দু'দশক পরে দুই শক্তির লড়াই, আত্মবিশ্বাসী র‍্যাশ ফোর্ড , হুঙ্কার কিমিখের

দু'দশক পরে দুই শক্তির লড়াই, আত্মবিশ্বাসী র‍্যাশ ফোর্ড , হুঙ্কার কিমিখের

 ইউরোয় লড়াইয়ের আগে প্রস্তুতিতে ইংল্যান্ডের র‌্যাশফোর্ড (বাঁ-দিকে) ও জার্মানির হুমেলস। গেটি ইমেজেস গোলাগুলি ছোড়া শুরু হয়ে গিয়েছে দুই শিবির থেকেই। আগামী মঙ্গলবার ওয়েম্বলিতে মহারণ ইংল্যান্ড বনাম জার্মানির।তার আগেই ম্যাচের উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে একে উপরের দিকে ছুড়ে দেওয়া হুঁশিয়ারির সুর। এই প্রতিযোগিতায় শেষ বার ২০০০ সালে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দেশ। সে বার গ্রুপ পর্বে অ্যালান শিয়ারারের গোলে জিতেছিল ইংল্যান্ড। তার পরে ২১ বছর পরে এ বার ফের দেখা হচ্ছে দুই প্রতিপক্ষের।

১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে জিয়োফ হার্স্টদের ইংল্যান্ড হারিয়েছিল জার্মানিকে। তার পরে নকআউট পর্যায়ে কোনও বড় প্রতিযোগিতায় জার্মানদের বিরুদ্ধে জয় নেই ইংল্যান্ডের। বল মাঠে গড়ানোর আগেই শুরু হয়ে গিয়েছে দু'দেশের প্রাক্তন ও বর্তমানদের বিবৃতির লড়াই। ইংল্যান্ড দলের তারকা স্ট্রাইকার মার্কাস র‌্যাশফোর্ড যেমন শুনিয়ে দিয়েছেন, অতীত নিয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই।

ওয়েম্বলিতে ইতিহাস গড়েই তাঁরা হারাবেন জার্মানিকে। যা শুনে বিশ্বকাপজয়ী জার্মানি দলের প্রাক্তন অধিনায়ক লোথার ম্যাথেউজ আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, মঙ্গলবারের ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ালে জার্মানিকে হারাতে পারবে না ইংল্যান্ড। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে ইউরো সেমিফাইনালে নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ১-১ শেষ হওয়ার পরে খেলা গড়িয়েছিল টাইব্রেকারে। সেখানে বর্তমান ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের শট আটকে জার্মানিকে জিতিয়েছিলেন গোলকিপার আন্দ্রেস কোপকে।

সেই প্রসঙ্গ টেনে ইংল্যান্ড দলের ফুটবলার জর্ডান হেন্ডারসন বলেছেন, ‍'‍'ইউরোয় সাউথগেটের স্বপ্নভঙ্গের অধ্যায় থেকে শিক্ষা নিয়েই প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে নামবে ইংল্যান্ড।'' হুঙ্কার দিয়েছেন ফিল ফডেনও। তাঁর কথায়, ‍'‍'ক্লাবের হয়ে গোল করে অনেক স্মরণীয় ম্যাচ জিতেছি। এ বার জাতীয় দলের হয়েও সেরা ম্যাচ খেলতে চাই। নকআউটে প্রথম ম্যাচে সুযোগ পেলে নিজেকে উজাড় করে দেব।'' যোগ করেছেন, ‍'‍'বিপক্ষে কে রয়েছে, তা নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করতে চাই না। বড় প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে বড় দলকেই হারাতে হয়।

আমরা সেই লক্ষ্যেই তৈরি হচ্ছি।'' জার্মানির প্রাক্তন ফুটবলার ডেটমার হামান অবশ্য এ বারও তাঁর দেশের সাফল্য নিয়ে আশাবাদী। বলেছেন, ‍'‍'২১ বছর আগের ম্যাচ ভুলে যান। তার পরে কোনও দিন জার্মানিকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারেনি ইংল্যান্ড। বরং আমাদের জাতীয় দলকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা স্পেনের বিরুদ্ধে। ইংল্যান্ড কোনও বড় প্রতিদ্বন্দ্বী নয়।'' মগজাস্ত্রে শান দিচ্ছেন দু'দলের কোচ জার্মানির ওয়াকিম লো এবং ইংল্যান্ডের গ্যারেথ সাউথগেট। আভাস মিলছে জার্মানির বিরুদ্ধে প্রথম ৩-৪-৩ ছকে দল সাজাতে পারেন সাউথগেট।

সে ক্ষেত্রে রক্ষণে ফিরতে পারেন হ্যারি ম্যাগুয়ের। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে তিন ব্যাক রক্ষণে রেখেই নকআউট পর্বে গিয়েছিলেন ইংল্যান্ড কোচ। এ বারও আস্তিন থেকে পুরনো তাস তিনি বের করতে পারেন বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। এরই মাঝে ম্যাগুয়ের আবার বলেছেন, ‍'‍'অতীতে টাইব্রেকারে হারার ইতিহাস মাথায় রেখে পেনাল্টি মারার মহড়া চলছে। জার্মানির বিরুদ্ধে ম্যাচে জিততে গেলে দৃঢ় মানসিকতারও প্রয়োজন রয়েছে। এ ছাড়া, গোল না খেয়ে ম্যাচ শেষ করাটাও একটা বড় পরীক্ষা।'' এই ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল যাওয়ার জন্য প্রহর গুনছে জার্মান শিবিরও। জোশুয়া কিমিখ যেমন বলেছেন, ‍'‍'ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে ভাল কিছু হতে পারে না। আমরা উত্তেজনায় ফুটছি। ভুলত্রুটি শুধরে অনেকটাই উন্নতি করেছি। মাঠে নামার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।''