দুর্নীতির আখড়া হয়ে উঠেছে নদীয়ার তৃণমূল পরিচালিত বিলকুমারী পঞ্চায়েত

দুর্নীতির আখড়া হয়ে উঠেছে নদীয়ার তৃণমূল পরিচালিত বিলকুমারী পঞ্চায়েত

বেমালুম পাট চাষ হচ্ছে সেই জমিতে পুকুর কাটানো হয়েছে বলে 100 দিনের কাজের মাস্টার রোল তৈরি হয়ে গেছে নদীয়ার নাকাশিপাড়া ব্লকের বিলকুমারী পঞ্চায়েতে। শুধু এখানেই শেষ নয় তৃণমূলের প্রধান অর্পিতা বর্মনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার স্বামী শাশুড়ি এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের 100 দিনের কর্মী তালিকায় নাম লিপিবদ্ধ করা আছে এমনকি তাদের জব কার্ড পর্যন্ত রয়েছে।

এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি জায়গায় নয় কালিবাস উত্তর বহিরগাছির একাধিক এলাকায় এভাবেই মাস্টার রোল তৈরি হয়ে টাকা তুলে নেওয়া হয় গেছে অথচ কাজে হাত দেওয়া হয়নি একদিনও। ওই পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্য কাকলি মণ্ডল বাকি পাঁচ সদস্য কে সাথে নিয়ে সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক আছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

তার দাবি শুধু বিজেপি সদস্যরাই নয়, তৃণমূলের ও বেশকিছু পঞ্চায়েত সদস্য তার সাথে এ বিষয়ে একমত, তবে শাসকদল হওয়ার কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। কাকুলি দেবী আরো বলেন, সরকারি গৃহ আবাস যোজনায় এলাকার প্রকৃত প্রান্ত্রিকদের বঞ্চিত রেখে অর্থের বিনিময়ে দলীয় কর্মী সমর্থক এমনকি তার পরিবারের লোকজনকে পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিগত 2018 সাল থেকে এই ধরনের কার্যকলাপে কখনো তাদের ভুল বুঝিয়ে সই করিয়ে নেওয়া হয় কখনও বা তাদের সই নকল করেই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বাক্ষর করে দেওয়া হয়। আমরা এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম প্রধান অর্পিতা বর্মনের সাথে, তিনি বলেন যা বলার পঞ্চায়েতে গিয়েই বলব। অথচ একাধিকবার পঞ্চায়েতে যোগাযোগ করা সত্বেও তাকে পাওয়া যায়নি, স্থানীয়রাও জানান তাকে মাঝে মধ্যে পঞ্চায়েতে দেখা যায়।

প্রতিক্রিয়া জানতে আমরা পৌঁছেছিলাম  তৃণমূলের বুথ সভাপতি গুরুপদ সরকারের কাছে, তিনি জানান দল করতে গেলে এ ধরনের ঘটনা একটু-আধটু হয়েই থাকে। যারা টাকার ভাগ পাইনি তারাই এই অভিযোগ করছে। এর পরেই প্রমাণ লোপাটের জন্য তড়িঘড়ি প্রধানের স্বামী, সরকারি কর্মচারী এবং অপর এক পর্যায়ে পঞ্চায়েত সদস্য এবং এক ঠিকাদার 25 শে বৈশাখ ছুটির দিনেও মাঝরাতে পঞ্চায়েতে কাগজপত্র কাজ চলছে জোর কদমে।

ওই এলাকারই নির্ভীক সাহসী প্রতিবাদী ব্যক্তি তা ক্যামেরাবন্দী করেন । ধরা পরল আরো ভয়ঙ্কর চিত্র। প্রধানের চেয়ারে বসেই চলছে মদ্যপান, লজ্জায় মুখ ঢাকছেন তারা।

মাঝ রাতে পঞ্চায়েত অফিসে চলছে 'মোচ্ছব'! স্বয়ং পঞ্চায়েত প্রধানের টেবিলে রাখা বিলিতি মদ ও মাংস। এই দৃশ্য দেখা গিয়েছে নাকাশিপাড়া বিলকুমারী গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে। কিছুদিন আগেই পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে ১০০ দিনের কাজ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। বিরোধীদের অভিযোগ, ফাইলপত্র ধামাচাপা দিতেই মধ্যরাত্রে এই কর্মকাণ্ড। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে।

যেখানে দেখা গিয়েছে, মাঝ রাতে পঞ্চায়েত অফিসে রয়েছেন স্থানীয় ঠিকাদার ও তাঁর বন্ধু। সঙ্গে রয়েছেন প্রধানের স্বামী প্রদ্যুৎ বর্মনও।  ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, পঞ্চায়েতে বসেছে জমিয়ে মদ মাংস, খাওয়া দাওয়ার আসর। পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী প্রদ্যুতের উপস্থিতি নিয়ে আরও তোলপাড় চলছে। এই ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, পঞ্চায়েত অফিসে উপস্থিত ওই সদস্যদের প্রশ্ন করা হয়, “আপনারা এখানে এত রাতে কী করছেন?” অনেকেই তাঁর এই প্রশ্নের কোনও জবাব দেননি।

একজন আবার বলেন, প্রধান নাকি আসতে বলেছেন। এই ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসতেই অভিযোগের আঙুল তুলতে শুরু করেছেন বিরোধীরা।ওই পঞ্চায়েতে বিজেপি সদস্যদের অভিযোগ যে সত্য ছিল তা প্রমাণ হচ্ছে ধীরে ধীরে। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন শাসকদল পরিচালিত পঞ্চায়েত হলেই কি সাতখুন মাফ?