জওয়ানদের ঘিরে মাওবাদীর ভয়ানক হামলা, ২১ জন এখনও নিখোঁজ

জওয়ানদের ঘিরে মাওবাদীর ভয়ানক হামলা, ২১ জন এখনও নিখোঁজ

ছত্তিশগঢ়ের বিজাপুরে শনিবার মাওবাদীদের সঙ্গে সংঘর্ষে শহিদ পাঁচ জওয়ানের মধ্যে দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও ২১ জন জন নিখোঁজ বলে জানা যাচ্ছে। তাদের খোঁজে এদিন সকালে আরও একবার তল্লাশি চালায় সিআরপিএফ। সংবাদসংস্থা এএনআই জানাচ্ছে, ঘটনাস্থল থেকে আরও ১৪ টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। তবে মৃতদেহগুলি কাদের সেই ব্যাপারে এখনও কিছু জানানো হয়নি। জোনাগুরার পাহাড়ি অঞ্চলে মাওবাদীরা ঘাঁটি গেড়েছে বলে খবর পেয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনী।

শুক্রবার রাতেই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোবরা ব্যাটেলিয়ান ও এসটিএফ যৌথ অভিযান চালায়। কিন্তু শনিবার নকশালরা প্রায় ৭০০ জওয়ানকে ঘিরে ভয়ানক হামলা চালায়। পাহাড়ি অঞ্চলে জওয়ানদের ওপর এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে তারা। দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে প্রায় চার ঘন্টা। ১৫ জন মাওবাদীকে খতম করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। শহিদ হয়েছেন পাঁচ জওয়ান। ২১ জন জওয়ান এখনও নিখোঁজ।

৩১ জন জওয়ান গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। টুইট করে তিনি লিখেছেন, ছত্তিশগঢের শহিদ জাওয়ানদের প্রতি আমার শ্রদ্ধার্ঘ, পরিবারের প্রতি সমবেদনা। বীরদের আত্মবলিদান কখনও ব্যর্থ হবে না। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শহিদ জাওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেছেন।

তিনি ইতিমধ্যে ছত্তিশগঢের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলের সঙ্গে কথা বলেছেন। কেন্দ্রের তরফে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। জানানো হয়েছে, নিহত ও আহত জওয়ানদের সবরকম সাহায্য করবে কেন্দ্র-রাজ্য। বিজাপুর-সুকমা জেলার সীমান্তে অবস্থিত জোনাগুরা নকশালদের প্রধান এলাকা। ওই এলাকায় নকশালদের ব্যাটেলিয়ান সবসময় থাকে বলে খবর পেয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনী।

ওই এলাকায় ব্যাটেলিয়ান সামলায় সুজাতা নামের একজন মহিলা মাওবাদী। এসব খবর আগে থেকেই পেয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনী। এমনকি বাহিনীর ওপর হামলা হতে পারে সেটাও আগে থেকেই আন্দাজ করেছিলেন সিআরপিএফ অধিকর্তারা। সেই জন্য গোটা এলাকায় দুহাজারের বেশি জওয়ানকে নামানো হয়েছিল।

কিন্তু ওই এলাকার প্রতিটি ইঞ্চি মাওবাদীদের চেনা। তাই জওয়ানদের তিন দিক থেকে ঘিরে তারা ফায়ারিং শুরু করে। এই নিয়ে ১০ দিনের মধ্যে দুবার ওই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর মাওবাদীরা হামলা করল। এর আগে ২৩ মার্চ মাওবাদী হামলায় পাঁচ জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন। নারায়ণপুরে আইইডি ব্লাস্ট করিয়ে বাহিনীর গাড়ি উড়িয়ে দিয়েছিল নকশালরা।