মাধ্যমিক পরীক্ষায় এক অন্য বিপ্লবের জন্ম দিল নদীয়ার রানিমা খাতুন

মাধ্যমিক পরীক্ষায় এক অন্য বিপ্লবের জন্ম দিল নদীয়ার রানিমা খাতুন

মুরুটিয়া   আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২২: প্রতি বছর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়। দিনটি পালনের উদ্দেশ্য নারী অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া। আজ নারী স্থল-জল-আকাশে সমান পারদর্শী। তাঁকে দমাবে এমন শক্তি নেই। তাই আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আগে মাধ্যমিক পরীক্ষায় এক অন্য বিপ্লবের জন্ম দিল নদীয়া জেলার মুরুটিয়ার রানিমা খাতুন। 

বাবার বাড়ীর তীব্র ইচ্ছা কে অগ্রাহ্য করে নিজের বিয়েটা আটকাতে পারেনি কোনমতেই, সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া মেয়েটি "বিয়ে" শব্দের মানেটা ও সেদিন ঠিকঠাক বোঝোনি হয়তো ।" পিঠে ব্যাগ" আর হাতে "কলম" সেই স্বপ্ন ভুলে পিঠে সংসারের বোঝা আর হাতে রান্নার খুন্তি তুলে নিতে বাধ্য হয়েছিল মুরুটিয়া রানিমা খাতুন , বয়স 16 বছর স্বামী সাহারুল শেখ, ।

এই মেয়েটি মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে ওর স্বামী অর্থাৎ মেয়ের বাবার বাড়িতে আটকে রেখেছিল।শত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও স্বামী-সংসার সামলে পড়াশোনা করার তীব্র ইচ্ছেটা মনের মধ্যে দিয়ে জিইয়ে রেখেছিল । লকডাউন পরিস্থিতি খানিকটা সুবিধায় করে দিয়েছিল রানিমাকে, যেতে হয় নি স্কুলে, শ্বশুরবাড়ির লোক সেভাবে টেরও পায়নি যে মেয়েটি এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ।

আজ মাধ্যমিকের প্রথম পরীক্ষা স্কুল ইউনিফর্ম পড়ে যখন সে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে যাওয়ার জন্য বাড়িতে জানাই- স্বামী, শ্বশুর বাড়ির আপত্তির সাথে সাথে শুরু হয় পাড়ার" নীতি পুলিশের" দাদাগিরি । ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাই একরত্তি মেয়ে, কি করবে বুঝে উঠতে পারছিল না । বুদ্ধি করে লুকিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজ করে মুরুটিয়া থানার ওসি এবং জেলা পরিষদ সদস্য টিনা ভৌমিক সাহাকে ।

অভিযোগ পেয়ে দুইজনই যৌথ তৎপরতা শুরু করে । স্কুল পরিদর্শক ,সেন্টার ইনচার্জ ,প্রধান শিক্ষক প্রত্যেককে বিষয়টি জানানো হয় । শেষমেষ মুরুটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী মেয়েটিকে উদ্ধার করে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করে, পৌঁছে দেয়া হয় তার পরীক্ষার সেন্টার "গুয়াবাড়ী হাইস্কুলে" । ফলাফল কি হবে সে জানান দেবে মার্কশিট, কিন্তু যে লড়াই সে বিয়ের সময় জিততে পারেনি মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার জেদ আর তীব্র ইচ্ছা এক অন্য বিপ্লবের জন্ম দিল এলাকায় । 16 বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা রানিমা আজকের দিনে স্টার মার্কস ।