মেদিনীপুর

মেদিনীপুর

  Medinipur মেদিনীপুর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সদর শহর। গোড়ার কথায় এর ইতিহাস ও নামকরণ সম্মন্ধে লেখা হয়েছে। সব দিক থেকে বিচার করলে এই শহরের বয়স ৮০০ বছরের মতো। বহুদিনের দীর্ঘ ইতিহাস ও তার স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মেদিনীপুর শহর। ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে মেদিনীপুর জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দের ২২ সেপ্টেম্বর মেদিনীপুর শহর সদর হিসেবে স্বীকৃতি পায়। 

কংসাবতী নদীর ধারে এই শহরটি সত্যই সুন্দর। কলকাতা থেকে মাত্র ১৩৫ কিলোমিটার দূরে মেদিনীপুরে সেই অর্থে পর্যটক কম আসেন। গাড়ি-ঘোড়ার দৌড়াদৌড়ি, অফিস-আদালত, ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যস্ততা নিয়ে শহর মেদিনীপুর ব্যস্ত থাকলেও এখানে অনেক কিছু রয়ে গেছে দেখার মতো। একটু প্ল্যানমাফিক ঘুরলে শহর দেখা সম্পূর্ণ হবে।

যাদের হাতে সময় কম তাদের সেখপুরা চার্চ, মির্জা মহল্লার জোড়া মসজিদ ও খানকা শরিফ, বড়বাজারের শীতলা মন্দির, কর্নেলগোলার মাজার, বিদ্যাসাগর মন্দির, কলেজিয়েট স্কুল, হবিবপুরে সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, সুজাগঞ্জে জগন্নাথ মন্দির, নতুন বাজারে পঞ্চরত্ন কালীমন্দির প্রভৃতি প্রধান প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলি অবশ্যই দেখা উচিত। আর যারা ভালভাবে পায়ে পায়ে ঘুরে দেখবেন তাদের এক থেকে দেড় দিন লেগে যাবে শহর দেখতে।

রিকশা বা টোটোগাড়ির সাহায্যে ঘুরলে একদিনে পুরো শহর দেখা হয়ে যাবে। সবচেয়ে ভাল হয় যদি ভ্রমণকারী তার নিজের মতো রুট তৈরি করে ঘোরেন। শহরে রাত্রিবাস যেখানেই হোক, স্টেশনের সামনে চলে এসে সেখপুরা চার্চ থেকে শুরু করা যেতে পারে। প্রাচীর দিয়ে ঘেরা প্রশস্ত প্রাঙ্গণের মধ্যে চার্চ অফ ইংলন্ড মিশনের সেন্ট জনস চার্চ অবস্থিত। এটি ১৮৫১ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত।

প্রাচীন চার্চটির সুউচ্চ চূড়া যেন আকাশ ছুঁতে চায়। এই এলাকার মধ্যে একটি সমাধিক্ষেত্রও রয়েছে। এখান থেকে কাছেই নগর ও বিনোদন বনায়ন বিভাগের সুকুমার সেনগুপ্ত স্মৃতি উদ্যান। সুন্দর সাজানো-গোছানো উদ্যানে বোটিং, টয় ট্রেন ও শিশুদের মজার উপকরণের ব্যবস্থা আছে। প্রবেশমূল্য ১৫ টাকা। সকাল ৮টা থেকে ১২টা ও বিকেল ৩টা থেকে ৬টা অবধি খোলা থাকে।

এখান থেকে কেরানিটোলায় গেলে দেখা যাবে রোমান ক্যাথলিক চার্চ। ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে নির্মল হৃদয় মা মারিয়ার নামে গির্জাটি স্থাপিত হয়। ফাদার ক্রাভক্স ও ফাদার ডেপিল এই প্রতিষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে বিদ্যালয় স্থাপনের মধ্য দিয়ে শিক্ষা ও সমাজসেবার কাজ তারা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখান থেকে অতীতের অনেক বিচারের সাক্ষী জজ কোর্ট দেখে কাছে নরমপুর পল্লিতে গেলে দেখা যাবে জন পিয়ার্সের সমাধি, যিনি ১৭৭৭ খ্রিস্টাব্দে এই জেলার প্রথম কালেক্টর ছিলেন। একটি স্মৃতিস্তম্ভ সমাধির ওপর রয়েছে।

