নাসার বিজ্ঞানীরা মহাশূন্যে মুলোচাষ করলেন

নাসার বিজ্ঞানীরা মহাশূন্যে মুলোচাষ করলেন

আজবাংলা   হঠাৎ করে যদি পৃথিবীতে কোন বিপর্যয় চলে আসে? তখন কি হবে? সেইকারনে, পৃথিবী থেকে চাঁদ ও মঙ্গলে জনবসতি নিয়ে যাওয়ার লক্ষে পৌঁছানোর জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন বিজ্ঞানীরা। সেখানে তারা যেন প্রয়োজনীয় ভিটামিন, প্রোটিন, জল ইত্যাদি পান সেইজন্য প্রতিদিন পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে।

খাবার পেতে গেলে চাষআবাদের প্রয়োজন হয়। ঠিক সেইকারনে, বিজ্ঞানীরাও করে ফেললেন চাষ। কৃত্রিম উপগ্রহের মধ্যে মুলো চাষ করে সফল  আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ‘ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন’ (আইএসএস) নামের কৃত্রিম উপগ্রহে চাষ করা হয়েছে মুলো।

আইএসএস-এর কলম্বাস ল্যাবরেটরি মডিউলের প্লান্ট হ্যাবিটাট-২-তে বীজ থেকে গাছ গজিয়ে ওঠার ছবি প্রকাশ করেছে নাসা। তাতে চৌকো একটি চৌকো আকারের একটি বাক্সে নানা ধরনের তারের মাঝখানে ২০টি সবুজ পাতা সম্বলিত চারাগাছ দেখা গিয়েছে। আর কিছুদিন পরেই মাটি খুঁড়ে মূলা তোলা হবে। এরপর পরীক্ষার জন্য তার নমুনা পাঠানো হবে পৃথিবীতে।

এরপর সাধারন মানুষের প্রশ্ন জেগেছে, এতকিছু থাকতে মূলাচাষই কেন? এই প্রসঙ্গে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মূলাচাষ করতে খুব বেশি সময় লাগে না। মূলা কাঁচাই চিবিয়ে খাওয়া যায়। আবার এর পুষ্টিগুণও বেশি। তাই মহাশূন্যে মূলাচাষের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে, মহাকাশে মূলাচাষ মোটেই সহজসাধ্য কাজ ছিল না বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

মাধ্যাকর্ষণ শক্তি না থাকায় শিকড় মাটিতে প্রবেশ করার উপায় ছিল না। তাই প্রথমে মাটির “বালিশ” তৈরি করে তাতে বীজ পুঁতে দেওয়া হয়। তা থেকে চারা বেড়ে ওঠে। এই পদ্ধতিতে সমস্ত গাছ সমান জল ও সারও পায়। দেখা গিয়েছে, নীল ও লাল আলোতেই গাছ সবচেয়ে ভাল সাড়া দেয়। সেইমত ওই বাক্সের মধ্যে এলইডি আলোর ব্যবস্থা রয়েছে। ১৮০-র বেশি সেন্সর বসানো রয়েছে।