বিরল মাশরুমের খোঁজ মিলল গোয়ায়, অন্ধকারে জ্বলছে আলো

বিরল মাশরুমের খোঁজ মিলল গোয়ায়, অন্ধকারে জ্বলছে আলো

আজবাংলা   প্রায় অনেক বছর ধরেই মানুষের খাবারের তালিকায় স্থান পেয়েছে মাশরুম। এটি রীতিমত জনপ্রিয় পদ এখন। ছোট থেকে বড় সকলেই খেতে ভালোবাসে। বিশেষ করে যারা একেবারেই নিরামিষ ভোজী তাঁদের কাছে এটি খুবই প্রিয়। এখন প্রায় পদেই মাসরুমের ব্যবহার হয়ে থাকে। মাশরুমের জনপ্রিয়তার সাথে সাথে বেড়ে গিয়েছে কৃত্রিমভাবে মাশরুম চাষের প্রথাও।

এখন বিভিন্ন প্রজাতির মাশরুম পাওয়া যায় বনে বাদাড়ে। তবে মাথায় রাখতে হবে সমস্ত রকমের মাশরুম খাওয়ার জন্য নয়। অনেক প্রজাতির মাশরুমের মধ্যেই থাকে একধরনের বিষাক্ত পদার্থ। যা খেলে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। সম্প্রতি নতুন একধরনের মাশরুমের খোঁজ পাওয়া গেছে। যেটিকে রাতের অন্ধকারে দেখলে জোনাকির কথা মনে পড়ে যায়।

আসলে এই নতুন প্রজাতির মাশরুম রাতের অন্ধকারে আলো ছড়াচ্ছে। অবাক বা বিশ্বাস না হলেও ঘটনাটি একেবারে সত্যি। এটি আমাদের দেশেই এমন অদ্ভুত ধরনের নতুন প্রজাতির মাশরুমের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। এটি দেখতে পাওয়া গিয়েছে, গোয়ার পানাজি থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত মহাদেই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ (Mhadei Wildlife Sanctuary) এলাকায়। এই নতুন ধরনের মাশরুমের নাম দেওয়া হয়েছে বায়ো-লুমিনিসেন্ট মাশরুম (Bio-luminescent mushrooms)।

পাহাড়ের উপর ফুটে উঠেছে ওই বিশেষ মাশরুমগুলি। কিন্তু সেইগুলি দিনের বেলা সাধারণ মাশরুমের মতোই দেখতে লাগছে। কিন্তু রাত হলেই তা থেকে অদ্ভুত আলো বের হচ্ছে। নীলচে সবুজ অথবা বেগুনি রঙের আলো দেখতে পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, আশেপাশের পুরো এলাকা আলোকিত করে দিচ্ছে ওই মাশরুমগুলি। এইধরনের মাশরুমগুলি সাধারণত বর্ষাকালেই দেখা যায়। জুলাই থেকে অক্টোবর মাসে।

বৈজ্ঞানিকরা মনে করছেন, এটি মাইসেনা প্রজাতির মাশরুমেরই (Mycena mushrooms) একটি প্রকার। রাতের অন্ধকারে নিজেদের বিষাক্ত প্রাণীদের থেকে দূরে রাখতেই এভাবে বায়ো-লুমিনিসেন্ট মাশরুমগুলি থেকে আলো নির্গত হয়। এবার ওই মাশরুমগুলি বিষাক্ত কিনা, তা নিয়ে গবেষণা জোরকদমে চলছে। এর পাশাপাশি রাতের অন্ধকারে এর মধ্যে থেকে কীভাবে আলো বের হচ্ছে, সেইটিও দেখছেন গবেষকরা।