মেষ রাশি

মেষ রাশি

রাশিচক্রের প্রথম রাশি মেষ রাশি। Mesh Rashi মেষ রাশিকে ইংরেজিতে Zodiac Aries বলা হয়ে থাকে।  অধিপতি গ্রহ মঙ্গল। যখন সবার চলার পথ অনেক কঠিন হয়ে যায় এবং চলা অসম্ভব হয়ে যায়, তখনও চলতে পারে মেষ রাশির জাতকরা। অন্যদের বুদ্ধি শেষ হয়ে গেলেও মেষ রাশির জাতকরা সেই সময়েও বুদ্ধি দিয়ে কাজ করতে পারে। এরা প্রাণবন্ত ও উদ্যমশীল। কিছুটা স্বেচ্ছাচারী।

কারও কারও ক্ষেত্রে মাঝে মধ্যে হঠকারীতা করতে দেখা যায়। স্বাধীনচেতা ও দায়িত্ব নিতে ভালোবাসেন। একটু অনুপ্রেরণা পেলে যেকোনো কাজ ভালোভাবে করে তাক লাগিয়ে দিতে পারেন। সহজাতভাবেই মহৎ ও দয়ালু। বন্ধুদের প্রতি বিশ্বস্ত। আদর্শবাদী। ভবিষ্যতের আগামজ্ঞান সহজেই বুঝতে পারে। বহুবিষয়ে এদের দিকনির্দেশনা অন্যরা অনুসরণ করে।

এদের মধ্যে রয়েছে তেজ ও বীরত্ব। মেষ রাশির জন্য শুভ রং-লাল, সাদা, গোলাপি ও লাল সাদা মেশানো। মেষ রাশির শুভ সংখ্যা ৯। মেষ রাশির জন্য শুভ ধাতু লোহা ও ইস্পাত। মেষ রাশির জাতকদের জন্য শুভ দিন মঙ্গলবার। মেষ রাশির জাতক জাতিকাদের জন্য শুভ সঙ্গী বা সঙ্গিনী হতে পারে ধনু ও সিংহ রাশি। মেষ নবজাতক এক শিশু, সম্পূর্ণভাবে যে তার নিজের চিন্তাতে মগ্ন। তার কাছে নিজের প্রয়োজনীয়তাই মুখ্য।

কোনো মেষ জাতকের মনে নতুন কোনো ভাব বা পরিকল্পনার উদয় হলে সে তাত্ক্ষণিক সেটা প্রকাশ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। মেষ রাশির জাতকদের দ্বিধা কম থাকে। এরা সরিসরি গোছের মানুষ জটিলতা, প্রতারণা, ঠকানো ইত্যাদি মেষ জাতকদের বিষয় নয়। শারীরিক অবকাঠামোটা স্থির, প্রায়শই তীক্ষ। মেষ জাতকেরা এটা-ওটা অনেক কিছুকেই বিশ্বাস্য করে তুলতে পারে, তারা সুন্দর অনেক স্বপ্নের জালও কারও মধ্যে জন্ম দিতে সক্ষম, কিন্তু তারা শিশুসুলভ মিথ্যা আশ্বাসটি দিতে অক্ষম।

অনেক সময় দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে অনেক অপকর্ম করে বসে তখন। একরাশ হতাশা ওই সময় এমনভাবে তাকে গ্রাস করে যে, পরাজয়ের ভয়ে জীবনের বাকি কাজগুলো করার ইচ্ছা আর থাকে না। রাশি চক্রের প্রথম রাশি মেষ। এই রাশির অধিকর্তা গ্রহ মঙ্গল। এই রাশির ব্যক্তি ছোটবেলা থেকেই তেজস্বী, স্পষ্টবক্তা ও নির্ভীক প্রকৃতির হয়ে থাকে।

নানা রকম রোমাঞ্চকর কাজ, সাহসিকতার কাজ করতে পারলে খুব আনন্দিত হয়। গুরুজন ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিদের প্রতি ভক্তিযুক্ত। কাজ বা কথার সমালোচনা সহ্য করতে পারে না। পরিশ্রমি তবে কায়িক শ্রমের চেয়ে মস্তিষ্কের শ্রমেই বেশি সফল। এরা খুব তোষামোদ প্রিয় ও বন্ধুবৎসল। তবে সকলের সঙ্গে সমান ভাবে মিশতে পারে না।

আবেগ প্রকাশ বা নিজেকে বড় করে দেখবার চেষ্টা এদের খুব বেশি। এরা সব বিষয়ে বড় হতে ও নেতৃত্ব করতে হয়। নিজের ক্ষমতায় না হলে পেছনের পথ দিয়ে এগোতেও কুণ্ঠিত হয় না। এদের মতে উন্নতিই আসল, সেখানে পৌঁছনোর পন্থাতা গৌণ। এদের উদ্ভাবনী শক্তি প্রবল। সহজে কথার খেলাপ করে না। নিজের ক্ষতি করেও কথা রাখতে চেষ্টা করে। মন চঞ্চল ও মাঝে মাঝে উগ্র প্রকৃতির হয়ে ওঠে।