ভোট পরবর্তী হিংসার মাঝে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন মমতা

ভোট পরবর্তী হিংসার মাঝে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন মমতা

ভোটপরবর্তী হিংসা নিয়ে উত্তাল গোটা রাজ্য। রবিবার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই বাংলার নানা প্রান্ত থেকে খবর আসতে থাকে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার, রাজনৈতিক কর্মীদের মারধর করার। এই পরিস্থিতিতে রাজভবনে শপথ নেওয়ার পর গার্ড অফ অনারের মধ্যে দিয়ে নবান্নে প্রবেশ। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর কাজ শুরু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ২ তারিখে টানটান উত্তেজনায় প্রকাশ হয়েছে ভোটের ফলাফল। নানারকম জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে জিতে গেছে তৃণমূল। যতটা প্রত্যাশা করা গেছিল, তার থেকে অনেকটা কম আসনেই খাতা বন্ধ করেছে বিজেপি। তবে এর পর থেকেই ভোট-পরবর্তী হিংসার ছবি এসেছে রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে।

বিজয়ী দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে সন্ত্রাসের। সংযুক্ত মোর্চা ও বিজেপির তরফে বারবার দাবি করা হয়েছে, তারা বিপদের মুখে। কোথাও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে বাড়ি, কোথাও মারধর করা হয়েছে রাজনৈতিক কর্মীদের। রাজ্যের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সেলেব- সকলেই সরব হয়েছেন এই হিংসার বিরুদ্ধে। এমনই পরিস্থিতিতে রাজ্যের হিংসা নিয়ে টুইট করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়, আর তা তিনি করলেন মমতার শপথ নেওয়ার কিছু আগেই। কলকাতা পুলিশ, রাজ্য পুলিশ ও মুখ্যমন্ত্রীর অফিসিয়াল পেজকে মেনশন করে তিনি লেখেন, 'সারা রাজ্য থেকে যে হিংসার রিপোর্ট পাচ্ছি, তা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। এই নিরর্থক হিংসা গণতন্ত্রের লজ্জা।

আইনশৃঙ্খলার এই পতন মেনে নেওয়া যায় না।' ভোটের ফল প্রকাশের পর যে বাংলায় রাজনৈতিক হিংসা ছড়াতে পারে সেই আশঙ্কা ছিলই। হয়েছেও তাই। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ বিক্ষিপ্ত ভাবে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটছে। কোথাও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কোথাও মারধর করা হচ্ছে, কোথাও খুন পর্যন্ত হচ্ছে। এ সব ঘটনা নিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন বাম ও বিজেপি নেতারা। সোমবার এ ব্যাপারে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ জানিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। তার পর আবার এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে রাজ্য সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।

বাম জমানায় জেলায় যে ধরনের সন্ত্রাসের পরিস্থিতি ছিল, বলতে গেলে বহু জায়গাতেই তেমন পরিস্থিতি হয়েছে। তৃণমূলও যে আক্রান্ত হচ্ছে না তা নয়। কোচবিহারে তৃণমূল কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ। আবার তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগও উঠছে। ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার ফোনও করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে। এর পরে টুইট করে ধনকড় জানান, 'রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অতিশয় উদ্বেগ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমিও তাঁকে জানিয়েছি যে লুঠ, ভাঙচুর, খুন, হিংসার ঘটনা ঘটেই চলেছে। এ সবই এখনই বন্ধ করা উচিত'।

এই টুইটেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মেনশন করেছিলেন রাজ্যপাল। গতকাল দুপুরে রাজ্যে এসেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। গতকাল বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র সঙ্গে তিনি বৈঠক করেছিলেন। জেপি নাড্ডা জানিয়েছেন, বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে তাঁরা যে ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন, তাতে তাঁরা হতবাক ও চিন্তিত। দেশভাগের সময় তাঁরা এমন ঘটনার কথা শুনেছিলেন, কিন্তু নির্বাচনের পর স্বাধীন ভারতে তাঁরা কখনো এরকম ঘটনা দেখেননি। তিনি আরো জানান যে, তাঁরা মতাদর্শগত ভাবে লড়াই করবেন। তৃণমূল কংগ্রেসের কাজকর্মের বিরুদ্ধে লড়াই করতে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতান্ত্রিকভাবে লড়াইয়ের জন্য তাঁরা প্রস্তুত আছেন।