পশ্চিম মেদিনীপুরে ট্রাক চালককে খুনের মামলায় গ্রেফতার মাস্টার মাইন্ড

পশ্চিম মেদিনীপুরে  ট্রাক চালককে খুনের মামলায় গ্রেফতার মাস্টার মাইন্ড

খড়্গপুর গ্রামীণ থানার রূপনারায়ণপুর এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছিল এক ব্যক্তির মৃতদেহ। তিনদিন পর ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানতে পারে পুলিশ। জানা যায়, পেশায় ট্রাক চালক বাবলু প্রজাপতি উত্তর চব্বিশ পরগণার টিটাগড়ের বাসিন্দা। পলিমার বোঝাই ট্রাক নিয়ে তিনি রওনা দিয়েছিলেন হলদিয়া থেকে মহারাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে। মাঝখানে খুন হতে হয় তাঁকে, আর মালবোঝাই ট্রাক গায়েব হয়ে যায়! খুনের কিনারা করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছিল খড়্গপুর গ্রামীণ থানার পুলিশ।

অবশেষে,  সেই খুনের কিনারা হয়েছে আর খুনের 'মাস্টার মাইন্ড'- নিরঞ্জন সাউ-কে কলকাতা থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে এসেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে খড়্গপুর আয়মার সন্দীপ জয়সওয়াল নামে এক প্লাস্টিক ব্যবসায়ীকেও। সন্দীপকে বেশকিছু পলিমার বিক্রি করেছিল নিরঞ্জন। নিরঞ্জনের নামে একাধিক দুষ্কৃতী মূলক কাণ্ডকারখানার অভিযোগ আছে বলে জানা গেছে।

এই খুন আর ছিনতাইয়ের ঘটনায় তাকেই 'মাস্টার মাইন্ড' বলে মনে করা হচ্ছ।ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ ডিসেম্বর হলদিয়া থেকে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার পলিমার বোঝাই করে একটি ট্রাক মহারাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। ট্রাকের চালক ছিলেন বাবলু প্রজাপতি। তাঁর এক সহযোগীও নাকি ছিল। এরপর, ২৪ ডিসেম্বর সকাল থেকে বাবলু'র সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ট্রাকের মালিকের (হুগলি জেলার বাসিন্দা বলে জানা যায়)। আর, ওই ২৪ ডিসেম্বর সকালেই খড়্গপুর গ্রামীণের রূপনারায়ণপুর এলাকা থেকে একটি রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এদিকে, ট্রাকের শেষ লোকেশন খড়্গপুর গ্রামীণ দেখানোয়, মালিক ২-৩ দিন পরে গ্রামীণ থানায় অভিযোগ জানাতে আসে। ব্যাস! দুইয়ে দুইয়ে চার হয়ে যায়। পুলিশ জানতে পারে, হলদিয়া থেকে কয়েক লক্ষ টাকার পলিমার নিয়ে যে ট্রাকটি (WB17-2509) মহারাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল, সেই ট্রাকের চালক বাবলু প্রজাপতি-কে খুন করে মাল ভর্তি ট্রাক নিয়ে পালিয়ে গেছে দুষ্কৃতীরা। ওই ট্রাকটি আবার ২৫ ডিসেম্বর নদীয়ার নাকাশিপাড়া থেকে আটক করা হয়েছিল সম্পূর্ণ খালি অবস্থায়!

সুতরাং, ট্রাকের মাল গায়েব। এরপরই, তদন্ত শুরু করে খড়্গপুর গ্রামীণ থানার পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে খড়্গপুর গ্রামীণ থানার পুলিশ কলকাতার দমদম এলাকা থেকে এই পুরো কান্ডের 'মাস্টার মাইন্ড' নিরঞ্জনকে গ্রেপ্তার করে। তার বাড়ি থেকে ৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা নগদ বাজেয়াপ্ত করা হয় বলে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার জানান।

এরপরই, নিরঞ্জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে খড়্গপুর শহরের আয়মা থেকে সন্দীপ জয়সওয়াল নামে এক প্লাস্টিক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয় এবং চুরি যাওয়া বেশকিছু পলিমার উদ্ধার হয়! নিরঞ্জন-ই বাবলু প্রজাপতির খুন এবং ট্রাক ছিনতাই কান্ডের প্রধান আসামি বলে মনে করা হচ্ছে। কুখ্যাত এই দুষ্কৃতী-কে গ্রেপ্তার করায় এ যাবত্‍কালের এক বড়সড় সাফল্য লাভ করল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ।

কারণ, আন্তঃজেলা এবং আন্তঃরাজ্য ট্রাক ছিনতাই চক্রের সঙ্গে এই কুখ্যাত দুষ্কৃতী জড়িত থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দু'জনকে বুধবার আদালতে তুলে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করবে পুলিশ। তারপরই বোঝা যাবে, কিভাবে খুন হয়েছিল বাবলু প্রজাপতি। আর খুনের ছক কিভাবেই বা কষা হয়েছিল। বাবলুর সহযোগীই বা কোথায় গেল। এই চক্রের সঙ্গে আর কে কে জড়িত প্রভৃতি।