সমাজের কল্যানের স্বার্থে ঈশ্বরের নাম করতে গিয়ে বাড়ি ছেড়ে গাছে আশ্রয় নদিয়ার বৃদ্ধের

সমাজের কল্যানের স্বার্থে ঈশ্বরের নাম করতে গিয়ে বাড়ি ছেড়ে গাছে আশ্রয় নদিয়ার বৃদ্ধের

মলয় দে    নবদ্বীপ :-   সমাজের কল্যানের জন্য বাড়ি ঘর ছেরে নদীর পাড়ে একটি গাছের উপর বাঁশের ঘর বানিয়ে আশ্রয় নিয়ে নাম সাধন করছেন শ্যামল দাস নামে এক বৃদ্ধ। নবদ্বীপ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রানীরচরা এলাকার বাসিন্দা শ্যামল দাস তিনি প্রায় ১৪ থেকে ১৫ বছর ধরে তাঁর নিজের ঘর বারি ছেরে ঐ এলাকায় গঙ্গার পারে একটি গাছে ঘর করে রয়েছেন।

তিনি বলেন সমাজের কল্যান সাধনের জন্য এবং বর্তমানে কোরোনার প্রকোপ থেকে মানুষকে যাতে ভগবান রক্ষা করেন সেই কারনে ভগবানের নাম গান করতে তিনি প্রথমে তাঁর বারি ছেরে নবদ্বীপ রানীর চরার গঙ্গার ঘাটের কাছে একটি ঘর করেন পরে বর্ষায় গঙ্গার জল বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘরে জল ঢোকে, পরে এলাকার লোকেরা সাহায্য করে তাঁকে বাঁশ এবং দড়ি যোগাড় করে দেন।

এরপর তিনি নিজেই কদম গাছের ডালে বাঁশ ,কাঠ দিয়ে একটি ঘর বানিয়ে ফেলেন। আর ওঠা নামার জন্য রয়েছে একটি বাঁশ দিয়ে করা মই ,তাই দিয়েই বুরো পায়ে হামাগুরি দিয়ে গাছের উপরে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করেন। বর্তমানে নবদ্বীপ রানীর চরার গঙ্গার তীরে সেই কদম গাছটিই তার ঠিকানা। সকাল বেলায় তিনি তাঁর ছোট্ট কুটির থেকে বেরিয়ে যান এলাকায় এলাকায় ভিক্ষা বৃত্তি করতে পরে সেখান থেকে ভিক্ষাবৃত্তি করে যা পান তাই দিয়ে সেই গাছের উপরে করা ঘরে রান্না করে তাঁর পুজ্য ভগবানকে পুজো দিয়ে সেই প্রসাদ বাইরে ভাগ করে দেন পশু, পাখিদের মধ্যে।

এমনকি পরিশুদ্ধ পানীয় জল এনে সেই জল মাটির হারিতে করে রেখে দেন পাখি এবং সারমেয়দের উদ্দেশ্যে। আর রীতিমতো সেখানে পাখিরা এসে সেই মাটির হারি থেকে জল পান করে। এভাবেই ঈশ্বরের নাম গান করেই কাটছে তাঁর প্রতিদিন। ওই বৃদ্ধ পেশায় কাঠমিস্ত্রি ছিলেন আগে, মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।