সেন্ট জেভিয়ার্সের অধ্যাপক অঙ্কুর রায় ও স্ত্রীকে মারধরে অভিযুক্ত প্রতিবেশী মেহেদি হাসান

সেন্ট জেভিয়ার্সের অধ্যাপক অঙ্কুর রায়  ও স্ত্রীকে মারধরে অভিযুক্ত প্রতিবেশী মেহেদি হাসান

আবাসনের গ্যারাজে গাড়ির রাখা নিয়ে আগেকার বচসা। পূর্বের সেই শত্রুতার জেরে লোহার রড, বাঁশ দিয়ে অধ্যাপককে ব্যাপক মারধরের অভিযোগ। নিউটাউনের  এই ঘটনায় কাঠগড়ায় আরেক অধ্যাপকই।  লোহার রড দিয়ে অঙ্কুর, তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

নিউটাউন থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। যদিও ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামলেও রাত পর্যন্ত অভিযুক্ত অধ্যাপককে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলেই সূত্রের খবর।

আক্রান্ত প্রফেসর রায় ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার। সেদিন সন্ধ্যায় সেন্ট জেভিয়ার্সের কেমিস্ট্রি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড.অঙ্কুর রায় স্ত্রী, ছেলেমেয়েকে নিয়ে চিকিত্‍সাকেন্দ্র গিয়েছিলেন। সন্ধে ছ'টা নাগাদ বাড়ি ফেরেন। গাড়ি পার্ক করতে যান আবাসনের পিছনদিকে।

অঙ্কুর অভিযোগপত্রে জানিয়েছেন, গত ১৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা। নিজেদের গাড়ি পার্ক করে লিফটে ওঠার সময় আচমকাই তাঁদের উপর চড়াও হয় ৪-৫ জন দুষ্কৃতী।

তাঁদের মধ্যে ছিলেন গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেহেদী হোসেনের দুই ভাই। প্রথমে অঙ্কুরের স্ত্রী সাবিনা খাতুনকে মারধর করা হয় লোহার রড দিয়ে। তাঁকে বাঁচাতে গেলে অঙ্কুরকেও মারধর করে দুষ্কৃতীরা। বাদ যায়নি তাঁদের ১৪ বছরের ছেলেও।

 'যাঁর বিরুদ্ধে এহেন গর্হিত কাজের অভিযোগ উঠেছে, তিনি নিজেও অধ্যাপক। গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় সহ অধ্যাপক মেহেদি হাসান।যদিও ডক্টর রায়ের পরিবারের উপর হামলার কথা তিনি অস্বীকার করে পালটা অভিযোগ জানিয়েছেন যে তাঁর দুই ভাইই প্রথমে হামলার মুখে পড়েন।

নিউটাউনের এই আবাসনের পাশাপাশি কাজের সূত্রে প্রফেসর হাসান বেশিরভাগ সময় থাকেন মুর্শিদাবাদে।তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার পর তিনি জানিয়েছেন, 'হামলার অভিযোগ ঠিক নয়। আমার দুই ভাই মাসুদ এবং এবং মোরশেদ আলম ওই আবাসনে ছিল।

মঙ্গলবার আগে তাঁদেরই উপর হামলা চালান প্রফেসর রায় ও তাঁর পরিবার।' যার জেরে হাসানের এক ভাইকে হাসপাতালে ভরতি হতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সেন্ট জেভিয়ার্সের বিভাগীয় প্রধানকে এভাবে মারধরের ঘটনায় সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের অধ্যাপকদের একাংশ ক্ষুব্ধ। সঠিক তদন্ত এবং দোষ প্রমাণিত হলে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।