এর শিলালিপিটি অপসারিত। বর্তমানে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগ দ্বারা এটি সংরক্ষিত। এখান থেকে পায়ে পায়ে কিছুটা পথ গেলে মিয়াবাজার মহল্লার সামান্য উত্তরে নরমপুর পল্লিতে একটি অসমাপ্ত ইদগাহ আছে। এটি বেশ প্রাচীন। এখানে নাকি শাহজাদা খুররম একদা নামাজ পড়েছিলেন বলে শোনা যায়। এখান থেকে মির্জাবাজার বকুলগঞ্জ এলাকায় গেলে দেখতে পাওয়া যাবে দে ও পাল পরিবারের দুটি আটচালা মন্দির। উল্লেখযোগ্য মন্দিরটি হল ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত রাধাবল্লভের নবরত্ন মন্দির। মন্দিরটিতে পঙ্খের নকশা ও টেরাকোটার সুন্দর ফলকও রয়েছে।

কিন্তু রঙের পরতে অন্যরকম হয়েছে। ভট্টাচার্য বাড়ির এলাকার মধ্যে মন্দির হলেও দর্শনের কোনও অসুবিধা নেই। নিত্যসেবা হয় ঠাকুরের। নবরত্ন এই মন্দিরের উলটো দিকের রাস্তার ওপরে ভট্টাচার্য পরিবারের মাকালীর জোড়বাংলো মন্দির ও তার পাশে গোপালের পঞ্চরত্ন মন্দির। দুটি মন্দিরই প্রাচীন। এখান থেকে গলির ভেতর দিয়ে পায়ে পায়ে পৌঁছনো যায় শহরের অন্যতম দর্শনীয় সতেরো শতকে নির্মিত জোড়া মসজিদে।

বেশ খানিকটা উঁচু ভিত্তি বেদির ওপর মসজিদ অবস্থিত। এরই পূর্ব দিকে রয়েছে খানকা শরিফ নামে পরিচিত মহম্মদ মৌলনা হজরত সৈয়দ শা মেহের আলি আল কাজুরির মাজার। প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের ৩ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত এখানে বার্ষিক উরস পালিত হয়। সেই সময় মেদিনীপুর শহর এক পুণ্যক্ষেত্রে পরিণত হয়। বহু দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন। বাংলাদেশ থেকে একটি রিজার্ভ ট্রেন ভর্তি পুণ্যার্থীরা আসেন। জোড়া মসজিদ থেকে কাছেই মিয়াবাজার মহল্লা। এখানে কিছু প্রাচীন মসজিদ ও মাজার রয়েছে।

তিন-গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি চন্দন শহিদ রহমতুল্লার মসজিদ, যেটি আওরঙ্গজেবের আমলে নির্মিত। মসজিদ সংলগ্ন সৌধের ভেতরে চন্দন শহিদ রহমতুল্লা, তাঁর স্ত্রী, দুই পুত্র ও প্রপৌত্র প্রভৃতির মাজার রয়েছে। কাছেই মহাতপপুরে ইয়াদগার শাহ সাহেবের মসজিদটি উল্লেখযোগ্য। চন্দন শহিদ রহমতুল্লা ও ইয়াদাগার শাহ হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের কাছেই শ্রদ্ধার পাত্র। মেদিনীপুরের ব্যস্ততম গঞ্জ এলাকা বড়বাজারে এলে দেখতে পাওয়া যাবে শীতলা মায়ের উল্লেখযোগ্য মন্দির।

