ওঁরা শ্রমিক! মে দিবসেও কাজ করে পেটের তাগিদে

ওঁরা  শ্রমিক! মে দিবসেও কাজ করে পেটের তাগিদে

মলয় দে  :-আজ আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস । বিভিন্ন দেশের শ্রমিক সংগঠনের মানুষেরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে রাজপথে মিছিল বার করতে প্রতক্ষ্য করা যায় আজকের দিনেই । এর সাথেই যুক্ত আছে 1886 সালে  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক ঐতিহাসিক ঘটনা । 1886 সালের পূর্বে শ্রমিক মজুর সম্প্রদায়ের মানুষেরা ছিল অত্যাচারিত, শোষিত , বঞ্চিত , লাঞ্ছিত ও নিপীড়ত । সাধারণ ভাবে তাদের পরিশ্রমের কোনো সীমা পরিসীমা ছিল না । ঘণ্টার পর ঘন্টা তাদের দিয়ে পরিশ্রম করানো হতো । কখনো কখনো তাদের সহ্যের বাঁধ ভাঙলে তারা প্রতিবাদে গর্জে উঠতো, কিন্ত তাদের নির্দিষ্ট কোনো সংগঠন ছিল না । কাজেই তাদের ওপর ঘটে যাওয়া সকাল অমানুষিক নির্যাতন তারা মুখ বুজে সহ্য করতে বাধ্য হতো ।

কিন্তু 1886 সালে এর বাঁধ ভাঙলো । এই বছর দৈনিক আট ঘণ্টা  কাজের দাবিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হে মার্কেটে তারা জমায়েত হয়েছিল । তাদেরকে ঘিরে ধরেছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী । কিন্তু অজ্ঞাতনামা এক শ্রমিক হঠাৎ পুলিশ বাহিনীকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করলে পুলিশ বাহিনীও গুলি বর্ষন শুরু করে শ্রমিক মজুর সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর  । ঘটনাস্থলে 10 থেকে 12 জন শ্রমিক মজুর সহ কয়ে ক জন পুলিশ কর্মী নিহত হয়েছিলেন বলেই শ্রমিক দিবসের ইতিহাস সূত্রে জানা যায় । এরপর 1891 সালে আন্তর্জাতিক এক সম্মেলনে মে দিবস অর্থাৎ 1লা মে কে আনুষ্ঠানিক ভাবে পালন করা ও মান্যতা দেবার কথা গৃহীত হয় ।

এরপর শ্রমিকের আট ঘণ্টা   কাজের দাবিতে ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্ব জুড়ে মিছিল ও শোভাযাত্রা আয়োজন করে সমস্ত শ্রমিক সংগঠনগুলি । অনেক দেশেই শ্রমজীবী জনতা এই দিনটিকে ছুটির দিন হিসাবে পালন করে । আবার বেশ কিছু সংগঠন এই দিনটিকে তাদের ন্যায্য মূল্যের দাবিদাবা জানানোর বিশেষ দিন হিসাবে বেছে নেয়। পূর্বতন সোভিয়েত রাষ্ট্র , চিন , কিউবা সহ অনেক দেশে সামরিক বাহিনীর কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয় ।

তবে আমাদের ভারতবর্ষে মে দিবস পালিত হয় 1923 সাল থেকে । তবে বর্তমানে লক ডাউন পরিস্থিতির জন্য বহু শ্রমিক কাজ হারাচ্ছেন । দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী শ্রমিক মজুরদের অবস্থা বর্তমান প্রেক্ষাপটে আরো ভয়াবহ হয়ে উঠছে । সেই সাথে  নিত্য নৈমিত্তিক দ্রব্যের মূল্য হয়ে উঠেছে গগনচুম্বী । দীর্ঘ লকডাউন এ কাজ বন্ধ থাকার পর দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে সংসারের দায়-দায়িত্ব। পরিযায়ী শ্রমিকদের অবস্থা আরো শোচনীয়! আবার আমাদের ভারতবর্ষে কত ছোট ছোট শিশু পড়াশোনা করার পরিবর্তে মুদিখানার দোকান , শহরের রেস্তরাঁ বা হোটেলে দিবারাত্র পরিশ্রম করে সহায় সম্বলহীন সংসারের ধারক ও বাহক হয়ে উঠেছে ।

এরা অসংগঠিত শ্রমিক , কত যন্ত্রণা , শোষণ ও বঞ্চনা মাথায় করে দিবারাত্র এদের পরিশ্রম করতে হয় দুমুঠো ভাত খাবার তাগিদে । ভোট আসে ভোট যায় , কত রাজনৈতিক নেতৃত্বে গরমাগরম ভাষণ শ্রবণে ওরা বাধ্য থাকে নির্লিপ্ত চিত্তে । --- ওরা যে অসংগঠিত শ্রমিক । অবলীলাক্রমে চিত্তে ভেসে ওঠে কিশোর কবি সুকান্তের কবিতার লাইন " ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় , পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি " । আজ আমাদের ক্যামেরায় ধরা পড়লো এইরকমই বেশ কিছু চিত্র।