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং গ্রেট ব্রিটেনের মধ্যে হওয়া 'আউটার স্পেস ট্রিটি, ১৯৬৭' অনুযায়ী, কোনও দেশের নাগরিকের পক্ষেই চাঁদে জমি কেনা সম্ভব নয়।

এই চুক্তিতে সাক্ষর করেছে ভারতও। এর ফলে চাঁদে অভিযান চালানো এবং চাঁদের বুকে পতাকা পোঁতা সম্ভব হলেও জমির দাবি করা বেআইনি।  কিন্তু, যে জমির টুকরো কোনওদিন হাতেই পাওয়া যাবে না, সেই জমি কেন কিনলেন এই যুগল? আকাশ এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, “বিজ্ঞানের অগ্রগতি হচ্ছে। যদি সত্যি কোনওদিন চাঁদে যাওয়া যায়!