আঠেরো শতকে নির্মিত প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতার শিখর দেউল মন্দিরে মায়ের অবস্থান। এখানে ধর্মমন্দির গলিতে জোড়বাংলা মন্দিরে ধর্মঠাকুর রয়েছেন। বড়বাজারে রয়েছে শ্রীশ্রীশ্যামানন্দ গৌড়ীয় মঠ। মন্দিরে রাধামদনমোহন ও শ্রীমন্মহা প্রভুর নিত্যসেবা হয়। মূর্তিগুলি খুব সুন্দর। বড়বাজার থেকে পায়ে পায়ে শিববাজার গেলে দেখতে পাওয়া যাবে রাধাকান্তজীউয়ের নবরত্ন মন্দির। এটি মল্লিক পরিবার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। বেশ কিছু টেরাকোটা রয়েছে। এছাড়া এই পরিবারের প্রতিষ্ঠিত আটচালা রীতির দ্বাদশ শিব মন্দির ও রাসমঞ্চও দেখা যাবে।

পাশেই মিরবাজার। এখানে রয়েছে প্রায় ২০ ফুট উচ্চতার টিকিয়া মসজিদ। মিরবাজারে বৃহদাকার আটকানো রাসমঞ্চ আছে, যেটি পীড়ি পরিবার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত। এখানে রাধাকান্তের পঞ্চরত্ন মন্দিরটি হনুমান মন্দির নামে বেশি খ্যাত। প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতার এই মন্দিরে পঙ্খের সামান্য অলংকরণ আছে। এটি আঠেরো শতকে নির্মিত বলে অনেকে মনে করেন। একসময় রাম উপাসক এক সন্ন্যাসী রাধাকান্তের মন্দিরে হনুমানজির প্রতিষ্ঠা করার পর থেকে এটি হনুমান মন্দির নামে খ্যাত হয়েছে। এর কাছেই রয়েছে ভারত সেবাশ্রম মন্দির।

এখান থেকে অলিগঞ্জে গেলে দেখা যাবে ৩০ ফুট উচ্চতার ৩০০ বছরের প্রাচীন তিন-গম্বুজ দেওয়ানখানা মসজিদ। কথিত আছে, আওরঙ্গজেবের দেওয়ান কেফায়েতউল্লা এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কর্নেলগোলা মেদিনীপুর শহরের একটি প্রাচীন স্থান। এখানে পাথরের তৈরি একটি প্রাচীন দুর্গের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। কথিত আছে, মেদিনীপুর নগরের প্রতিষ্ঠাতা মেদিনীকর এই দুর্গ তৈরি করেছিলেন।

পরবর্তীকালে এই দুর্গ মোঘলরা এবং মারাঠারা ব্যবহার করেছিল। ইংরেজরা এটিকে প্রথমে সেনানিবাস ও পরে জেলখানা হিসেবে ব্যবহার করে। বর্তমানে এটি সরকারি ভবঘুরে আবাসন। এর পূর্ব দিকের রাস্তা ধরে গেলে মাঠের পাশেই রয়েছে হজরত শাহ মুস্তফা মদনী রহমতুল্লাহ আলায়হের মাজার। প্রতি বছর ১০ই বৈশাখ উরস পালিত হয়। এক-গম্বুজবিশিষ্ট এই মাজারটি আওরঙ্গজেবের আমলে তৈরি। এই পথ ধরে এগিয়ে গেলে পড়বে মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুল। এ এক আবেগমথিত পীঠস্থান। এই বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক ছিলেন রাজনারায়ণ বসু।

হেমচন্দ্র কানুনগো, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, ক্ষুদিরাম বসু প্রমুখ বিপ্লবীদের পদধূলিতে ধন্য এই বিদ্যালয়। ১৭৫ বত্‍সর অতিক্রান্ত এই বিদ্যালয় ভবনটি এখন হেরিটেজ ভবনের স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি অবশ্যই দর্শন করা উচিত। কেল্লার সামান্য উত্তরে শহরের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হল বিদ্যাসাগর মন্দির। ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ এই স্মৃতিমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং ১৯৩৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর এর দ্বারোদঘাটন করেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই কাজ সম্পন্ন করার জন্য বহুলাংশে সাহায্য করেছিলেন মহিষাদলের রাজকুমার দেবপ্রসাদ গর্গ।

