জন্মাষ্টমীর পরের দিনই পালিত হয় নন্দ উৎসব, নন্দ উৎসব কি জানুন 

জন্মাষ্টমীর পরের দিনই পালিত হয় নন্দ উৎসব, নন্দ উৎসব কি জানুন 

শ্রী কৃষ্ণের জন্ম তিথি উপলক্ষে প্রতিবছর ভাদ্রমাসে কৃষ্ণা অষ্টমী তিথিতে পালিত হয় জন্মাষ্টমী।  জন্মাষ্টমীর ঠিক পরের দিনই ভারতবাসী মেতে ওঠেন নন্দ উৎসবে। গোকুল রাজ নন্দ হলেন শ্রীকৃষ্ণের পালিত পিতা ।পুরাণ কাহিনী অনুযায়ী কৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল রাত্রে। নন্দ সেই  আনন্দ উৎসব উদযাপন করেছিলেন পরেরদিন সকালে। সেই খবর শুনে সমস্ত গোকুলবাসী সেদিন মেতে উঠেছিলেন আনন্দে। এই দিনটিকে কেন্দ্র করেই শুরু নন্দ উৎসব। কংসের হাত থেকে তাঁর প্রজাদের রক্ষা করতে মাতা দেবকীর কোলে বিষ্ণু অষ্টম অবতার রূপে জন্ম নেন ।

গভীর রাত্রে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম গ্রহণের পরে পিতা বাসুদেব গোকুলে নন্দের আলয়ে অচেতন মা যশোদার কাছে রেখে দেন কৃষ্ণকে। তার পরিবর্তে নন্দের কন্যা সন্তানকে নিয়ে আসেন দেবকীর কাছে। অপরদিকে সূর্যোদয়ের পরে নন্দ আনন্দে আপ্লুত হয়ে গোকুল বাসীর কাছে তাঁর পুত্র সন্তানের সংবাদ দেন।সেদিন  ছোট্ট কৃষ্ণকে নিয়ে গোকুলবাসি আনন্দে মেতে ওঠে এবং  সারাদিন নানান লোভনীয় সুস্বাদু খাবার তিনি বিতরণ করেছিলেন গোকুলে। শ্রীকৃষ্ণ গোকুলে বড় হন এবং পরবর্তীকালে কংসকে হত্যা করে  প্রজাদের রক্ষা করেন।এখন দেশের কিছু কিছু যায়গায় জন্মাষ্টমী ও নন্দউৎসব পালিত হয়।

শ্রী কৃষ্ণের এই জন্ম তিথি মথুরা, বৃন্দাবন, মণিপুর ইত্যাদি স্থানে এই উৎসবের সাথে করা হয়। দহি হান্ডি প্রথায় অনেক উঁচুতে মাখনের হাড়ি রাখা হয় এবং অনেক ছেলে মিলে মানুষের পিরামিড তৈরি করে সেই হাড়ি ভাঙ্গার চেষ্টা করে। নদীয়ায়  জন্মাষ্টমীর সাথে পালিত হত নন্দ উৎসব। এই উৎসবে প্রসাদের অন্যতম অংশ ছিল তালের বড়া।শিশুরা শ্রীকৃষ্ণের জীবনের নানান ঘটনা ছড়া আকারে বলে বা গান গেয়ে প্রত্যেক গৃহস্থের বাড়ি গিয়ে  সংগ্রহ করত তালের বড়া।এখনও জন্মাষ্টমীর পরের দিন নন্দউৎসব পালিত হয় দেশের বিভিন্ন জায়গায়।