চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ মালদার তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে

চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ মালদার তৃণমূল নেতার  বিরুদ্ধে

মালদা: চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা মোটা টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। তিনি জেলা পরিষদের সদস্যও। চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইতে গেলে উল্টে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করারও অভিযোগ উঠেছে ওই নেতা ও তার এক ছেলের বিরুদ্ধে।

এমনকি বন্দুক দেকিয়ে তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তুলেছেন দলেরই এক কর্মী। পাশাপাশি তার বাড়িতে চড়াও হয়ে দলেরই একাংশের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার অভিযোগ তুলেছেন জেলা পরিষদের ওই সদস্য। মালদহের রতুয়ার ভাদো এলাকায় মঙ্গলবারের ঘটনা। এদিন ওই ঘটনাকে ঘিরে সকাল থেকে তেতে ওঠে ভাদো এলাকা। টাকা ফেরত চাওয়ায় হামলায় আহত হয়েছেন দলেরই এক কর্মী।

রতুয়া হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সার পর অবশ্য তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে দুপক্ষের তরফেই পুলিশ অভিযোগ জানানো হয়। নির্বাচনের মুখে এমন ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছেন দলীয় নেতৃত্ব। টাকা নেওয়ার অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন জেলা পরিষদ সদস্য হুমায়ুন কবীর।

চাঁচলের এসডিপিও শুভেন্দু মন্ডল  বলেন, দুপক্ষই অভিযোগ করেছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখে আইনমাফিক পদক্ষেপ করা হবে। পুলিশ ও তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক স্কুলে, গ্রাম পঞ্চায়েতে ও আশাকর্মীর চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে দু বছর আগে হুমায়ুন এলাকার বেশ কিছু প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা টাকা নেন বলে অভিযোগ। তিনি মোট ৩০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন বলেও পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়েছে!

প্রার্থীদের অনেকের কাছ থেকে আবার অরিজিনাল নথিপত্রও নিয়েছিলেন, অভিযোগ এমনই। এই চাকরি প্রার্থীরা সকলেই দলেরই কর্মী। কেউ সরাসরি, কেউ দলেরই কোনও কর্মীর মাদ্যমে হুমায়ুনকে টাকা দেন বলে অভিযোগ। কিন্তু তাদের চাকরি না হওয়ায় তারা টাকা ফেরত চান।

আজ দেব, কাল দেব করে তিনমাস থেকে তিনি প্রার্থীদের ঘোরাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। তারপরেই এদিন তার বাড়িতে যান জুবাইর আহমেদ নামে দলেরই এক কর্মী। জুবাইরের অভিযোগ, ওই তৃণমূল নেতার সঙ্গে তাদের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। তাই বিশ্বাস করে দুজন আশাকর্মীর জন্য হুমায়ুনের হাতে চারলক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। পাশাপাশি আব্দুল আলিম নামে একজন প্রাথমিকে চাকরির জন্য ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল।

উনি টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন না। এদিন টাকা ফেরত ও বন্ধু আলিমের মার্কশিট আনতে হুমায়ুনের বাড়িতে গেলে হামলা করা হয় বলে অভিযোগ। হাত দিয়ে বাধা দেওয়ায় অস্ত্রের আঘাতে হাত কেটে যায়। জুবাইর বলেন, আমার মাধ্যমে যাদের টাকা দেওয়া হয়েছিল, চাকরি না হওয়ায় তারা টাকা ফেরত চেয়ে আমার উপরে চাপ দিচ্ছেন হাত দিয়ে বাধা দেওয়ায় অস্ত্রের আঘাতে হাত কেটে যায়।

ওর এক ছেলে বন্দুক দিয়েও আমাদের ভয় দেখায়। লোকজন ছুটে আসায় কোনও রকমে প্রাণে বেঁচে যাই। মহম্মদ সাজাহান নামে এক প্রার্থী বলেন, আশাকর্মী পদে স্ত্রীর জন্য আমি দু লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম। বলেছিল ১০ দিনের মধ্যে কাজ হয়ে যাবে। কিন্তু দু বছর পার হলেও কাজ হয়নি। টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না।

যদিও চাকরির নাম করে টাকা নেওয়া ও হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে হুমায়ুন কবির  পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আমাকে নানাভাবে হেনস্থা করতে দলেরই একাংশ সিপিএম, কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমাকে অপদস্থ করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আগেও হামলার চেষ্টা করেছে।

এদিন আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দলবল নিয়ে বাড়িতে চড়াও হয়ে আমার উপর হামলার চেষ্টা হয়। পুলিশকে তা জানানো হয়েছে। রতুয়া-১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি ফজলুল হক ফোন এ যোগাযোগ করা হলে এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাকরির নাম করে যিনি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ, সত্যি হলে তার পাশাপাশি যারা দিয়েছে তারাও সমান অপরাধী। সরকারি চাকরিতে টাকা লাগে না। এরা সকলেই দলের নাম বদনাম করছেন। সত্যি হলে পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনী পদক্ষেপ করুক। কেউ অন্যায় করলে দল তাদের কারও পাশে দাঁড়াবে না।