এখানে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের মেদিনীপুরের শাখা রয়েছে ও তাদের একটি সংগ্রহশালাও রয়েছে। এই সংগ্রহশালায় প্রাচীন জৈন ও বৌদ্ধমূর্তি, রাজা শশাঙ্কের দুটি তাম্রশাসন, পোড়ামাটির সিলমোহর, মুদ্রা প্রভৃতি রয়েছে। এই ভবনে ঝাড়গ্রাম রাজ গ্রন্থাগার আছে যেখানে অনেক মূল্যবান পুস্তক রয়েছে। শহরের মধ্যস্থলে বিবিগঞ্জে রয়েছে সুউচ্চ শিখর দেউল। এটি অষ্টধাতুর সিংহবাহিনীর মূর্তি। দেবী দুর্গার এই মন্দিরটি ১৩৪২ সনের আশ্বিন মাসে তৈরি হয়েছে। এখান থেকে পাটনাবাজারে গেলে দেখা যাবে মহাপ্রভুর আটচালা মন্দির।

সামনে প্রশস্ত দালান, গরুড় মূর্তি ও তুলসীমঞ্চ রয়েছে। গৌর-নিতাইয়ের এই মন্দিরটি আঠেরো শতকের শেষ দিকে তৈরি। এই এলাকাতে শীতলানন্দ শিবের একটি মন্দির আছে। এখান থেকে কাছে একটি সত্‍সঙ্গ মন্দির আছে। খাপরেল বাজারে শিবের একটি সপ্তরথ শিখর দেউল আছে। এরই সামান্য দূরে সিপাহিবাজারে শাহজাহানের আমলে নির্মিত এক-গম্বুজ মসজিদ দেখা যায় যেটি সাধল বা চোল শাহ মসজিদ নামে খ্যাত। সিপাইবাজার থেকে কাছেই হবিবপুর। এখানে রয়েছে বিখ্যাত সিদ্ধেশ্বরী কালীমায়ের মন্দির।

মন্দির কমিটির দাবি, শ্রীশ্রীকালীমাতা ঠাকুরানির আধুনিক পাঁচশত বত্‍সর পূর্বে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। কালীমাতা আদতে দীর্ঘাঙ্গী পরিবারের কুলদেবী। বর্তমানে মন্দির পরিচালনা কমিটি তৈরি করে তার ওপর পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পাঁচমুড়ার শিল্পীদের দ্বারা মন্দিরের রূপ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। একটি সুসজ্জিত সুদৃশ্য মন্দিরে রূপায়িত হয়েছে। মন্দিরের এলাকার মধ্যে মায়ের মূল মন্দির, শিব মন্দির, পঞ্চমুণ্ডির আসন, অস্থায়ী গর্ভগৃহ, ষষ্ঠী ঠাকুরানির স্থান প্রভৃতি রয়েছে। সুদৃশ্য তোরণদ্বার ও নাটমন্দিরও রয়েছে।

মায়ের নির্দেশ মতো মায়ের মূল কাঠামো বিল্ববৃক্ষকে অক্ষত রেখে মায়ের নবকলেবর হয়। ২০১১ সালে মায়ের পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছে। মূল মন্দিরের সামনে ছোট উদ্যান রয়েছে। এখানেই নাকি ক্ষুদিরামের জন্মস্থান বলে একাংশের মত। সেই কারণে এখানে ক্ষুদিরামের মূর্তি ও একটি ঘরের নমুনা তৈরি হয়েছে। এখান থেকে রিকশা ও অটো ধরে আবাসগড়ের দিকে যাওয়া যেতে পারে। যাওয়ার পথে দেখে নিতে হবে মিদনাপুর ব্যাপটিস্ট চার্চ যা ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত। এটি আমেরিকান ব্যাপটিস্ট মিশন সম্প্রদায় দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।

