অ-মুসলিম সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্বের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মুসলিম লিগ

অ-মুসলিম সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্বের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মুসলিম লিগ

 করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে গত বছর থেকে দফায় দফায় লকডাউন বহাল হওয়ায় সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)-বিরোধী প্রতিবাদ বিক্ষোভ দেখা যাচ্ছে না। কেননা লকডাউন পর্বে যে কোনও রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, জমায়েতই নিষিদ্ধ। তার মধ্যেই গত ২৮ মে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানায়, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান থেকে এদেশে আসা অ-মুসলিম সংখ্যালঘুরা থেকে ভারতের নাগরিকত্বের আবেদন জানাতে পারেন।

কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই দেশগুলি থেকে আসা যে উদ্বাস্তুরা হরিয়ানা, পঞ্জাব, গুজরাত, রাজস্থান ও ছত্তিশগড়ের ১৩টি জেলায় বসবাস করেন, তাঁরা নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারেন। কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিকে মঙ্গলবার চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দিল ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন অব মুসলিম লিগ। পিটিশনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার ১৩টি জেলার কালেক্টরদের হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ পার্সি, জৈন ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব প্রদানের যে অনুমতি দিয়েছে, তা বেআইনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের আদেশে ১৩ টি জেলা প্রশাসনকে নাগরিকত্বের আবেদন মঞ্জুর করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

যাঁরা গুজরাতের মোরবি, রাজকোট, পাটান, ভদোদরায়, ছত্তিশগড়ের দুর্গ, বলোদাবাজার,রাজস্থানের ঝালোর, উদয়পুর, বারমের, সিরোহীতে হরিয়ানার ফরিদাবাদ, পঞ্জাবের জলন্ধরে বসবাস করছেন, তাঁরা ভারতের নাগরিকত্ব চাইতে পারবেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯৫৫ সালের (১৯৫৫-র ৫৭) নাগরিকত্ব আইনের ১৬ অনুচ্ছেদে ন্যস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে কেন্দ্রীয় সরকার নির্দেশ দিচ্ছে, সেকশন ৫ এর আওতায় ভারতের নাগরিক হিসাবে নথিভুক্তি বা ৬ নম্বর সেকশনের আওতায় আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশের হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সিদের স্বাভাবিক নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট দিতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের সিএএ আইনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় সে বছরের ১২ ডিসেম্বর, তা কার্যকর হয় ২০২০র ১০ জানুয়ারি। কিন্তু আইনের আওতায় যাবতীয় নিয়মকানুন এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তাছাডা, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টেও ঝুলে আছে। ২০১৬য় ১৬টি জেলার কালেক্টরদের ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের ৫ ও ৬ অনুচ্ছেদে ভারতের নাগরিকত্বের আবেজন গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়। সর্বশেষ সরকারি আদেশবলে মোট ২৯ জেলার হাতে পড়শি দেশ থেকে আসা অ-মুসলিম উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব প্রদানের ক্ষমতা থাকছে।

বিলটি রাজ্যসভায় ২০১৯ এর ১১ ডিসেম্বর পেশ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তানে ধর্মীয় কারণে নির্যাতনের জেরে যে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি, খ্রিস্টানরা ভারতে চলে এসেছেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল, ২০১৯ তাদের নতুন করে বাঁচার আশা দেখাবে। বিলটি ভারতে বসবাসকারী কোনও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর বিরোধী নয়, প্রতিটি ভারতীয় নাগরিক সমান সুরক্ষিত থাকবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি। ২০১৯ এর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে প্রথম সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছিল মুসলিম লিগ। বলেছিল, নাগরিকত্ব আইনের ধারায় ধর্মের ভিত্তিতে আবেদনকারীদের বাছবিচার করার জায়গা নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের আদেশ সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।