মোহন ভাগবতের সঙ্গে মিঠুন চক্রবর্তীর সাক্ষাত, এবার কি ‘মহাগুরু’ বিজেপিতে

মোহন ভাগবতের সঙ্গে মিঠুন চক্রবর্তীর সাক্ষাত, এবার কি ‘মহাগুরু’ বিজেপিতে

 সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবতের সঙ্গে মিঠুন চক্রবর্তীর সাক্ষাতের পর এমনই জল্পনা মাথাচাড়া দিচ্ছে। মিঠুন যদিও তেমন কোনও সম্ভাবনার কথা খোলসা করেননি। তবে জানিয়েছেন যে, ভাগবতের সঙ্গে তাঁর ‘আধ্যাত্মিক যোগ’ রয়েছে।সোমবার রাতে মুম্বইয়ের মাড আইল্যান্ডে মিঠুনের বাংলোয় হাজির হন ভাগবত। বেশ কিছুক্ষণ কথাও হয় তাঁদের মধ্যে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর যোগাযোগ করলে মিঠুন বলেন, ‘‘মোহন ভাগবতের সঙ্গে একটা আধ্যাত্মিক যোগ রয়েছে আমার।

লখনউতে ওঁর সঙ্গে একবার দেখা হয়েছিল। তখনই ওঁকে বলেছিলাম, কখনও মুম্বই এলে বাড়িতে আসার জন্য। সেই আমন্ত্রণ রক্ষা করতেই উনি এসেছিলেন।’’  কিন্তু সামনে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। তার অব্যবহিত আগে মিঠুন-মোহন যোগাযোগ নিয়ে জল্পনা তো হবেই। বিশেষত, মিঠুন যখন একদা তৃণমূলের কাছের লোক ছিলেন। বস্তুত, মিঠুন একটা সময়ে তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদও ছিলেন।

নিছক সৌজন্য রক্ষার্থেই ভাগবতের এই আগমন নাকি এর পিছনে রয়েছে ‘রাজনৈতিক সংযোগ’? এই প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি মিঠুন। বলেছেন, ‘‘দয়া করে কোনও জল্পনা তৈরি করবেন না। এখনও পর্যন্ত সে রকম কিছু ঘটেনি।’’ অর্থাৎ, মিঠুনের দাবি, তাঁর সঙ্গে বিজেপি-র কোনও ‘রাজনৈতিক সংযোগ’ ঘটেনি। এখনও পর্যন্ত। এই ‘এখনও পর্যন্ত’ শব্দবন্ধেই আবার জল্পনা বাড়ছে।

অর্থাৎ, এখনও পর্যন্ত তেমনকিছু হয়নি। তা হলে কি ভবিষ্যতে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে? ভবিষ্যতে যে তেমনকিছু ঘটনার সম্ভাবনা নেই, তেমনও তো বলেননি ‘মহাগুরু’। তবে মিঠুন রাজনীতিতে ‘বীতশ্রদ্ধ’ বলেই তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর। তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ থাকাকালীনই তাঁর নাম জড়িয়েছিল সারদা কেলেঙ্কারিতে। সে সব ঝেড়ে মুছে ফেলতে মিঠুন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে চিঠি লিখে টাকা ফেরত দিয়েছিলেন।

যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সবিনয়ে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর দেওয়া রাজ্যসভার সাংসদপদটি। কিন্তু একেবারে সাম্প্রতিক জল্পনা হল এই যে, কলকাতায় একটি টেলিভিশন রিয়েলিটি শো করতে এসে মিঠুন তাঁর ঘনিষ্ঠদের জানিয়েছেন, বিজেপি তাঁকে বাংলার বিধানসভা ভোটে প্রচারে নামার প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি অবশ্য কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। ভাগবত-সাক্ষাতের সঙ্গে তার কোনও যোগ অচিরাৎ প্রমাণিত হবে কি না, তা নিয়েও কৌতূহল দেখা দিয়েছে।