মূল শহর থেকে এক কিলোমিটার দূরে আবাসগড়। একসময় এখানে রাজবাড়ি, গড়, দিঘি মন্দির প্রভৃতি ছিল। রোজ পূজিত হতেন দশভুজা, জয়দুর্গা, রাধেশ্যাম, রাজরাজেশ্বরী প্রভৃতি বিগ্রহ। এই রাজার আশ্রমে থেকে কাশীরাম দাস মহাভারতের বাংলা অনুবাদ করেছিলেন। এখন সব ধ্বংসপ্রাপ্ত। তবুও বিশাল দিঘির পাড়ে ইতিহাসের পথে ঘুরে বেড়াতে ভাল লাগবে। এখান থেকে সুজাগঞ্জ যেতে রিকশা নেওয়াই ভাল। সুজাগঞ্জের ভীমতলা চাকে ১৮৫১ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত প্রায় ৭৩ ফুট উঁচু একটি জগন্নাথ মন্দির আছে।

মূল মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চারচালা রীতির জগমোহন, নাটমন্দির ও নহবতখানা। মন্দিরে অল্প টেরাকোটা ও পঙ্খের কাজ দেখা যায়। মন্দিরের কাঠের দরজায় দশাবতারের মূর্তি খোদাই করা আছে। বেশ বড়, অপূর্ব সুন্দর এখানকার বিগ্রহ। প্রতিদিন ভোগ পাওয়ার ব্যবস্থা আছে। আগে কুপন কাটতে হয়। প্রয়োজন হলে মন্দির থেকে ভোগ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। সুজাগঞ্জ থেকে একটু পায়ে পায়ে গেলেই নতুনবাজার এলাকা। এখানে রামকৃষ্ণ মঠ অবশ্যই দর্শনীয়।

১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে বিবেকানন্দর মন্ত্রশিষ্য শরত্‍চন্দ্র চক্রবর্তীর সাক্ষাত্‍ প্রেরণায় ও নাড়াজোল নিবাসী রাজা নরেন্দ্রলাল খানের মহত্‍ দানে মেদিনীপুর শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রম স্থাপিত হয়েছে। মন্দির, প্রশস্ত প্রাঙ্গণ, ফুলের বাগান সব নিয়ে বেশ স্নিগ্ধ এলাকা। ভোর ৪.৩০টা থেকে ১১.৩০ ও বিকেল ৪টা থেকে ৮টা পর্যন্ত আশ্রম খোলা থাকে। নতুনবাজার এলাকায় আরও রয়েছে একটি প্রাচীন পঞ্চরত্ন কালী মন্দির। প্রাঙ্গণ, জলাশয় নিয়ে দেবীর মন্দির। দেবী জাগ্রতা বলে কথিত। কাছেই রয়েছে নবগ্রহ মন্দির ও হজরত পির লোহানির এক-গম্বুজ মসজিদ।

এছাড়াও দেখা যায় জেলা পরিষদের প্রাচীন অফিস। ওখানেই শহিদ ক্ষুদিরাম পরিকল্পনাভবন, বিশ্রামভবন প্রভৃতি। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় মেদিনীপুর শহরের গর্ব, সেটাকেও একবার চাক্ষুস করা যেতে পারে এবং সামনের উইমেন্স কলেজও স্মৃতিবিজড়িত। রাজ্য সরকারের পর্যটন দপ্তরের রানি শিরোমণি ট্যুরিস্ট লজে যাওয়া যেতে পারে কোনও ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্যের জন্য।

এর সামনে থেকে একটু হাঁটলেই যাওয়া যাবে নরমপুরে বিদ্যাসাগর পার্কে। ২০০৮ সালে তৈরি হওয়া পার্কটি বেশ সুন্দর। সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রবেশমূল্য ১০ টাকা। শহরে মোড়ে মোড়ে কালী মন্দির ও শীতলা মন্দির। বটতলাচকের কালী মন্দিরের মতো জনপ্রিয় বেশ কিছু মন্দির রয়েছে।