নন্দীগ্রাম মামলায় মমতাকে ৫ লাখ টাকার জরিমানা , সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি

নন্দীগ্রাম মামলায় মমতাকে ৫ লাখ টাকার জরিমানা ,  সরে দাঁড়ালেন  বিচারপতি

নন্দীগ্রাম গণনা কারচুপির মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ। তবে সেই সঙ্গে জরিমানা করা হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। ৫ লক্ষ জরিমানা দিতে বলা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে। কেন জরিমানা করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর? আদালত সূত্রের খবর, শাসকদলের তরফে ডেরেক ও ব্রায়েন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিচারপতি কৌশিক চন্দের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের ছবি পোস্ট করেছিলেন। টুইট করেছিলেন মহুয়া মৈত্রও। এছাড়াও কৌশিক চন্দের বিরুদ্ধে আদালতের বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন আইনজীবীরা। এসবের ভিত্তিতেই জরিমানা করা হয়েছে।

নন্দীগ্রামের ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলার ভার ছিল বিচারপতি কৌশিক চন্দের উপর। বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে সেখানে হেরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁকে নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়। শাসকদলের তরফে অভিযোগ ওঠে বিচারপতি বিজেপি ঘনিষ্ঠ। এমনকি বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ছবিও প্রকাশ্যে আসে। প্রথম থেকেই বিচারপতির সরে দাঁড়ানোর দাবি তুলেছিল তৃণমূল কংগ্রেস।

ভার্চুয়াল শুনানিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি তাঁকে বলেছিলেন, 'আপনি বিজেপি ঘনিষ্ঠ'। এদিন মামলা থেকে সরে যাওয়ার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জরিমানা করেন কৌশিক চন্দ। তিনি বলেন, বিচারপতি সর্বদা নিরপেক্ষ থাকেন। পেশার তাগিদেই তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে তাঁর বিরুদ্ধে এমন পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে।

এই মামলার বিচার করা তাঁর সাংবিধানিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে বলেও জানিয়েছেন কৌশিক চন্দ। কিন্তু মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোই শ্রেয় মনে করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ইতিমধ্যে বহু সুবিধাবাদী মানুষ এ ব্যাপারে কথা বলতে শুরু করেছেন। আমি যদি মামলা না ছাড়ি তাঁরা এই বিতর্ক জিইয়ে রাখবেন। মামলা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। এটা হতে দেওয়া যায় না। তাই আমি মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। 

কিন্তু একে পরিকল্পিত বলল তৃণমূল। এদিন নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট শেখ সুফিয়ান বলেছেন, 'এই জরিমানা পরিকল্পিত। আমরা এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাব। আমাদের নেত্রী সুপ্রিম কোর্টে যাবেন।' এই মামলার জন্য নন্দীগ্রাম-কলকাতা ছোটাছুটি করছেন সুফিয়ান। এদিন তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, একজন মানুষের ভোটে নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে এ ভাবে জরিমানা করা যায় না। সুফিয়ান আরও বলেছেন, বিচারপতি সরে যাওয়ার আগে যে ভাবে জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন তা পরিকল্পিত।

বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে নন্দীগ্রাম গণনায় কারচুপি মামলা নিয়ে গোড়া থেকেই আপত্তি জানাচ্ছিল তৃণমূল। শাসকদলের বক্তব্য ছিল, বিচারপতি চন্দ বিজেপির ঘনিষ্ঠ। আদর্শগত ভাবেই তিনি গেরুয়া শিবিরের কাছের। শুধু বলা নয়। আইনজীবী থাকার সময় বিজেপির ল' সেলের বৈঠকে দিলীপ ঘোষের সঙ্গে তাঁর ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে প্রশ্ন তুলেছিলেন ডেরেক ও'ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, কুণাল ঘোষরা। এদিন মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর আগে বিচারপতি চন্দ বলেছেন, 'দুর্ভাগ্যজকভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দালকে চিঠি লিখেছিলেন।

যা দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়ে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যায়। সারা পৃথিবীর কোথাও এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি। আমার বিরুদ্ধে যে আভিযোগ করা হয়েছে আমি বিজেপির বহু মামলায় ছিলাম। আমি আইনজীবী হিসেবে যে কাজ সেটাই করে গিয়েছি।' তিনি এও বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে মামলাকারীর পক্ষ থেকে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার জন্য তিনি সরছেন না। বরং, বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার কারণেই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে জরিমানার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এবার সুপ্রিম কোর্টের পথে তৃণমূল।