জীবিত বৃদ্ধার ভুয়ো মৃত্যুর শংসাপত্র ঘিরে শোরগোল পশ্চিম মেদিনীপুরে

জীবিত বৃদ্ধার ভুয়ো মৃত্যুর শংসাপত্র ঘিরে শোরগোল পশ্চিম মেদিনীপুরে

 Panchayet-এর খাতায় মৃত বৃদ্ধা দিব্যি বেঁচে রয়েছেন! জীবিত থাকা সত্ত্বেও পঞ্চায়েত অফিস থেকে বেরিয়ে গেল বৃদ্ধার ভুয়ো মৃত্যু শংসাপত্র। সম্পত্তি হাতানোর জন্যই এক ব্যক্তি বৃদ্ধার ভুয়ো মৃত্যু শংসাপত্র বের করেছে বলে অভিযোগ। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোণা থানার আমশোল গ্রাম পঞ্চায়েতের এই ঘটনায় পঞ্চায়েতের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

গোটা ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে চন্দ্রকোণা থানার পুলিশ।  পুলিশ জানায়, চন্দ্রকোণার ধরমপুরের ৭৪ বছর বয়সি অন্নপূর্ণা পাঁজার ভুয়ো মৃত্যু শংসাপত্র বের করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে গড়বেতা থানার ফতেগড় গ্রামের বাসিন্দা সুদর্শন মল্লিকের বিরুদ্ধে। সম্পত্তি হাতানোর জন্যই সুদর্শন মল্লিক এই কাজ করেছেন বলে অভিযোগ অন্নপূর্ণা পাঁজার ছেলেদের। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে চন্দ্রকোণা থানার পুলিশ।  স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সত্তোরোর্ধ্ব বৃদ্ধা অন্নপূর্ণা পাঁজার বাপেরবাড়ি গড়বেতা থানার ফতেগড় গ্রামে।

শ্বশুরবাড়ি চন্দ্রকোনার ধরমপুরে। সেখানে স্বামী ও তিন ছেলের সংসারে বহাল তবিয়তে রয়েছেন অন্নপূর্ণাদেবী। তাঁর ছেলেদের দাবি, গড়বেতার ফতেগড় গ্রামে তাঁর দাদুর (অন্নপূর্ণার বাবা) রেখে যাওয়া কিছু সম্পত্তি জমি-জায়গা রয়েছে। দাদুর দুই মেয়ে। তাঁদের একজন মারা গিয়েছেন এবং আরেক মেয়ে, অন্নপূর্ণা পাঁজা তথা তাঁদের মা জীবিত রয়েছেন। দাদুর কোনও ছেলে না থাকায় বর্তমানে তাঁদের মা অন্নপূর্ণা পাঁজা-ই বাপেরবাড়ির সম্পত্তির উত্তরাধিকারী বলে দাবি বৃদ্ধা অন্নপূর্ণাদেবীর ছেলেদের।

তাঁদের অভিযোগ, মায়ের বাপেরবাড়ির পড়ে থাকা সম্পত্তি হাতানোর জন্য ফতেগড় গ্রামের বাসিন্দা সুদর্শন মল্লিক নামে এক ব্যক্তি ভুয়ো মৃত্যু শংসাপত্র বের করে প্রতারণার চেষ্টা করছেন। সুদর্শন মল্লিক গড়বেতার আমশোল গ্রাম পঞ্চায়েত থেকেই অন্নপূর্ণা পাঁজার নামে মৃত্যু শংসাপত্র ও অন্যান্য সরকারি দফতর থেকে আরও নানান ভুয়ো শংসাপত্র বের করে তাঁর সম্পত্তি হাতানোর চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ।

 প্রথমদিকে ঘটনাটি কেউই জানতে পারেননি। কিছুদিন আগে সুদর্শন মল্লিক অন্নপূর্ণাদেবীর বাপেরবাড়ির জমি-জায়গা নিজের নামে করার জন্য গড়বেতা ৩ নম্বর ব্লকের বিএলআরও দফতরে জমির রেকর্ডের জন্য আবেদন করেন। তখন দফতর থেকে তদন্ত করতে এলেই সুদর্শন মল্লিকের প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অভিযুক্ত সুদর্শন মল্লিক ঘটনার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন।

তিনি বলেন, অন্নপূর্ণা পাঁজা সম্পর্কে আমার পিসি। তাঁর বাপেরবাড়ির পড়ে থাকা একটি জমি আগে নিজেরা চাষ করতেন। পরে টাকা নিয়ে জমিটি আমাকে ছেড়ে দেয়। সেই জমির কাগজ না থাকায় আবেদন করি। কিন্তু দফতর থেকে মঞ্জুর করেনি।” সেজন্যই অন্নপূর্ণাদেবীর ভুয়ো মৃত্যু শংসাপত্র বের করেছেন সুদর্শন মল্লিক।

তবে গোটা ঘটনায় পঞ্চায়েতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বৃদ্ধার ছেলেরা। আমশোল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান উমা রানি মাল ভুল স্বীকার করে বলেন, "জন্ম, মৃত্যুর সার্টিফিকেট আমরা দিতে চাই না। কিন্তু পঞ্চায়েত সদস্যরা চাপ দেয়। সেক্ষেত্রে পঞ্চায়েত সদস্যদের কথায় কিছু ক্ষেত্রে দিতে হয়। এক্ষেত্রে যদি ভুল হয়ে থাকে তাহলে গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে আলোচনা করে খতিয়ে দেখতে হবে।" এখন সুবিচারের আশায় বৃদ্ধার পরিবার।