বাংলাদেশে বিপ্লবী বাঘা যতীনের মূর্তি ভাঙল মুসলমান মৌলবাদীরা

বাংলাদেশে বিপ্লবী বাঘা যতীনের মূর্তি ভাঙল মুসলমান মৌলবাদীরা

বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা কুষ্টিয়ায় এবারে ভাঙচুর করা হলো ভারতে ব্রিটিশ শাসনবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামের বাঙ্গালি বিপ্লবী বাঘা যতীনের মূর্তি। কিছুদিন আগে বাংলাদেশে (Bangladesh) কট্টরপন্থীদের দ্বারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের নির্মাণাধীন মূর্তি ভাঙা হয়েছিল।

সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বিপ্লবী বাঘাযতীনের (Bagha Jatin) মূর্তি ভাঙার ঘটনা সামনে এলো বাংলাদেশ থেকে। বাংলাদেশে ভাস্কর্যকেন্দ্রীক চলমান উত্তেজনার সূচনা হয়েছিলো ঢাকায় ধোলাইপাড়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যের বিরোধিতা করে ইসলামপন্থী কয়েকটি সংগঠনের সমাবেশ এবং ওই ভাস্কর্য ছুড়ে ফেলে দেয়ার হুমকির পর।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নামে একটি সংগঠনের নেতা মামুনুল হকের বক্তব্য দেবার  পরে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এক অনুষ্ঠান থেকে হেফাজত ইসলামের নেতা জুনায়েদ বাবুনগরীও ভাস্কর্যের বিরোধিতা করে বক্তব্য দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাকর হয়ে ওঠে। এর পরপরই কুষ্টিয়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে একটি মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। ধোলাইপাড় চত্বরে ভাস্কর্য তৈরির বিপক্ষে ইসলামপন্থী দলগুলো ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকবার বিক্ষোভ করেছে শেখ মুজিবের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করে।

এর মধ্যেই কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে কয়া কলেজের গেটে থাকা বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলো। পুলিশ বলছে, কলেজের গেটের পাশে আবক্ষ ভাস্কর্যটি ছিলো এবং মধ্যরাতে সেটি মুখের এক পাশে ও নাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে ক্ষত তৈরি করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

সকালে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। চার বছর আগে কয়া মহাবিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাঘাযতীনের আবক্ষ মূর্তি। স্বাধীনতা সংগ্রামীর স্মরণেই এই মূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছিল সেখানে।ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম বাঘা যতীনের জন্ম ১৮৭৯ সালে কুমারখালীর কয়া গ্রামে। ভারতবর্ষে ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।